Published : 07 Sep 2022, 06:41 PM
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স তলানিতে। তবে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদের স্বপ্ন আকাশছোঁয়া। তিনি নিশ্চিত, এই সংস্করণে বাংলাদেশের উন্নতি হবেই। এমনকি বিশ্বজয়ের বিশ্বাসও আছে তার। তবে সেজন্য সময় দিতে বললেন বিসিবির এই পরিচালক।
নানা সময়ে বিভিন্ন ভূমিকায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কাজ করা সাবেক এই ক্রিকেটার গত প্রায় ১০ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন টিম ডিরেক্টরের। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের চরম ব্যর্থতার পর এই দায়িত্ব পান তিনি। তবে এই সময়েও দলের ভাগ্য বদলায়নি।
গত বিশ্বকাপের পর থেকে ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় স্রেফ ২টি। চলতি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হয়ে গেছে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচ খেলেই।
এই এশিয়া কাপ থেকেই বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি কোচিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে শ্রীধরন শ্রীরামকে দিয়ে। সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার কাজ শুরু করেছেন টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে।
নতুন চ্যালেঞ্জে তার শুরুটাও ভালো হয়নি। তবে মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খালেদ মাহমুদ বললেন, শুরুর কিছুদিনে কাজ দেখে শ্রীরামকে তার মনে ধরেছে।
“শ্রী-এর ব্যাপারে এখনই মন্তব্য করা একটু দ্রুত হয়ে যায়। তার পরও বলতে পারি, আমি খুবই খুশি, এশিয়া কাপে সে যেভাবে কাজ করেছে। ওর যেটা ক্রিকেটের দর্শন, যেভাবে চিন্তা করে ও ছেলেদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চায়, আমি পছন্দ করেছি।”
আপাতত শ্রীরামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এত দ্রুত দলকে তলানি থেকে টেনে তোলা সহজ নয়, মানছেন খালেদ মাহমুদ। তবে শ্রীরামের কোচিংয়ে দলের মানসিকতার পরিবর্তন দেখতে চান তিনি।
“খুব সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও কতটুকু আমরা মাঠে প্রয়োগ করতে পারি… সহজ হবে না কাজটি। খুবই চ্যালেঞ্জিং। কারণ এই সংস্করণে দল হিসেবে আমরা অনেক নিচে এখন। এর নিচে আর যাওয়ার জায়গা নেই। এখান থেকে একটাই পথ আছে, আমরা যত তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে পারি। অবশ্যই আমরা ওপরে উঠব, শক্তিশালী একটা দল হব এই সংস্করণেও। তবে সময় নেবে সেটা, আমাদের সবাইকে সেটার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।”
“আমরা হারব হয়তো এর মধ্যে, জিতবও কিছু। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, উন্নতি হচ্ছে কিনা এই সংস্করণে। যেটা আমরা চাই, সেটা মাথায় ছড়িয়ে দিতে হবে যে আমরা এই সংস্করণে আগ্রাসী খেলতে চাই, খোলা মনে খেলতে চাই। এটা করতে গিয়ে হয়তো বা নিউ জিল্যান্ড সফর বা বিশ্বকাপে দু-একটি ম্যাচও জিততে পারব না।”
যে খালেদ মাহমুদ বলছেন দলের আর নিচে যাওয়ার জায়গা নেই, সেই তিনিই আবার বললেন, দলের ওপর তার বিশ্বাস প্রবল।
“আত্মবিশ্বাস আমাদের অবশ্যই আছে। আমি নিজে সবসময়ই আত্মবিশ্বাসী। ইতিবাচক ছেলে আমি। জিততে চাই আমি। আমি মনে করি যে আমরা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নও হতে পারি। আমি এটা মাথায় রাখি।”
“তবে রাস্তাটি সহজ হবে না। কঠিন অনেক। হয়তো ৬ মাস বা ১ বছর… এর মধ্যে যে অনেক বড় পরিবর্তন হয়ে যাবে, তা নয়। তবে মানসিকতার যদি বদল হয়, তাহলে অনেক খুশি হব।”
টিম ডিরেক্টরের মতে, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির মতো ব্যাটসম্যানরা যে ধরনের শট খেলে থাকেন, সেই ধরনের শট খেলতে পারেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও। তবে এদেশের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হন মানসিক দীনতার কারণে। তাদের মনের এই ভার সরিয়ে দিতে চান খালেদ মাহমুদ।
“রোহিত শর্মা যে শট খেলে, এটা বাংলাদেশের একটা ছেলে পারে না, এটা আমি বিশ্বাসই করি না। কোনোদিনই করি না। যেটা বিরাট (কোহলি) পারে, সেটা আফিফ পারবে না, এটা আমি বিশ্বাসই করি না। আফিফ হয়তো আরও ভালো পারে। তবে সাহসটা আমাদের নেই। একটা জায়গায় নিজেদের আটকে রাখি বারবার।”
“আমি ওই বাধাটা উঠিয়ে দিতে চাই। চাই যে স্বাধীনতা নিয়ে খেলুক। আমাদের বোলাররাও যে পারবে না অন্যান্য দেশের বোলারদের মতো, আমি এটা বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, আমাদের বোলাররা অনেক দেশের বোলারদের চেয়ে ভালো। কিন্তু সাহসিকতার জায়গায় আমরা বারবার মার খেয়ে যাচ্ছি।”