১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

উইন্ডিজের অদ্ভুত ব্যাটিং রেকর্ডের ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়ার ৪-০

কোনো ব্যাটসম্যান ৩১ রানের বেশি করতে পারেননি, তার পরও দলীয় রান দুইশ ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কিন্তু টানা দ্বিতীয় দিন দুইশর বেশি রান তাড়ায় জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।

উইন্ডিজের অদ্ভুত ব্যাটিং রেকর্ডের ম্যাচ জিতে অস্ট্রেলিয়ার ৪-০
১৮ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে চেনা চেহারায় গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি: অস্ট্রেলিয়া মেন'স ক্রিকেট টিম ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2025, 02:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:27 PM

৫০ বা ৪০ তো নয়, ৩৫ রানও করতে পারেননি কেউ। শেরফেন রাদারফোর্ডের ৩১ রানই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। তার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান পেরিয়ে গেল দুইশ। এমন কিছু আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথম দেখা গেল। তবে ব্যাটিং স্বর্গ উইকেট, ছোট মাঠ আর অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়ার সামনে যথেষ্ট হলো না তা। টানা দ্বিতীয় দিনে দুইশর বেশি রান তাড়া করে তারা পৌঁছে গেল ক্যারিবিয়ানদের হোয়াইটওয়াশ করার দুয়ারে। 

চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। 

ম্যাচের ফলাফল দেখে যতটা মনে হয়, ততটা জমে ওঠেনি লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার জয় আসলে নিশ্চিত হয়ে যায় বেশ আগেই। 

আগের দিন টিম ডেভিডের বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে ২১৫ রান তাড়ায় অনায়াসে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এ দিন ডেভিডকে বিশ্রাম দেওয়া হলেও জিততে সমস্যা হয়নি তাদের। তার বদলে সুযোগ পাওয়া অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি দারুণ বোলিংয়ের পর অবদান রাখেন ব্যাটিংয়ে।

সেন্ট কিটসে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০ ওভারে তোলে ৯ উইকেটে ২০৫ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম কোনো দল দুইশ স্পর্শ করল, যেখানে কোনো ব্যাটসম্যান ৩৫ রানও করতে পারেনি। 

রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া জয় পায় চার বল বাকি রেখে।

ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস যদি ‘দশে মিলে করি কাজ’-এর উদাহরণ হয়, অস্ট্রেলিয়াও সেখানে খুব পিছিয়ে ছিল না। দুটি ফিফটি থাকলেও তাদেরও ছিল না খুব বড় ইনিংস। ৩০ বলে ৫১ রান করেন জশ ইংলিস, সিরিজে তৃতীয় ফিফটিতে ৩৫ বলে ৫৫ করে অপরাজিত থাকেন ক্যামেরন গ্রিন। 

দুর্দান্ত দুটি ক্যাচ নেওয়ার পর ওপেনিংয়ে ছয় ছক্কায় ১৮ বলে ৪৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার ৪৭তম ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি এটি। কাইরন পোলার্ডকে ছাড়িয়ে তিনি এককভাবে এখন আছেন তালিকার দুইয়ে। সবার ওপরে ক্রিস গেইল (৬০ বার)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে দুইশর বেশি রান তাড়ায় হারল এই নিয়ে সপ্তমবার। অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি তারা গড়েছিল আগের দিনই, এবার তা বাড়ল আরেকটু। দক্ষিণ আফ্রিকা হেরেছে পাঁচবার।

ওয়ার্নার পার্কে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আভাস দিয়েছিল উড়ন্ত শুরুর। তবে আগের ম্যাচের মতো বড় হয়নি শুরুর জুটি। প্রথম দুই ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান ব্র্যান্ডন কিং (১০ বলে ১৮)।

কিংকে ফেরানোর পর আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান শেই হোপকেও (১০) ফেরান সিরিজে প্রথম খেলতে নামা জেভিয়ার বার্টলেট। রোস্টন চেইসকে ‘গোল্ডেন ডাক’ উপহার দেন সিরিজে প্রথম নামা আরেক ক্রিকেটার অ্যারন হার্ডি।

