Published : 29 Jul 2026, 10:24 AM
স্যার গ্যারি সোবার্সের জন্মদিন এবার এসেছে শোকের আবহে। কিংবদন্তির জন্মদিনে উৎসব নেই, বরং ছিল তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাকে স্মরণের নানা আয়োজন। অ্যান্টিগায় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদর দপ্তরে শোক বই উন্মুক্ত ছিল জনসাধারণের জন্য। এমন দিনেই গোটা ক্যারিবিয়ায় আনন্দের একটি উপলক্ষ এনে দিলেন সোবার্সের উত্তরসূরীরা। পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দারুণ এক জয় আদায় করে নিলেন তারা। সদ্যপ্রয়াত কিংবদন্তিকে জয় উৎসর্গ করে অধিনায়ক রস্টন চেইস বললেন, “আজকে তার বয়স হতো ৯০ বছর, আমরা জিতলাম ৯০ রানে। এটা তার জন্যই নির্ধারিত ছিল…।”
দুই অননুমেয় দলের লড়াইয়ে যেমনটি হওয়ার, হলো তেমন কিছুই। ভেঙে পড়া আর ঘুরে দাঁড়ানোর পালা চলল ম্যাচজুড়েই। সেখানেই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিলেন ক্যারিবিয়ান পেসাররা। ব্যাট হাতে শেষের লড়াইয়ের পর জ্বলে উঠলেন তারা আসল কাজেও। তাদের আগুনে বোলিং আর পাকিস্তানের হতশ্রী ব্যাটিং মিলিয়ে ম্যাচ শেষ চতুর্থ দিন চা বিরতির পরপর।
ত্রিনিদাদ টেস্টে পাকিস্তানকে ৯০ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
শেষ ইনিংসে ২১১ রানের লক্ষ্যে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় স্রেফ ১২০ রানে।
এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ৯ উইকেটে ৭১। শেষ জুটিতে বাবর আজম ও মোহাম্মাদ আব্বাস কিছুটা লড়াই করে ৪৯ রান যোগ করে খানিকটা কমান ব্যবধান।
দেশের বাইরে টানা টেস্ট হারের রেকর্ড আরও বাড়িয়ে পাকিস্তান হেরে গেল টানা অষ্টম টেস্ট। টেস্ট নেতৃত্বে বাবরের প্রত্যাবর্তনও হলো পরাজয় দিয়ে।
২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নায়ক জেডেন সিলস। দুটি করে উইকেট নেন কিমার রোচ ও জাস্টিন গ্রেভস।
প্রথম ইনিংসে অবিশ্বাস্য এক স্পেলে টানা পাঁচটি মেডেন উইকেট শিকারি গ্রেভস পান ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি।
বোলিংয়ের আগে ক্যারিবিয়ান পেসাররা বড় ভূমিকা রাখেন ব্যাটিংয়ে। আগের দিন ৯৩ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন শামার জোসেফ, প্রতিরোধ গড়েছিলেন রোচ। চতুর্থ দিনেও এই জুটি যন্ত্রণা দেয় পাকিস্তানিদের। মহামূল্য জুটিতে আসে ৫৬ বলে ৬১ রান।
চার ছক্কায় ২৭ বলে ৩৮ রান করা জোসেফকে স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন মোহাম্মাদ আলি। এরপর শেষ দুই জুটিতেও আসে ২৭ রান।
পাকিস্তানের সেরা বোলার আব্বাসকে আক্রমণে আনতে একটু দেরিই করে ফেলেন অধিনায়ক বাবর। এই সুইং বোলার বল হাতে পেয়েই দ্রুত শেষ দুটি উইকেট আদায় করে নেন। পূর্ণ করেন নিজের পাঁচ উইকেট।
রান তাড়ায় পাকিস্তান ধুঁকতে থাকে শুরু থেকেই। ইমাম-উল-হাককে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু দেন রোচ। এই নিয়ে ছয় ইনিংসে পাঁচবার পাকিস্তানের এই ব্যাটারকে ফেরালেন অভিজ্ঞ পেসার।
একটু পর সিলসের বেশ বাইরের বলে আলগা শটে উইকেট হারার আজান আওয়াইস।
পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে শান মাসুদের চোট। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান দ্বিতীয় ইনিংসে তিন নম্বরে নামতে পারেননি আঙুলে চিড় ধরায়।
বাবর তিনে নেমে এক প্রান্ত আগলে রাখেন। অন্য প্রান্তে উইকেট পড়তে থাকে টপাটপ। সিলসের দুর্দান্ত ডেলিভারিতে সালমান আলি আগার মিডল স্টাম্প ডিগবাজি খায় মাটিতে। দারুণ ডেলিভারিতে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করেন গ্রেভস।
ভাঙা আঙুল নিয়ে আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মাসুদ।
শেষ দিকে বিস্ময়করভাবে বারবার লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক দিতে থাকেন বাবর। তাতে শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত রয়ে যান ৫৮ রানে। কিন্তু দলের তা কাজে লাগেনি।
সিরিজের পরের টেস্ট শুরু রোববার ত্রিনিদাদেরই আরেক মাঠ কুইন্স পার্ক ওভালে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৩১১
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৮২
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ৪৩ ওভারে (আগের দিন ১২৬/৭) (রোচ ১৮, শামার ৩৮, ওয়ারিক্যান ১৪, সিলস ৬*; আব্বাস ১৫.৫-৬-২২-৫, শাহজাদ ১৫-২-৫৪-২, আলি ১৪-১-৫২-২, জামাল ১০-২-৩৯-১)।
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২১১) ৪০.২ ওভারে ১২০ (আজান ৩, ইমাম ৩, বাবর ৫৮*, সালমান ০, রিজওয়ান ১১, জামাল ০, উসমান ২, মাসুদ ৩, শাহজাদ ৪, আলি ০, আব্বাস ২৩; রোচ ৮-২-২৭-২, সিলস ১৪.২-৬-২০-৫, শামার ১০-০-৪৪-১, গ্রেভস ৫-১-১২-২, ওয়ারিক্যান ২-১-৬-০, হজ ১-০-২-০)।
ফল: পাকিস্তান ৯০ রানে জয়ী।
সিরিজ: দুই ম্যাচ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১-০তে এগিয়ে।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জাস্টিন গ্রেভস।