১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সামনে ভারত, দৃষ্টিতে ট্রফি, বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের যুবাদের

বৈভাব সুরিয়াভানশি, আয়ুশ মাত্রের ভারতীয় দলের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে অনূধ্‌র্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করছে বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jan 2026, 11:35 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের কাছাকাছি নেই কোনো দল। প্রস্তুতিতে ঘাটতি নেই বললেই চলে। কন্ডিশন ও উইকেটও চেনা। অপেক্ষা এবার আসল সময়ে মূল লড়াইয়ে সবকিছুর ছাপ রাখা। শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ শুরু করছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আসরের ফেভারিট দলগুলির একটি ভারত।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ষোড়শ আসর জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াতে শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। বাংলাদেশের অভিযান শুরু হচ্ছে শনিবার। বুলাওয়ায়োতে ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায়।

গত জুলাই-অগাস্টে জিম্বাবুয়েতে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই অভিজ্ঞতা এখনও টাটকা। তবে শুধু সেই সিরিজই নয়, গত দুই বছরে টানা খেলার মধ্যে ছিল এই দলটি। 

বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচক ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার এহসানুল হক টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন বুলাওয়ায়ো থেকে বিসিবির ভিডিও বার্তায় বললেন, বাংলাদেশের তো পরিকল্পিত প্রস্তুতি আর কোনো দলের তিনি দেখেননি।  

“প্রস্তুতি তো আমরা অনেক দিন আগে থেকেই নিয়েছি। ওদেরকে আমরা ৩০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দিয়েছি আমরা। ক্রিকেটাররা অভিজ্ঞতা নিয়েছে। এমনকি ছয় মাস আগেই আমরা এই জিম্বাবুয়েতে এসেছিলাম। এখানকার আবহাওয়া, কন্ডিশন, সবকিছু আমরা জেনে গেছি। এখানে যে ধরনের পিচ হবে, সেটাও আমরা আগে থেকেই জানি এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।”

“ক্রিকেটারদের অনেক ভালো অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি আমরা এবং এই উইকেট আমাদের ছেলেদের অনেক পরিচিত। দলটা অনেক স্কিলফুল এবং ট্যাকটিক্যালিও প্রস্তুত হয়ে আছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়, অন্যান্য দল যেটুকু পরিকল্পনা করেছে দলকে প্রস্তুত করার জন্য, বাংলাদেশ এর চেয়ে অনেক বেশি চেষ্টা করেছে ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে।”

২০২০ যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের শিরোপা জয়ের পেছনে বড় অবদান মনে করা হয় ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতাকে। আগের দুই বছরে প্রচুর ম্যাচ খেলে দলটি পোক্ত হয়ে উঠেছিল। এবারও পরীক্ষিত সেই পথই বেছে নিয়েছে বিসিবি।

গত যুব বিশ্বকাপের পর থেকেই এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ৩২টি যুব ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এই সময়কালে যা বিশ্ব ক্রিকেটে সব দল মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি। ২৫টির বেশি ম্যাচ খেলেনি আর কোনো দল।

ইংলিশ যুবারা এই সময়টায় খেলেছেন ২৫ ম্যাচ, লঙ্কানরা ২৩টি, ভারতীয়রা ২১টি।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও এই সময়ে দাপট ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। এই প্রায় দুই বছরে সবচেয়ে বেশি পাঁচ রান স্কোরারের চারজনই বাংলাদেশের। ৪১.০৩ গড়ে ১ হাজার ৬৭ রান করে সবার ওপরে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম, স্টাইশি ওপেনার জাওয়াদ আবরারের রান ৩৮.৪৪ গড়ে ১ হাজার ৩৮।

এছাড়া রিজান হোসেন করেছেন ৮৮৭ রান, কালাম সিদ্দিকি ৮৩৭। ভারতের কিশোর ব্যাটিং সেনসেশন বৈভাব সুরিয়াভানশি ৫৪.০৫ গড় ও ১৬৪.০৮ স্ট্রাইক রেটে ৯৭৩ রান করে তালিকায় আছেন তিনে।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণের মূল দুই ভরসা ইকবাল হোসেন ইমন (৪৫ উইকেট) ও আল ফাহাদ (৪৩) উইকেটের তালিকায় আছেন শীর্ষ দুইয়ে। 

২৯ উইকেট নিয়ে তিনে সামিউন বশির। ২৬টি করে উইকেট আজিজুল ও শ্রীলঙ্কান লেগ স্পিনার ভিগ্নেস্বরন আকাশের। 

 অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের সময় মাঠে নিজেদের মেলে ধরা ও পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করাটা ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মতো ভারতেরও লক্ষ্য শিরোপা জয় এবং সেই শক্তিও দলটির আছে। 

গত বিশ্বকাপের পর থেকে এই বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ম্যাচ সংখ্যা বাংলাদেশের বেশি হলেও জয়-পরাজয়ের অনুপাত অনযায়ী সফলতম দল ভারত।

নির্বাচক এহসানুল হকের আশা, অতীত সাফল্যের প্রেরণায় এবারও ভারতকে হারাতে পারবে বাংলাদেশ।

“আগামীকাল (শনিবার) ভারতের সঙ্গে খেলা। ক্রিকেটাররা যদি শতভাগ চেষ্টা করে… আমরা ওদেরকে ২০২৪ এশিয়া কাপে হারিয়েছি, সেই দলটাই এখানে খেলছে, আমাদের ওই ক্রিকেটাররাই বিশ্বকাপে রয়েছে, আমি খুবই আশাবাদী ভারতের বিপক্ষে জয়ের জন্য।”

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দুবাইয়ে যুব এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ৫৯ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।

গত দুই বছরে এই দুই দলের ম্যাচ ছিল ওই একটিই।

২০২০ যুব বিশ্বকাপজয়ী কোচ নাভিদ নাওয়াজ এবারও আছেন বাংলাদেশের দায়িত্বে। সাবেক লঙ্কান ব্যাটসম্যান বললেন, প্রক্রিয়া ঠিকঠাক অনুসরণ করলে ভারতেকে হারাবে বাংলাদেশ। 

“দুটি ভালো দল যখন মুখোমুখি হয়, তখন নির্দিষ্ট দিনটিতে ভালো খেলা দলেরই জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে। ভারত বেশ ভালো দল, আমরাও খুব ভালো দল। দেখা যাক, আমরা নিজেদের প্রক্রিয়ায় অটল থাকব… ছেলেরা যদি পরিকল্পনা অনুসরণ করতে পারে ও ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, আমাদের সম্ভাবনা বেশি থাকবে।”

বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হলেও ভারতের এটি দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে তারা বৃষ্টি বিঘ্নিত লড়াইয়ে ৬ উইকেটে হারায় যুক্তরাষ্ট্রকে।