২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বেনেটের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পর ফলো-অনে জিম্বাবুয়ে

ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের চোখ রাঙানি জিম্বাবুয়ের সামনে।

বেনেটের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পর ফলো-অনে জিম্বাবুয়ে
জিম্বাবুয়ের দ্রুততম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান এখন ব্রায়ান বেনেট। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 May 2025, 11:57 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:46 PM

অম্লমধুর একটি দিন কাটল ব্রায়ান বেনেটের। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন তিনি প্রথম ইনিংসে। পরের ইনিংসে আউট হয়ে গেলেন এক রানে। ফলো-অনে পড়ে ইনিংস হার এড়ানোর চ্যালেঞ্জ এখন জিম্বাবুয়ের সামনে।

ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ইনিংস হার এড়াতে এখনও জিম্বাবুয়ের প্রয়োজন ২৭০ রান, হাতে আছে ৮ উইকেট, কার্যত ৭টি।

প্রথম দিন ৪৯৮ রান তোলার পর দ্বিতীয় দিন ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ৫৬৫ রানে। জবাবে জিম্বাবুয়ে থামে ২৬৫ রানে। প্রথম দিন ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া রিচার্ড এনগারাভা ব্যাটিংয়ে নামেননি।

৩০০ রানে পিছিয়ে থেকে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে শুক্রবারের খেলা শেষে জিম্বাবুয়ের রান ২ উইকেটে ৩০।

প্রথম ইনিংসে ২৬ চারে ১৪৩ বলে ১৩৯ রানের ইনিংস খেলা বেনেট পরেরটিতে করেন ১০ বলে ১।

এই ওপেনার এ দিন সেঞ্চুরি করেন ৯৭ বলে, জিম্বাবুয়ের ৩৩ বছরের টেস্ট ইতিহাসে দ্রুততম।

বেনেটের মতো এক দিনে দুবার আউট হয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভাইন।

প্রথম দিন বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলির সেঞ্চুরির পর ১৬৯ রানে অপরাজিত ছিলেন অলিভার পোপ। দ্বিতীয় দিন তিনি যোগ করতে পারেন আর কেবল ২ রান। 

অস্ত্রোপচারের পর ফেরার ম্যাচে ৯ রানেই শেষ হয় বেন স্টোকসের ইনিংস। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫০ বলে ৫৮ রান করেন হ্যারি ব্রুক। তার বিদায়ের পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় স্বাগতিকরা। 

জবাবে প্রথম ওভারে অভিষিক্ত স্যাম কুককে টানা তিনটি চারে শুরু করেন বেনেট। প্রথম চার ওভারে জিম্বাবুয়ে তুলে ফেলে ৩১ রান। পরের ওভারে বেন কারানকে স্লিপের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম উইকেটের দেখা পান কুক। জন্মভূমির বিপক্ষে কারান করেন ৬ রান।

দ্বিতীয় উইকেটে বেনেট ও আরভাইন গড়েন ৬৫ রানের জুটি। আরভাইনকে ফিরিয়ে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অফ স্পিনার শোয়েব বাশির। 

সবচেয়ে কম বয়সী ইংলিশ বোলার হিসেবে এই মাইলফলক ছুঁলেন তিনি (২১ বছর ২২২ দিন)। ছাড়িয়ে গেলেন স্টিভেন ফিনকে (২২ বছর ৬০ দিন)।

তৃতীয় উইকেটে বেনেট আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন শন উইলিয়ামসের সঙ্গে। ৬০ রানের এই জুটি ভাঙার পর আর কোনো জুটি পঞ্চাশ ছুঁতে পারেনি। 

এক প্রান্তে দল নিয়মিত উইকেট হারালেও, এগিয়ে যান বেনেট। ৯১ থেকে গাস অ্যাটকিনসনকে টানা তিনটি চারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি ৯৭ বলে। ভেঙে দেন ২০১৬ সালে বুলাওয়ায়োতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে উইলিয়ামসের ১০৬ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড।

জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন বেনেট। ২০০০ সালে ট্রেন্ট ব্রিজেই ২৫০ বলে অপরাজিত ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মারে গুডউইন। 

বেনেটের দুর্দান্ত ইনিংসটি শেষ হয় জশ টংয়ের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে। 

৬২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সফলতম বোলার বাশির। স্টোকস ১১ রানে ধরেন ২ শিকার।

আবার ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারে অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউ হন বেনেট। টংয়ের বাড়তি বাউন্সে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরভাইন। কারানের সঙ্গে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন উইলিয়ামস।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিন শেষে)

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৯৬.৩ ওভারে ৫৬৫/৬ ডিক্লে. (পোপ ১৭১, ব্রুক ৫৮, স্টোকস ৯, স্মিথ ৪*; এনগারাভা ৯-১-৪২-০, মুজারাবানি ২৪.৩-৩-১৪৩-৩, চিভাঙ্গা ১৬-০-১১৭-১, নিয়াউচি ১৮-০-১০৩-০, রাজা ২৪-১-৯৩-১, মাধেভেরে ৩-০-৩৪-১, বেনেট ২-০-১৭-০)

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ৬৩.২ ওভারে ২৬৫ (বেনেট ১৩৯, কারান ৬, আরভাইন ৪২, উইলিয়ামস ২৫, রাজা ৭, মাধেভেরে ০, সিগা ২২, মুজারাবানি ১২, চিভাঙ্গা ২, নিয়াউচি ০, এনগারাভা আহত অনুপস্থিতি; কুক ১৭-১-৭২-১, অ্যাটকিনসন ১৩.২-০-৫৮-২, বাশির ১৬.৪-২-৬২-৩, টং ১৩-১-৫৬-১, স্টোকস ৩.২-২-১১-২) 

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: (ফলো-অন) ১০ ওভারে ৩০/২ (বেনেট ১, কারান ৪*, আরভাইন ২, উইলিয়ামস ২২*; কুক ৪-০-৪-০, অ্যাটকিনসন ৩-২-১-১, টং ২-০-২২-১, বাশির ১-০-২-০)