১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথম ২ ওভার পর খরুচে রিশাদ, মার্শের দারুণ সেঞ্চুরি

পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে শেষ দুই ওভারে অনেক রান দিয়েছেন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার।

প্রথম ২ ওভার পর খরুচে রিশাদ, মার্শের দারুণ সেঞ্চুরি
রিশাদ হোসেন (বাঁয়ে) ও মিচেল মার্শ। ছবি: বিগ ব্যাশ ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jan 2026, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:28 PM

প্রথম দুই ওভারে চমৎকার বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের রানের গতিতে বাঁধ দিলেন রিশাদ হোসেন। কিন্তু কোটার শেষ দুই ওভারে পারলেন না সেটা ধরে রাখতে। তার খরুচে দিনে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দিলেন মিচেল মার্শ। 

বিগ ব্যাশে বৃহস্পতিবার পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য রিশাদ। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অভিষেক ম্যাচের পর প্রথমবার ধরতে পারলেন না কোনো শিকার।

বিবর্ণ দিনেও হোবার্ট হারিকেন্সের বোলারদের মধ্যে রেহান আহমেদের পর ওভারপ্রতি রান কম দিয়েছেন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার।

ঘরের মাঠে এদিন নিজের প্রথম দুই ওভারে ১১ রান দেন রিশাদ। পরে তার শেষ দুই ওভারে মার্শ ও অ্যারন হার্ডি মিলে তোলেন ২৪ রান।

২৪ ডেলিভারির মধ্যে সাতটি  ডট খেলাতে পারেন রিশাদ। তিনটি চারের সঙ্গে হজম করেন তিনি একটি ছক্কা।

রিশাদকে ওই ছক্কা হাঁকানো মার্শ খেলেন ১০২ রানের দারুণ ইনিংস। তার ৫৮ বলের ইনিংসটি গড়া ৫ ছক্কা ও ১১ চারে।

বিগ ব্যাশে এটি মার্শের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক ২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে তিন অঙ্কের স্বাদ পেয়েছিলেন।

আর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মার্শ। জাতীয় দলের হয়ে গত অক্টোবরে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। আর তার অন্য শতকটি আইপিএলে, সবশেষ মৌসুমে।

ম্যাচের প্রথম বলে ক্রিস জর্ডানকে ছক্কায় উড়িয়ে রানের খাতা খোলেন মার্শ। চতুর্থ ওভারে রাইলি মেরেডিথকে টানা মারেন একটি ছক্কা ও দুটি চার। প্রথম চারে অবশ্য জীবন পান মার্শ। তার ব্যাটে লেগে যাওয়া বল গ্লাভসে জমাতে পারেননি কিপার ম্যাথু ওয়েড।

পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম তিন বলে স্রেফ এক রান দেন রিশাদ। চতুর্থ ডেলিভারিতে পুল শটে তাকে চার মারেন মার্শ। শেষ দুই বল থেকে আসে দুটি সিঙ্গল।

পাওয়ার প্লের পরের ওভারে বল হাতে পেয়ে এবার আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন রিশাদ। তার প্রথম দুই বলে কোনো রান নিতে পারেননি মার্শ। তৃতীয় বলে আসে সিঙ্গল। চতুর্থ ও পঞ্চম ডেলিভারি খেলে তিন রান নেন হার্ডি। ওভারের শেষ বলটি মার্শকে ডট খেলান রিশাদ।

হার্ডির সঙ্গে মার্শের জুটি জমে ওঠে। রানও আসতে থাকে দ্রুত। দ্বাদশ ওভারে জর্ডানের ওপর ঝড় বইয়ে দেন হার্ডি। প্রথম চার বলে টানা চারটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। পঞ্চম বলে লেগ বাই থেকে আসে আরও চার রান। শেষ বল ছক্কায় ওড়ান হার্ডি, যদিও বাউন্ডারিতে ক্যাচ নিতে পারেননি ফিল্ডার। ওই ওভার থেকে আসে মোট ২৬ রান।

উইকেটের খোঁজে ত্রয়োদশ ওভারে ফের রিশাদকে আক্রমণে আনে হোবার্ট। প্রথম বলেই তাকে স্লগ সুইপে ছক্কায় স্বাগত জানান মার্শ। পরের বলে ডাবল নিয়ে ৩৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি।

ওই ওভারে আর কোনো বাউন্ডারি হজম করেননি রিশাদ। একটি ওয়াইডসহ ওভারে খরচ করেন মোট ১২ রান।

পরের ওভারে মিচেল ওয়েনের ওপর তাণ্ডব চালান মার্শ। প্রথম চার বলে মারেন দুটি করে চার ও ছক্কা। মেরেডিথকে চার মেরে ২৬ বলে ফিফটি করা হার্ডি পরের বলেই হাঁকান ছক্কা।

রিশাদের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলই বাউন্ডারিতে পাঠান হার্ডি, একটি কাভার দিয়ে ও অন্যটি সুইপ শটে মিডউইকেট দিয়ে। ওভারের পরের চার বলে আসে চারটি সিঙ্গল।

বিগ ব্যাশে আগের চার ম্যাচেই উইকেটের দেখা পান রিশাদ। এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে তার সেরা বোলিং পার্থের বিপক্ষেই, প্রথম দেখায় ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। আসরে ৬ ম্যাচ খেলে মোট ৮ শিকার ধরেন তিনি।

ফিফটি পর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠা মার্শ ন্যাথান এলিসকে ওভারে টানা তিনটি চার মেরে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান। ১৯তম ওভারের প্রথম ডেলিভারিতে সিঙ্গল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন তিনি, ৫৫ বলে।

ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে মার্শের লাগে ২২ বল।

ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে বাজে মার্শের বিদায় ঘণ্টা। পরে একটি করে ছক্কা-চারে দলের রান ২২৯ পর্যন্ত নিয়ে যান হার্ডি। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৪ রান করে। তার ৪৩ বলের ইনিংসে পাঁচটি ছক্কার সঙ্গে চার ৯টি।