Published : 11 May 2026, 11:34 AM
শেষ ওভারে রোমারিও শেফার্ড যখন আউট হলেন, ডাগআউটে মাথায় হাত দিয়ে নুইয়ে পড়লেন ভিরাট কোহলি। শেষ ভরসাও যে শেষ! সেই কোহলি লাফিয়ে উঠলেন একটু পরই। ১০ নম্বরে নেমে ভুবনেশ্বর কুমার যে চোখধাঁধানো শটে ছক্কা মেরে দিয়েছেন!
ম্যাচের প্রথম ভাগে ভুবনেশ্বর যা করেছেন, এরপর আর কিছু না করলেও চলত। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের বিপক্ষে দারুণ বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছেন চারটি। কিন্তু ম্যাচের শেষ সময়ে ব্যাট হাতেও নামতে হলো তাকে। সেখানে তার অসাধারণ শটের ছক্কাই গড়ে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অভিজ্ঞ পেসার ম্যাচের পর বললেন, চার উইকেটর চেয়ে ছক্কাটিই তিনি বেশি উপভোগ করেছেন।
রায়পুরে রোববার ম্যাচের প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বর ফেরান রায়ান রিকেলটনকে। এরপর রোহিত শার্মা দুটি চার ও ছক্কা মেরে বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে রোহিতকেও থামান ভুবনেশ্বর, পরের বলেই বিদায় করে দেন সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে। পরে শেষ দিকে ফিরে তিনি আউট করে দেন মুম্বাইয়ের সর্বোচ্চ স্কোরার ৫৭ রান করা তিলাক ভার্মাকে।
চার ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি।
তার কাজ সেখানেই শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ব্যাটিংয়েও শেষ দিকে দায়িত্বটা এসে পড়ে তার ওপর। ওই সময়ে ঝড় তোলার কাজ যার, সেই শেফার্ড ১১ বলে ৪ রান করে আউট হন শেষ ওভারের তৃতীয় বলে।
১০ নম্বরে নামেন ভুবনেশ্বর। বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন তখন ৩ বলে ১০ রান। বোলার রাজ আঙ্গাদ বাওয়া পরের বলটি করেন ওয়াইড। তখনও মুম্বাইয়ের জয় মনে হচ্ছিল কেবলই সময়ের ব্যাপার।
পরের বলটি রাজ করেন স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ ধরনের, অনেকটাই ইয়ার্কার মতো। ভুবনেশ্বর বলের নিচে নিয়ে গিয়ে দারুণ এক লফটেড শট খেলেন, এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে বল চলে যায় গ্যালারিতে। কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানও সেই শট খেলতে পারলে গর্ববোধ করতেন।
পরের বল থেকে আসে সিঙ্গল। শেষ বলে বোলারের ফিল্ডিংয়ের ভুলে দুটি রান নিয়ে বাঁধনহারা আনন্দে মেতে ওঠেন ভুবনেশ্বর ও বেঙ্গালুরুর সবাই।

বোলিং পারফরম্যান্সেই ম্যাচ-সেরা হতে পারতেন ভুবনেশ্বর। সেখানে যোগ হয় শেষের ছক্কা। ম্যান অব দা ম্যাচ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোনটিকে তিনি হৃদয়ে লালন করবেন, অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সহাস্যে বললেন, “নিশ্চিতভাবেই ছক্কা….! বোলিং তো কতই করি, উইকেটও নেই অনেক অনেক। কিন্তু এটিই (ছক্কা) সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি।”
এই ম্যাচই শুধু নয়, মৌসুমজুড়েই দুর্দান্ত বোলিং করে চলেছেন ভুবনেশ্বর। ১১ ম্যাচ ২১ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। বোলারদের দুঃস্বপ্নের এই আসরে ওভারপ্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৭.৪৬ করে। পাওয়ার প্লেতে রান দিয়েছেন ওভারপ্রতি মাত্র ৭ করে, শেষের ওভারগুলোয় ৭.৮৩ করে।
গত মৌসুমেও তার শিকার ছিল ১৭ উইকেট। দেশের হয়ে সবশেষ খেলেছেন তিনি ২০২২ সালের নভেম্বরে। জাতীয় দল থেকে এখন তিনি অনেক দূরে। এ ৩৬ বছর বয়সে নিজেকে কীভাবে অনুপ্রাণিত রাখেন, সেই প্রশ্নের তার উত্তরটি হলো ছক্কার ওই শটের মতোই।
“সত্যি বলতে, অনুপ্রেরণা শব্দটি আমার কাছে খুবই ‘ওভাররেটেড।’ কোনো উক্তি পড়েন, কোনো ভিডিও দেখেন, আর কয়েক মিনিটের জন্য অনুপ্রাণিত হন। কিন্তু সেই অনুপ্রেরণা খুব দ্রুতই মিলিয়ে যায়। আমাকে যা এগিয়ে নিয়ে যায়, তা হলো শৃঙ্খলা।”
“হ্যাঁ, দলে ফিজিও এবং ট্রেনার আছেন, কিন্তু আমার বাড়িতেও ফিজিও এবং ট্রেনার আছেন। তারাও আমার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করেন। তারা আমাকে ফিট থাকতে সাহায্য করেন, কৃতিত্বটা তাদেরও প্রাপ্য।”
এখন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে খেলেন না ভুবনেশ্বর। শুধু টি-টোয়েন্টিই খেলছেন। আইপিএলের আগে নিজেকে প্রস্তুত করে তোলেন তিনি ইউপি টি-টোয়েন্টি লিগ ও সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে।
“ভালো ব্যাপার হলো, সারা বছর ধরে ছন্দে থাকার জন্য যথেষ্ট ম্যাচ অনুশীলন করতে পাচ্ছি এবং নিজেকে চাঙা রেখে শক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট বিরতিও পাচ্ছি। ইউপি টি-টোয়েন্টি এবং মুশতাক আলি টুর্নামেন্টে খেলি, আর ছন্দে থাকার জন্য এটাই আমার জন্য যথেষ্ট অনুশীলন।”
“যখন আইপিএল আসে, অবশ্যই তখন অনুশীলনের ধরনটা অন্যরকম হয়, কারণ মুশতাক আলি ট্রফি এবং ইউপি টি-টোয়েন্টির মান একটু আলাদা। যখন আইপিএলে ফিরে আসি, আমাদের ক্যাম্প থাকে এবং আমার যা যা করা দরকার, তা-ই করি।”