মেয়ার্সের সেঞ্চুরি, পুরানের তাণ্ডব ছাপিয়ে কিউইদের দুর্দান্ত রান তাড়া
তিনশর বেশি রান তাড়ায় জিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও জিতে নিল নিউ জিল্যান্ড।
১৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি, এক ওপেনারের সেঞ্চুরি, তিনে নামা ব্যাটসম্যানের বিস্ফোরক ইনিংস। মনে হতে পারে, খুব বেশি কিছুর আর প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু এসবও যথেষ্ট হলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। হিসেবি রান তাড়ায় শেষ পর্যন্ত জিতে গেল নিউ জিল্যান্ড। চার ফিফটি আর একজনের দুর্দান্ত ক্যামিওতে তিনশ রানের চ্যালেঞ্জ উতরে সিরিজও জিতে নিল কিউইরা।
বারবাডোজে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের জয় ৫ উইকেটে। প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়া কিউইরা সিরিজ জিতল ২-১ ব্যবধানে।
বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে কাইল মেয়ার্স করেন ১০৫। তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী শেই হোপ ৫১ রান করলেও বল খেলে ফেলেন ১০০টি!
তবে তা পরে পুষিয়ে দেন নিকোলাস পুরান। তিনে নেমে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ৫৫ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলেন ৯ ছক্কায়। মন্থর শুরুর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ পায় ৩০১ রানের পুঁজি।
আগের দুই ম্যাচের চেয়ে উইকেট একটু ভালো হলেও আদর্শ ব্যাটিং উইকেট ছিল না এ দিনও। নিউ জিল্যান্ড তবু দারুণ ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ১৭ বল বাকি রেখেই।
তাদের কেউ খুব বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে ফিফটি করেন মার্টিন গাপটিল, ডেভন কনওয়ে, ড্যারিল মিচেল ও টম ল্যাথাম। শেষ দিকে ১১ বলে ৩৪ রান করে কাজ শেষ করে জিমি নিশাম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে এই প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল নিউ জিল্যান্ড। এই সফরে সেখানে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তিও গড়ে কিউইরা।
সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচ জিতল তারা চোটে পড়া অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে ছাড়াই।
আগের দুই ম্যাচে ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদির বোলিংয়ে ভোগান্তির পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দিন যেন ঠিক করেছিল, নতুন বলে কোনোভাবেই উইকেট দেওয়া যাবে না। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দল দল শুরু করে ভীষণ সাবধানে। ম্যাচের প্রথম বলে যদিও চার মারেন শেই হোপ, এরপর আর ১৬ বলে পাননি রান।
আরেক পাশে কাইল মেয়ার্সও ছিলেন সতর্ক। তাতে প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েও রান আসে স্রেফ ২৪।
এরপর মেয়ার্স বাড়ান রানের গতি। ২৭ বলে ১০ রান থেকে চালিয়ে খেলে তিনি ফিফটি পূর্ণ করেন ৫৮ বলে। হোপ মাঝেমধ্যে বাউন্ডারি আদায় করলেও সিঙ্গেলস-ডাবলস নিতে পারেননি।
