Published : 12 Sep 2026, 04:03 PM
টেস্ট অভিষেকে ব্যাট হাতে রাজাউল্লাহর প্রথম ইনিংস থামে স্রেফ দুই চারে। দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে নিজের ভিন্ন রূপ দেখান তিনি। জফ্রা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, জশ টাংয়ের ওপর বইয়ে দেন ঝড়। তার ছক্কার বৃষ্টিতে ইনিংস ব্যবধানে হারের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইংল্যান্ডকে শতরানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় পাকিস্তান। দিনের খেলা শেষে এই পেসার বললেন, ব্যাটিংয়ের পুরো সময়টা কেবল উপভোগ করে গেছেন তিনি।
পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে আনন্দের খবর খুব একটা আসেনি। তবে এজবাস্টনে শুক্রবার ব্যাট করার সময় যেন অন্যরকম এক আনন্দ অনুভব করেন রাজাউল্লাহ। অসাধারণ এক ইনিংসে ৬৩ বলে করেন ৮১। চারটি চারের সঙ্গে মারেন নয়টি ছক্কা।
টেস্ট অভিষেকে কোনো এক ইনিংসে রাজউল্লাহর চেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পারেননি কেউ। ২০০৮ সালে নিজের অভিষেক টেস্টে নয়টি ছক্কা মারেন নিউ জিল্যান্ডের সাবেক পেসার টিম সাউদি, যিনি ইংল্যান্ডের বর্তমান পেস বোলিং পরামর্শক। তাকে সাক্ষী রেখেই রেকর্ডটিতে ভাগ বসালেন রাজাউল্লাহ।
তার বীরত্বেই ৪৪৯ রান করে পাকিস্তান, যারা সিরিজের আগের পাঁচ ইনিংসে একবারও দুইশ করতে পারেনি। রাজাউল্লাহর চোখধাঁধানো ব্যাটিংয়ে ইংলিশদের ১৩০ রানের লক্ষ্য দিতে পারে সফরকারীরা।
ইনিংসটির পথে ৪৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন রাজাউল্লাহ। তখন এজবাস্টনের গ্যালারির দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে অভিবাদন জানায়। ওই মুহূর্তটি বেশ ভালো লেগেছে তার।
ব্যাট করার সময় রাজাউল্লাহর মুখের হাসিই বলে দিচ্ছিল, তিনি মুহূর্তটি কতটা উপভোগ করছেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে হাসিমুখে বললেন সেই কথাই।
“দর্শকদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানোটা উপভোগ করেছি। আমি জীবনকে উপভোগ করতে পছন্দ করি এবং মুহূর্তটি দারুণ উপভোগ করছিলাম।”
অথচ ম্যাচটি খেলারই কথা ছিল না রাজাউল্লাহর। এই সিরিজের দলেই যে ছিলেন না তিনি। প্রথম দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের পর সাত ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে পাকিস্তান যে সাত জনকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়, তাদের একজন এই রাজাউল্লাহ।
মূলত ডানহাতি পেসার তিনি। প্রথম ইনিংসে চার উইকেটও নিয়েছেন। তবে ব্যাট হাতে যে অবদান রাখতে পারেন, সেটার প্রমাণ তো দিলেনই।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে খেলে একটি সেঞ্চুরিও আছে রাজাউল্লাহর। সংবাদ সম্মেলনে মজার ছলে ওঠে ওই প্রসঙ্গও। পেশাওয়ারের হয়ে ওই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ৫৮ রান করেন তিনি। এরপর কোচকে আরেকটু ওপরে ব্যাট করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তাকে ওপেন করতে পাঠান কোচ এবং তিন অঙ্ক স্পর্শ করেন রাজাউল্লাহ।
তবে এবার পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এমন এক বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে তাকে ব্যাট করতে হচ্ছিল, যারা টানা পাঁচ ইনিংসে পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে। তার ওপর ম্যাচটি হচ্ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দেশে।
আর্চার, অ্যাটকিনসন ও টাং- তিনজনই তাকে একের পর এক শর্ট বল করে যাচ্ছিলেন, পুরো সফরে যে ধরনের বলে বাবর আজমসহ পাকিস্তানের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানকে ভুগতে দেখা গেছে। কিন্তু রাজাউল্লাহ যেন ভিন্ন ধাতুতে গড়া। শর্ট বলই যে তার পছন্দের। আর্চার-টাংদের গতিময় শর্ট বলগুলো কী অনায়াসেই না বাউন্ডারির বাইরে উড়িয়ে ফেলছিলেন তিনি।
“আমি বেছে বেছে স্লগ করেছি, তবে সব বলই আমার নাগালের মধ্যে ছিল। যতটা সম্ভব ইনিংসটা টেনে নিতে চেয়েছি। গতিকে ভয় পাইনি। আর্চার ও তার কঠিন লেংথের বলগুলোক মারতে চেয়েছি। দেশের হয়ে খেললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি শুধু নিজেকে উপভোগ করছিলাম।”
২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহর ব্যাট চালানো গতি এবং ব্যাটে বল লাগার শব্দ- দুটিই ছিল দুর্দান্ত। স্বাভাবিকভাবেই কিছু বল মাঝ ব্যাটে খেলতে পারেননি তিনি, তবে সেই সংখ্যাটা ছিল খুবই কম। এত জোরে শট খেলেছিলেন যে, ইনিংসের পথে দুটি ব্যাটও ভেঙে ফেলেন তিনি।
রাজাউল্লাহ কার্যত ইংল্যান্ডের ফিল্ডারদেরই অপ্রাসঙ্গিক করে দেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে একাধিক ফিল্ডারকে বাউন্ডারিতে রাখে ইংল্যান্ড। কিন্তু নয়বার বল সীমানার বাইরে উড়ে যেতে দেখেছেন তারা।
“(ব্যাটিংয়ের জন্য) আমার পছন্দের বল শর্ট বল। স্রেফ নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। ভাবনা ছিল, যদি ৫০ বল খেলতে পারি, তাহলে ইতিবাচক কিছু হবে। সৌভাগ্যবশত, সেটাই হয়েছে।”