Published : 12 Sep 2026, 11:01 AM
‘নো নাবি, নো প্রোবলেম…’, ধারাভাষ্যে চিৎকার করে বললেন ইয়ান বিশপ। জাতীয় দলের ডাকে মোহাম্মদ নাবি ফিরে যাওয়ার পর গায়ানার দুর্ভাবনার কারণ ছিল বৈকি। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ যেন তা ভুলিয়েই দিয়েছেন। বোলিংয়ে এসে প্রথম ওভারেই তিনি টানা দুই বলে উইকেট নেওয়ার পর ধারাভাষ্যে বিশপের ওই উচ্ছ্বসিত উচ্চারণ। তবে শেষ নয় সেখানেই। পরে আরও দুটি উইকেট নিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
সিপিএলে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে চার ওভারে ২৩ রানে চার উইকেট নিয়েছেন মিরাজ। তার চারটি শিকারই ছিল বোল্ড। বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইন আপের ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সকে ছয় উইকেটে হারিয়েছে তাদের দল।
আগের ম্যাচে সিপিএল অভিষেকে ১৩ রানে তিন উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন মিরাজ।
এই দুই ম্যাচেই দারুণ বোলিংয়ের পাশাপাশি মিরাজের উদযাপনও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাৎক্ষণিক উচ্ছ্বাসে ছুটে চলা, আঙুল উঁচিয়ে লাফ দেওয়া, এসবের পাশাপাশি মিরাজ ফিরিয়ে এনেছেন ‘নাগিন ডান্স।’ দুই ম্যাচেই মূলত অধিনায়ক ইমরান তাহিরের সঙ্গে উদযাপনের সময় ‘নাগিন ডান্সের’ রূপে দেখা গেছে তাকে। তার সঙ্গে 'নাগিন' নাচে মেতেছেন তাহিরও।
এই ‘নাগিন ডান্স’ একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটে ছিল তুমুল আলোচিত উদযাপন। বিশেষ করে, ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফির সময় থেকে এই উদযাপন ছিল একই সঙ্গে বিখ্যাত ও কুখ্যাত। অনেক দিন পর একটি বড় মঞ্চে এই উদযাপন দেখা যাচ্ছে আবার।
উদযাপন অবশ্য কেবলই অনুষঙ্গ। তার বোলিং পারফরম্যান্সই মুখ্য। গায়ানার উইকেট মন্থর, বল গ্রিপ করছে, টার্নও মিলছে। স্পিন সহায়ক সেই উইকেটের ধরন অনুযায়ী গতি আর লেংথের বৈচিত্রে দারুণ বোলিং করে চলেছেন মিরাজ।
১৭৮ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয়বার ম্যাচে চার উইকেট নিতে পারলেন মিরাজ। দেশের বাইরে এই স্বাদ পেলেন তিনি প্রথমবার।
টি-টোয়েন্টিতে দেশের বাইরে ম্যাচসেরা হলেন তিনি এই নিয়ে ১১ বার। দেশের বাইরে আগে সেরা হয়েছিলেন স্রেফ একবার। ২০২২ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুবাইয়ে ম্যাচে সেরা হয়েছিলেন মূলত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে।
বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচটিতে প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিংয়ে নামে গায়ানা। ত্রিনবাগোকে ভালো শুরু এনে দেন টি-টোয়েন্টির দুই সফল ও অভিজ্ঞ ব্যাটার কলিন মানরো ও অ্যালেক্স হেলস। চার ওভারে ৩৮ রান তোলার পর মিরাজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক তাহির। সাফল্য মেলে ওভারের চতুর্থ বলেই।
মানরো সুইচ হিট খেলবেন বুঝতে পেরেই বুদ্ধিদীপ্তভাবে অনেকটা ভাসিয়ে এবং লেংথ টেনে বল করেন মিরাজ। ব্যস, বল ছোবল দেয় স্টাম্পে। ১৬ বলে ২৬ করে ফেরেন কিউই ব্যাটসম্যান।
পরের ডেলিভারির শিকারটি আরও বড়। রাউন্ড দা উইকেটে দারুণ ফ্লাইট ও লেংথে নিকোলাস পুরানের জন্য একটু অস্বস্তিকর অ্যাঙ্গল তৈরি করেন মিরাজ। ত্রিনবাগো অধিনায়ক ধৈর্য না দেখিয়ে প্রথম বলেই চেষ্টা করেন বড় শট খেলতে। বল আঘাত করে মিডল স্টাম্পে।
মিরাজের জোড়া ধাক্কায় ত্রিনবাগোর রানের গতিও প্রায় থমকে যায়। পরের চার ওভারে রান আসে কেবল ১৩। তখনও টিকে থাকা অ্যালেক্স হেলসকে ২২ রানে থামান তাহির।
প্রথম দুই ওভারে ১০ রান দেওয়া মিরাজ আবার বোলিং পান ত্রয়োদশ ওভারে। তৃতীয় উইকেট পান এই ওভারেই এবং সেটি ছিল সম্ভবত ম্যাচে তার সেরা ডেলিভারি। যথারীতি রাউন্ড দা উইকেটে আর্ম বল করেন তিনি। লেংথ বলটি পিচ করে সোজা হয়ে বাঁহাতি জাইড গুলির প্যাড-ব্যাটের ফাঁক গলে উড়িয়ে দেয় বেলস।
মিরাজের পরের শিকার সুনিল নারাইন। ঝুলিয়ে দেওয়া বলে বড় শটের চেষ্টায় ব্যাটে-বলেই করতে পারেননি অভিজ্ঞ নারাইন।
ওই ওভারেই জাস্টিন গ্রেভসের ব্যাটে একটি ছক্কা হজম করেন মিরাজ। তার পরও ওভারপ্রতি রান দেন ছয়ের কম।
গ্রেভসের ৩৫ রানই ত্রিনবাগোর সর্বোচ্চ। তাদের ইনিংস থামে ১২৬ রানে।
মিরাজের চার উইকেট ছাড়া মন্থর উইকেটেও গতির ঝড় তুলে দুটি উইকেট নেন শামার জোসেফ। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়া তাহির এবার নেন এক উইকেট।
রান তাড়ায় গায়ানা খুব দাপটে ছুটতে না পারলেও খুব একটা ভুগতেও হয়নি। ওপেনিংয়ে মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়াল দুই ছক্কায় ১৪ বলে ১৯ করে আউট হন। আরেক ওপেনার গ্লেন ফিলিপস পারেননি ভালো করতে (১৮ বলে ১১)। তিন ছক্কায় ১৯ বলে ২৮ করে আউট হন শিমরন হেটমায়ার।
বোলিংয়ে সফল মিরাজ ব্যাটিংয়ে ধুঁকেছেন। ১৪ বল খেলে আউট হন তিনি দুই রান করে। তবে অভিজ্ঞ শেই হোপ ৩৫ বলে অপরাজিত ৪২ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে মাঠ ছাড়েন। ৮ বল বাকি রেখে খেলা শেষ করে গায়ানা।
প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলা গায়ানা ৯ ম্যাচের ৮টিতে জিতে সংহত করেছে শীর্ষস্থান। প্রাথমিক পর্বে আর একটি ম্যাচ বাকি আছে তাদের বারবাডোজ ট্রাইডেন্টসের সঙ্গে।