১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কোয়াবের দায়িত্বে এক বছর, মিঠুন বললেন, ‘খেলোয়াড়দের অধিকারের প্রশ্নে ছাড় দিইনি’

ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি হিসেবে এক বছর পূর্তির দিনের মোহাম্মদ মিঠুন বললেন, তারা সততার সঙ্গে কাজ করছেন এবং ক্রিকেটারদের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্নে ছাড় দেননি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 06:03 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) গত এক বছরে সফলভাবে কাজ করেছে বলে দাবি করলেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। কাজ করা খুব সহজ ছিল না উল্লেখ করে দেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের বললেন, বর্তমান কমিটি সততার সঙ্গে করছে এবং ক্রিকেটারদের মর্যাদার প্রশ্নে ছাড় দেয়নি। 

কোয়াবের বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হলো শুক্রবার। ক্রিকেটারদের সংগঠনটির পথচলা অনেক বছরের হলেও প্রথমবার নির্বাচন হয় গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর। সেখানে বিপুল ব্যবধানে জিতে সভাপতি হন মিঠুন।

আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সংগঠনটিকে অনেক বেশি সক্রিয় দেখা গেছে গত এক বছরে। নিয়মিতই আলোয় এসেছে তাদের কার্যক্রম। সেখানে ইতিবাচক অনেক কিছু যেমন ছিল, তেমনি কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্মও দিয়েছে তারা। 

বর্ষপূর্তিতে পেছন ফিরে তাকিয়ে মিঠুন বিবৃতিতে বললেন, গত এক বছরে সব প্রতিবন্ধকতা তারা সফলভাবে পার করেছেন। 

“কঠিন এক সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব ক্রিকেটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের সহযোগিতা, সুদৃঢ় বন্ধন ও ঐক্যের কারণেই সফলভাবে ১২ মাস পার করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় কমিটির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই তাদের অব্যাহত সমর্থনের জন্য। 

গত ১২ মাস কাজ করা সহজ ছিল না। তবে খেলোয়াড়দের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্নে ছাড় দিইনি। বাস্তবসম্মত ও সততার সঙ্গে কোয়াব পরিচালনা করেছি আমরা। সব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছি এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানে থেকেছি।”

সাম্প্রতিক সময়ে কোয়াব আলোচনায় উঠে এসেছে বিপিএল ঘিরে তাদের অবস্থানের কারণে। এবার বিপিএল আয়োজন করা হবে না জানার পর সংগঠনটি যথেষ্ট শক্ত ভূমিকা পালন করতে পেরেছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। 

তবে কোয়াব বিবৃতিতে বলছে, “এই মৌসুমের বিপিএল স্থগিত করায় বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছে কোয়াব। বিসিবি পরিচালিত সব ঘরোয়া ফরম্যাটে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেন বিপিএল থেকে আয়ের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।”

ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলাকে গত এক বছরের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ’ কাজ হিসেবে দাবি করেছে কোয়াব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের ডব্লিউসিএর বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যেটিকে তারা বলছেন ‘বড় অর্জন।’

এছাড়াও গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য কিছু কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেছে কোয়াব, যেগুলোর মধ্যে আছে ক্রিকেটারদের ও তাদের পরিবারের কল্যাণে কাজ করা, ঢাকার লিগগুলো চালু করায় ভূমিকা রাখা, ক্রিকেটারদের সম্মান ও নিরাপত্তায় শক্ত অবস্থান নেওয়া, প্রথমবার ওয়েলফেয়ার ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বাড়াতে কাজ করা।

মিঠুনের আশা, এই এক বছরের কার্যক্রমকে আগামী এক বছরে আরও ছাড়িয়ে যাবে কোয়াব।  

“যেহেতু কল্যাণমূলক কার্যক্রম মূলত অর্থ নির্ভর, তাই যৌথ তহবিলকে শক্তিশালী করা ও আরও বেশি কল্যাণমূলক কাজ করার ওপর জোর দিতে হবে। আমাদের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সকল সিনিয়র-জুনিয়র, বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারকে আরও কাছে নিয়ে আসা। 

আগামী দিনে আরও চমৎকার কিছু পরিকল্পনা আপনারা দেখতে পাবেন। গত এক বছরে যেভাবে সফলভাবে কাজ করেছি, আশা করি আগামী বছর আরও বেশি সফলভাবে কাজগুলো পরিচালনা করতে পারব।”

কোয়াবের বর্তমান কমিটির বর্ষপূর্তিতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী টম মোফাট।