Published : 07 Sep 2026, 10:48 AM
সবশেষ ১০ ইনিংসে ফিফটি নেই, তিন বছরের বেশি সময় ধরে নেই সেঞ্চুরি। সম্পতি বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে তিন ইনিংসে রান ১, ৩১ ও ৪। অবিশ্বাস্যভাবে তার পরও টেস্ট দলে জায়গা ধরে রাখলেন মার্নাস লাবুশেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের অস্ট্রেলিয়া দলে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে হারিয়ে খোঁজা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে।
সম্ভাব্য একজন বিকল্পও অবশ্য রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। সেই নামটিও বেশ চমক জাগানিয়া। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা বেশি না থাকলেও দলে ফিরেছেন কুপার কনোলি। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণ ক্রিকেটারদের একজন মনে করা হয় তাকে। তবে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন স্রেফ ১৩টি। এখনও শতরানের স্বাদ পাননি। তিন নম্বরে ব্যাট করেছেন স্রেফ ক্যারিয়ারে স্রেফ একবার, চার নম্বরে চারবার। গত মৌসুমে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া দল থেকেও বাদ পড়েছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে অবশ্য তাকে নিয়ে উচ্চাশার শেষ নেই। সীমিত ওভারের স্কোয়াডে নিয়মিতই সুযোগ পান তিনি। গত বছর টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায় শ্রীলঙ্কায়। একমাত্র ইনিংসে ভালো করতে পারেননি সেখানে। তার পরও মূলত তার প্রতিভার প্রতি আস্থা রেখেই সুযোগ দেওয়া হলো তাকে।
লাবুশেনের টিকে যাওয়াই সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা। তার ফর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অনেক দিন ধরেই। গত অ্যাশেজের ব্রিজবেন টেস্টের পর আর ফিফটি নেই তার। সবশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে। সবশেষ সেঞ্চুরি করেছিলেন ৪৩ ইনিংস আগে। এই সময়ে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ২৪.৬৯। টানা এত বাজে ফর্মের পরও কারও সুযোগ পাওয়া অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বাস্তবতায় বিরল।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজের সময় সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং ধারাভাষ্যে সরাসরিই বলেছিলেন, অনেক আগেই বাদ দেওয়া উচিত ছিল এই ব্যাটসম্যানকে। টেস্ট সিরিজের আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজের দল থেকে তিনি বাদ পড়েছেন। কিন্তু টেস্টে নির্বাচকরা আরেকবার সুযোগ দিলেন তাকে। প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলির বিশ্বাস, এখনও দলে ভুমিকা রাখতে পারবেন র্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এক নম্বর ব্যাটসম্যান।
“এই সত্যটা আমরা অস্বীকার করছি না যে, মার্নের (লাবুশেন) কাছ থেকে আরও কিছু রান চাই আমরা। এটা স্পষ্ট। তবে আমরা এ ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী যে, সে এখনও স্কোয়াডে একটি ইতিবাচক অবদান রাখতে পারবে।
আমার মনে হয়, মার্ন এই সিরিজের জন্য তার প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে এবং সেটিকে আরও উন্নত করবে। যেহেতু সে সিরিজের আগে ওয়ানডে সিরিজে থাকছে না, তাই তার জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে যেতে পারে বা সে পুরোপুরি লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে পারবে। সুতরাং, এটি একটি সুবিধা হতে পারে।”
স্পিন বিভাগেও কিছুটা চমক আছে। ন্যাথান লায়নের সঙ্গে দ্বিতীয় স্পিনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে ম্যাথু কুনেমানকে। গত অ্যাশেজে লায়ন চোটের কারণে ছিটকে পড়ার পর সুযোগ পেয়েছিলেন টড মার্ফি। এই অফ স্পিনারের বদলে এবার ফিরলেন বাঁহাতি কুনেমান।
দলে ফিরেছেন গত অ্যাশেজে দারুণ বল করা পেসার মাইকেল নিসারও। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে দলে ফেরা ম্যাট রেনশ টিকে গেছেন। দ্বিতীয় কিপার-ব্যাটার হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছেন জশ ইংলিস।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অস্ট্রেলিয়ার তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু আগামী ৯ অক্টোবর। ২০১৮ সালের সেই বল টেম্পারিং বিতর্কের সিরিজের পর এবারই প্রথম সেখানে সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ানরা।
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, কুপার কনোলি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, মাইকেল নিসার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, বাউ ওয়েবস্টার।