Published : 25 Jan 2026, 02:01 AM
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হুট করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চেয়ারম্যান উইলফ ওয়ালশ ও প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আইসিসির প্রতি।
নিরাপত্তা শঙ্কায় আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায়, তাদেরকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার কথা শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসি।
পরে এক বিবৃতিতে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী লিন্ডব্লেড বলেন, আইসিসির আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তারা।
“আজ সকালে আইসিসির কাছ থেকে চিঠি পেয়েছি, সেখানে জানতে চাওয়া হয় যে আমাদের পুরুষ দল পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে কি না এবং আমরা আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি।”
“এই আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আইসিসির কাছে কৃতজ্ঞ আমরা। লাখ লাখ সমর্থকের সামনে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিযোগিতা করার রোমাঞ্চকর সুযোগ স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য। আমরা বুঝতে পারছি যে, চ্যালেঞ্জিং ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এসেছে এই সুযোগ।”
ইউরোপ অঞ্চল থেকে বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়া স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় ‘সি’ গ্রুপে খেলবে। গ্রুপে তাদের অন্য চার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি।
গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের প্রথম তিন ম্যাচ হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে, শেষটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।
লিন্ডব্লেড বললেন, কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এখন আগেভাগে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কটল্যান্ড দল।
“আসন্ন সফরগুলোর প্রস্তুতির জন্য আমাদের দল কয়েক সপ্তাহ ধরে অনুশীলন করছে। আর এখন স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে, খেলতে ও দারুণ একটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবদান রাখতে দ্রুত ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।”
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চেয়ারম্যান ওয়ালশ জানান, আইসিসি প্রধান জয় শাহ ফোন করে বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ জানান তাদের।
“আজ সকালে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর কাছ থেকে ফোন কল পাই আমি, যেখানে তিনি নিশ্চিত করেন যে, স্কটল্যান্ড আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার জন্য আমন্ত্রণ পাবে। দলের পক্ষ থেকে আমি আনন্দের সঙ্গে তা গ্রহণ করি, তারা যেতে ইচ্ছুক ও প্রস্তুত। এই সুযোগের জন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ জানাই আমরা।”
এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ।
ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে বাদ দেওয়ার পরদিনই বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না তারা। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হয়।
এরপর দুই দফায় সভা হয় আইসিসি ও বিসিবির। তাতে কোনো সমাধান মেলেনি। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বারবার। বিসিবি দফায় দফায় তুলে ধরে নিজেদের নিরাপত্তা শঙ্কার ব্যাপারটি। আইসিসিও প্রতিবারই বলে দেয়, কোনো দলের প্রতি সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি বা ঝুঁকি নেই।
সবশেষ গত বুধবার আইসিসি বোর্ড সভায় ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ হেরে যায় ১৪-২ ভোটে। তখন আইসিসির পক্ষ থেকে এক দিন সময় বেঁধে দেওয়া হলে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের অনড় অবস্থানের কথা আবার জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তাতেই একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়, বিশ্বকাপে খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।