Published : 12 Sep 2026, 09:46 PM
জাতীয় পর্যায়ের কোনো দলের হয়ে দেশের বাইরে খেলার অভিজ্ঞতাই ছিল না আলিস আল ইসলামের। প্রথম সুযোগেই তিনি মেলে ধরলেন স্পিন-রহস্যের ঝাঁপি। বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে জায়গা পাকা করার লড়াইয়ে থাকা রিশাদ হোসেনও জ্বলে উঠলেন দারুণভাবে। দুই স্পিনারের দারুণ বোলিংয়ের পর দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও মোহাম্মদ নাঈম শেখের ব্যাটে বাংলাদেশ ‘এ’ দল এগিয়ে গেল জয়ের পথে।
তিন ম্যাচের সিরিজের শেষটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ৫০ ওভারের সংস্করণের সিরিজটির প্রথম দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর লড়াই হয়ে ওঠে কার্যত এক ম্যাচের।
পচেফস্ট্রুমে শনিবার বাংলাদেশের দুই স্পিনারে দাপটে দক্ষিণ আফ্রিকানরা ১০ ওভার বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় ১৮২ রানে। রিশাদ শিকার করেন চার উইকেট, আলিস তিনটি।
রান তাড়ায় বাংলাদেশকে অনেকটা এগিয়ে নেন দুই ওপেনারই। শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট না পড়লে ব্যবধান বড় হতে পারত আরও।
টস জিতে বোলিংয়ে নামে বাংলাদেশ। জুবাইর হামজার ব্যাটে ভালো শুরুর আভাস পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আরেক ওপেনার রিভালডদো মুনসামি অবশ্য ধুঁকছিলেন। ১৩ বলে ১ করে আউট হন তিনিই আগে। মুশফিক হাসানের বল তুলে দেনন তিনি মিড অফে।
আলিস আক্রমণে আসার পরই এলোমেলো হয়ে যায় প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইনআপ। তীক্ষ্ণ টার্ন করে ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হন হামজা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৮ টেস্ট ও ১ ওয়ানডে খেলা ব্যাটসম্যান আউট হন ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রান করে।
সেটি কেবলই শুরু। একটু পর আলিসের আরেকটি ঘূর্ণিতে উপড়ে যায় সিনেথেম্বা কেশিলের স্টাম্প। চার দিনের ম্যাচের সিরিজে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও একটি সেঞ্চুরি করা কিপার-ব্যাটার এবার ফেরেন ৫ রানে। নতুন ব্যাটসম্যান ম্যাথু ডি ভিলিয়ার্স এলবিডব্লিউ প্রথম বলেই।
এরপর রিশাদ আক্রমণে এসে দ্রুত দুই উইকেট নিয়ে আরও চেপে ধরেন প্রোটিয়াদের। অধিনায়ক মার্কেস অ্যাকারম্যান তিনে নেমে আগলে রাখেন এক প্রান্ত। ষষ্ঠ উইকেটে তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন কাইল সিমন্ডস।
সাইফ হাসানের টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারার পরের বলেই বিদায় নেন সিমন্ডস। জুটি থামে ৩১ রানে। ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি সেটিই।
রিশাদের ফ্লাইট ও টার্নে বিভ্রান্ত হয়ে অ্যাকারম্যানের ইনিংস থামে ৫৪ রানে। এরপর প্রোটিয়াদের হয়ে লড়াই করেন ৯ নম্বরে নামা ইমরান মানাক। তার ৪৩ রানের ইনিংসে ১৮০ ছাড়াতে পারে দল।
স্পেলের শেষ বলে দারুণ টার্নিং ডেলিভারিতে মানাককে বোল্ড করে রিশাদ গুটিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে।
রান তাড়ায় সাইফের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে অনায়াসেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ ‘এ’ দল। বাউন্ডারির স্রোতে ৪০ বলেই ফিফটি করে ফেলেন তিনি। তাতে চার ছিল ৮টি, ছক্কা ২টি।
এরপর আরও একটি করে চার ও ছক্কা মেরে বাঁহাতি স্পিনার সিমন্ডসের বলে স্টাম্পড হন তিনি ৫৩ বলে ৬১ রান করে। পারভেজ হোসেন ইমন ১৭ রান করে ফেরেন সিমন্ডসের বলেই।
নাঈম ও নুরুল হাসান সোহান তৃতীয় উইকেটে দলকে নিয়ে যান জয়ের কাছে। ৮ উইকেটের জয় মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু হুট করে দ্রুত তিনটি উইকেট পড়ে যায়।
সিমন্ডসের টার্নিং ডেলিভারিতে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হন নাঈম। ৭৭ বলে ৬০ রান করেন অভিজ্ঞ ওপেনার। ডিয়ান ফরেস্টারের বলে পুল করে সোহান ফেরেন ১৬ রান করে। জয়ের একদম কাছে গিয়ে আউট হন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। যদিও আউট নিয়ে বেশ অসন্তুষ্টি দেখান তিনি।
ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে পাঁচে নামা রিশাদ হোসেন কাজ শেষ করেন আফিফ হোসেনকে নিয়ে। ১৭ ওভার বাকি রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ ‘এ।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল: ৪০ ওভারে ১৮২ (হামজা ৩১, মুনসামি ১, অ্যাকারম্যান ৫৪, কেশিলে ৫, ডি ভিলিয়ার্স ০, এমপংওয়ানা ৫, ফরেস্টার ৬, সিমন্ডস ১৫, মানাক ৪৩, মোরেকটি ৯, চেলে ৪*; সাইফ উদ্দিন ৬-১-৩০-১, মুশফিক ৮-০-৩৩-১, আলিস ১০-০-৩৫-৩, রিশাদ ১০-০-৪৫-৪, সাইফ হাসান ৫-০-২৩-১, আল ফাহাদ ১-০-১১-০)।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৩৩ ওভারে ১৮৫/৫ (সাঈফ ৬১, নাঈম শেখ ৬০, পারভেজ ১৭, সোহান ১৬, রিশাদ ৫*, সাইফ উদ্দিন ৩, আফিফ ৬*; চেলে ৫-২-১৯-০, মানাক ১০-০-৭৬-১, মোরেকি ৫-০-৪০-০, সিমন্ডস ১০-০-৩৬-৩, ফরেস্টার ৩-০-১৩-১)।
ফল: বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ১-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: রিশাদ হোসেন।