Published : 29 Jul 2025, 05:33 PM
লক্ষ্য ছিল ড্র করা, সেটি নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য কেন খেলতে হবে? রাভিন্দ্রা জাদেজা ও ওয়াশিংটন সুন্দারকে নিয়ে এই প্রশ্ন ডেল স্টেইনের। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস কিংবদন্তির মতে, ড্র নিশ্চিত হওয়ার পর বেন স্টোকসের হাত মেলানোর প্রস্তাবে রাজি হওয়াটাই ছিল ভদ্রলোকের মতো কাজ।
অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের শেষের অধ্যায় নিয়ে চলমান বিতর্কে স্টেইন আঙুল তুলছেন দুই ভারতীয় ব্যাটসম্যানের দিকে।
শেষ দিনে ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে অসাধারণ ব্যাট করে ভারতকে জয়ের সমান এক ড্র এনে দেন জাদেজা ও ওয়াশিংটন। লোকেশ রাহুলের ৯০, শুবমান গিলের শতরানের পর চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় লড়াইয়ে দুইশ রানের জুটি গড়েন জাদেজা ও ওয়াশিংটন।
আলোচিত ঘটনাটি শেষ দিনের শেষ ঘণ্টায়। নিয়ম অনুযায়ী, দুই দল একমত হলে শেষ ঘণ্টায় যে কোনো সময় ম্যাচের ইতি টানা যায়। সেদিন শেষ ঘণ্টা শুরুর সময়ই হাল ছেড়ে দেন বেন স্টোকস। ড্রয়ের প্রস্তাব নিয়ে তখন হাত বাড়িয়ে দেন ইংলিশ অধিনায়ক। কিন্তু ৮৯ রানে থাকা জাদেজা ও ৮০ রানে থাকা ওয়াশিংটন রাজি হননি ড্রয়ের প্রস্তাবে।
স্টোকস ও ইংলিশরা তাদের অসন্তুষ্টি লুকাননি। এরপর জো রুট এবং অনিয়মিত বোলার হ্যারি ব্রুকের স্পিন দিয়ে বাকি সময়টা চালিয়ে নেয় ইংল্যান্ড। ব্রুক তো স্রেফ আলতো করে বল ছাড়ছিলেন পাড়ার ক্রিকেটের মতো। তাকে ছক্কা মেরেই পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরিতে পৌঁছান জাদেজা। একটু পর প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পান ওয়াশিংটন।
তার সেঞ্চুরির পরই ড্র মেনে নেয় ভারত। অসাধারণ ম্যাচের সেখানেই সমাপ্তি। তবে বিতর্কের তখন শুরু। জাদেজা-ওয়াশিংটন ঠিক করেছেন কি না, স্টোকসের অমন করা উচিত হয়েছে কি না, ব্রুকের অমন বোলিং ক্রিকেটের চেতনা বিরোধী কি না, এসব নিয়ে চলছে তোলপাড়।
দক্ষিণ আফ্রিকা স্পিনার তাব্রেইজ শামসি এসব নিয়ে ভারতীয় ব্যাটারদের পক্ষ নেন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ।
“ভারতীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ড্রয়ের প্রস্তাব মেনে না নেওয়ার ব্যাপারটি কেন এত বড় করে তোলা হচ্ছে? প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তারা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটা বেছে নেওয়ার সবটুকু অধিকার তাদের আছে। তারা সেঞ্চুরি পেয়েছে, যেটার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। ব্যস, ম্যাচ শেষ।”
শামসির মন্তব্যের জবাবেই নিজের মতামত জানান স্টেইন। জাদেজা ও ওয়াশিংটনকে কৃতিত্ব তিনি দিচ্ছেন, কিন্তু ড্র নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্য খেলে যাওয়াতেই তার আপত্তি।
“শামো, এই মতামতের ভেতরেও অনেক কিছু আছে এবং প্রতিটিই অন্য কাউকে বিচলিত করতে। আমি এখানে একমাত্র যে সমস্যাটি দেখছি, লোকে বুঝতে পারছে না, ব্যাটাররা শতরানের জন্য খেলছিল না, ড্রয়ের জন্য খেলছিল। এটাই ছিল লক্ষ্য, ম্যাচ ড্র করা। সেটা যখন নিশ্চিত হয়ে গেছে, জয়-পরাজয় যখন বিবেচনার বাইরে, হাত মেলানোর প্রস্তাব যখন দেওয়া হলো, সেটায় সাড়া দেওয়াই ভদ্রলোকের মতো ব্যাপার হতো, তাই না?”
“সেই সময়টা তো এটা অনুভব করার ব্যাপার নয় যে, তারা এখন নিরাপদ এবং এখন খেলবে কিছু স্বস্তা মাইলফলকের জন্য….। যদিও এটা নিয়মের মধ্যেই পড়ে, তবে কিছুটা দৃষ্টিকটূ লেগেছে। পাশাপাশি বলতে হবে, তারা ভালো ব্যাট করেছে। হয়তো শেষ ঘণ্টার কাছাকাছি গিয়ে তারা আরেকটু আগ্রাসী হতে পারত মাইলফলকে পৌঁছাতে। তাহলে অন্তত সবাই একমত হতে পারতাম যে, কোনো দলই চেষ্টা করেনি অন্যকে এই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে ফেলতে।”
সিরিজের চার টেস্ট শেষে এখন ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ইংল্যান্ড। শেষ টেস্ট ওভালে শুরু বৃহস্পতিবার।