Published : 27 Jul 2025, 06:45 PM
৯০ ছোঁয়ার পর যেন অতি সাবধানী হয়ে উঠলেন শুবমান গিল। কাটিয়ে দিলেন অনেকটা সময়। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি ছুঁয়ে হুঙ্কার দিলেন অবিশ্বাস্য ছন্দে এগিয়ে চলা ভারত অধিনায়ক। রেকর্ডের একটি পাতায় বসলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পাশে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভালো করতে না পারা গিল দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে চমৎকার ব্যাটিং করছেন। ম্যাচের শেষ দিন রোববার ১৯২ বলে ৯০ ছুঁয়ে গিল তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন ২২৮ বলে।
চলতি অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফিতে এটি গিলের চতুর্থ সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের মাটিতে এক সিরিজে তার চেয়ে বেশি শতক নেই আর কারো। এখানে গিলের সমান চারবার তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়েছেন কেবল একজন, সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচিত অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ব্র্যাডম্যান।
১৯৩০ সালের অ্যাশেজে লাল বলের ক্রিকেটে এক সিরিজে সর্বোচ্চ ৯৭৪ রানের রেকর্ড গড়ার পথে ৭ ইনিংসে ৪টি সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্র্যাডম্যান।
৭০০ ছুঁয়ে নতুন উচ্চতায় শুবমান গিল
টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক সিরিজে চার সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন আর কেবল একজন; ১৯২৯-৩০ মৌসুমে ঘরের মাঠে ৮ ইনিংসে তা করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জর্জ হেডলি।
ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক সিরিজে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিতে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গী ছিলেন গিল। এবার তাদেরকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন তিনি।
সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে, এক সিরিজে চারটি সেঞ্চুরি পাওয়া ভারতের তৃতীয় ক্রিকেটার গিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই কীর্তি দুইবার গড়েছিলেন সুনিল গাভাস্কার। আর ভিরাট কোহলি চার শতক করেছিলেন একবার, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে এক সিরিজে চার সেঞ্চুরি গিল ছাড়া আছে কেবল ব্র্যাডম্যান ও গাভাস্কারের। তবে নেতৃত্বের অভিষেক সিরিজেই চারবার তিন অঙ্ক ছোঁয়া প্রথম ক্রিকেটার গিল।
টেস্টে নিজের নবম সেঞ্চুরি ছুঁতে ম্যানচেস্টারে শেষ দিন গিলের প্রয়োজন ছিল ২২ রান। আগের দিনের ৭৮ রানে অপরাজিত ব্যাটসম্যান সাবধানী ব্যাটিংয়ে শতকের পথে এগোন। দিনের প্রথম সেশনের শেষ দিকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।
এরপর অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি গিল। জফ্রা আর্চারের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ১০৩ রানে বিদায় নেন তিনি। ২৩৮ বল খেলে ও ৩৭৯ মিনিট ক্রিজে থেকে ১২টি চার মারেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান।
রোহিত শার্মার অবসরের পর এই সফর দিয়ে ভারতের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে পথচলা শুরু গিলের। নেতৃত্বের অভিষেকেই সেঞ্চুরি উপহার দেন তিনি; ওই হেডিংলি টেস্টের প্রথম ইনিংসে করেন ১৪৭ রান।
এজবাস্টনে দ্বিতীয় টেস্টে রানের ফোয়ারা ছোটান ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬১ রান। ১৪৮ বছরের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে গড়েন একই ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরি ও দেড়শ ছোঁয়া ইনিংস খেলার রেকর্ড। মাঝে লর্ডসে জ্বলে উঠতে না পারলেও, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এসে আবার নিজেকে মেলে ধরলেন গিল।