দ্রুত তিন উইকেট হারালেও আগ্রাসনের পথ ধরেই ছুটতে থাকে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা। কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, গড়ে ওঠেনি কোনো অর্ধশত রানের জুটি। তবে রানের গতি কমেনি।

১৫ বলে ৩১ করেন রাদারফোর্ড, দুটি করে চার-ছক্কায় ২২ বলে ২৮ রভম্যান পাওয়েল। দুই ছক্কায় ৬ বলে ১৬ করে আউট হয়ে যান শিমরন হেটমায়ার, রোমারিও শেফার্ড করেন ১৮ বলে ২৮, জেসন হোল্ডার ১৬ বলে ২৬।

এমনকি ৯ নম্বরে নামা ম্যাথু ফোর্ড দুই ছক্কায় করেন ৭ বলে ১৫, ১০ নম্বরে নেমে আকিল হোসেন ১০ বলে ১৬।

তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান দুইশ ছাড়িয়ে যায়। তবে বড় ইনিংস বা বড় জুটি না হওয়াতেই আরও বড় হয়নি দলের স্কোর।

রান তাড়ার শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই জেডিয়ায় ব্লেডসের শিকার হন অধিনায়ক মিচেল মার্শ (০)।

তবে তিনে নেমেই প্রবল পাল্টা আক্রমণ চালান জশ ইংলিস। ব্লেডসের ওভারে তিনটি চার মারেন তিনি, রোমারিও শেফার্ডকে টানা চারটি, ম্যাথু ফোর্ডকে মারেন ছক্কা ও চার।

ষষ্ঠ ওভারে তার ফিফটি হয়ে যায় ২৮ বলে। ম্যাক্সওয়েল তখনও স্রেফ দর্শক, তার রান ৪ বলে ২!

পাওয়ার প্লের শেষ বলে জেসন হোল্ডারকে ছক্কা মেরে ম্যাক্সওয়েল জেগে ওঠেন। ইংলিস বিদায় নেন ফিফটি পেরিয়েই। জুটি থামে ৩৫ বলে ৬৬ রানে।

তবে ম্যাক্সওয়েলের ঝড় চলতে থাকে। সঙ্গে যোগ দেন ক্যামেরন গ্রিনও। এই জুটিতে ৬৩ রান আসে স্রেফ চার ওভারেই।

ছক্কা দিয়ে ফিফটির চেষ্টায় ম্যাক্সওয়েলের ইনিংস থামে একাদশ ওভারে। পরে মিচেল ওয়েন (২) ও কুপার কনোলি (০) কাটা পড়েন ব্লেডসের এক ওভারেই। পাঁচ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

কিন্তু গ্রিন আর হার্ডি মিলে ২৮ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান জয়ের কাছে। হার্ডি ফেরেন ১৬ বলে ২৩ রান করে। জয়ের কাছাকাছি গিয়ে আউট হন জেভিয়ার বার্টলেট। তবে দলের জয় সঙ্গে নিয়েই ফেরেন গ্রিন।  

সিরিজের শেষ ম্যাচ সেন্ট কিটসেই, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায়। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২০৫/৯ (কিং ১৮, হোপ ১০, চেইস ০, রাদারফোর্ড ৩১, পাওয়েল ২৮, হেটমায়ার ১৬, শেফার্ড ২৮, হোল্ডার ২৬, ফোর্ড ১৫, আকিল ১৬*, ব্লেডস ৩*; হার্ডি ৪-০-২৪-২, বার্টলেট ৪-০-৩৯-২, অ্যাবট ৪-০-৬১-২, জ্যাম্পা ৪-০-৫৪-৩, এলিস ৪-০-২১-০)।

অস্ট্রেলিয়া: ১৯.২ ওভারে ২০৬/৭ (মার্শ ০, ম্যাক্সওয়েল ৪৭, ইংলিস ৫১, গ্রিন ৫৫*, ওয়েন ২, কনোলি ০, হার্ডি ২৩, বার্টলেট ৯, অ্যাবট ১; ব্লেডস ৪-০-২৯-৩, হোল্ডার ৪-০-৩৮-১, শেফার্ড ৪-০-৫৯-১, ফোর্ড ৪-০-৪৩-০, আকিল ৩.২-০-৩৬-১)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া উইকেটে ৩ জয়ী।

সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ: গ্লেন ম্যাক্সওয়েল।