বৃষ্টিতে খেলা প্রায় ৪৫ মিনিট বন্ধ থাকলেও দুজনের মনোসংযোগে চিড় ধরেনি। জুটির রান একশ ছাড়িয়ে দেড়শও পেরিয়ে যায়। তবে তা মূলত মেয়ার্সের সৌজন্যেই। হোপ ফিফটি করেন ৯৫ বলে! একটু পরই মেয়ার্স সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১০৬ বলে।
অবশেষে জুটি ভাঙে ৩৫তম ওভারে। হোপ পারেননি তার মন্থর ইনিংসকে গতিময় করে পুষিয়ে দিতে। ১০০ বলে ৫১ করে তার বিদায়ে থামে ১৭৩ রানের জুটি। পরের ওভারেই লকি ফার্গুসনের বল আকাশে তুলে বিদায় নেন মেয়ার্স।
এরপর বাকিটা বলা যায় পুরান-শো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডারে ৫ ব্যাটসম্যান পারেননি দুই অঙ্ক ছুঁতে। কিন্তু পুরান একাই ছিলেন যেন যথেষ্ট। ছক্কার পর ছক্কা আসতে থাকে তার ব্যাটে। সেঞ্চুরিটা যদিও হয়নি একটুর জন্য। ছক্কার চেষ্টায়ই ৯১ রানে আউট হন তিনি শেষের আগের ওভারে।
তিনে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড তার এই ৯ ছক্কা। শেষ দিকে আলজারি জোসেফের ৬ বলে ২০ রানের সৌজন্যে তিনশ ছাড়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিউ জিল্যান্ড রান তাড়ায় ফিন অ্যালেনকে হারায় স্রেফ ৩ রানে। তবে অভিজ্ঞ মার্টিন গাপটিল ও ডেভন কনওয়ে দ্বিতীয় জুটিতে তোলেন ৮২ রান। গাপটিল ফেরেন ৬৪ বলে ৫৭ করে, কনওয়ে বিদায় নেন ৬৩ বলে ৫৬ করে।
তাতে ভড়কে যায়নি নিউ জিল্যান্ড। চতুর্থ উইকেটে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ল্যাথাম ও ড্যারিল মিচেলের দারুণ জুটি দলকে এগিয়ে নেয় জয়ের পথে। সময়ের দাবি মিটিয়ে ১০৩ বলে ১২০ রান যোগ করেন দুজন।
৪৯ বলে ৬৩ করে আউট হন মিচেল। কাজ শেষ করে পারেননি ল্যাথামও। জেসন হোল্ডারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে তিনি ফেরেন ৭৫ বলে ৬৯ করে।
তবে কিউইরা পথ হারায়নি। ৪ ছক্কায় ১১ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করেন নিশাম।
অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ল্যাথাম। সিরিজ জুড়ে আঁটসাঁট বোলিং আর কার্যকর ব্যাটিংয়ে সিরিজ সেরা মিচেল স্যান্টনার।
এই সিরিজ জয়ে আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ সুপার লিগে নিউ জিল্যান্ডের পয়েন্ট হলো ১১০। ১২ ম্যাচের ১১টিই জিতেছে তারা। এখনও বাকি তাদের ১২ ম্যাচ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৪ ম্যাচ শেষ হয়ে গেল এই সিরিজ দিয়েই। স্রেফ ৯ জয়ে তাদের পয়েন্ট ৯০। তাদের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নির্ভর করবে এখন অন্যদের ফলাফলের ওপর।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ৩০১/৮ (হোপ ৫১, মেয়ার্স ১০৫, পুরান ৯১, কিং ১, ব্রুকস ২, কার্টি ৪, হোল্ডার ১, আকিল ৪, জোসেফ ২০*, কারাইয়াহ ১*; বোল্ট ১০-১-৫৩-৩, সাউদি ১০-২-৪৭-১, ব্রেসওয়েল ৬-০-৪৩-০, ফার্গসন ১০-০-৮০-১, স্যান্টনার ১০-০-৩৮-২, নিশাম ৪-০-৩০-১)।
নিউ জিল্যান্ড: ৪৭.১ ওভারে ৩০৭/৫ (গাপটিল ৫৭, অ্যালেন ৩, কনওয়ে ৫৬, ল্যাথাম ৬৯, মিচেল ৬৩, ব্রেসওয়েল ১৪*; নিশাম ৩৪*; মেয়ার্স ৩-০-১৬-০, হোল্ডার ৭-০-৩৭-২, আকিল ৯-০-৬০-০, জোসেফ ৯-০-৬১-১, সিনক্লেয়ার ১০-১-৪৫-০, কারাইয়াহ ৯-০-৭৭-০, পুরান ০.১-০-৬-০)।
ফল: নিউ জিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ২-১ ব্যবধানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: টম ল্যাথাম।
ম্যান অব দা সিরিজ: মিচেল স্যান্টনার।
