উইলিয়ামসনের ডাবল সেঞ্চুরির পর পাকিস্তানের ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই
৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নামবে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের মাটিতে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নামার উপলক্ষটা দারুণ এক ইনিংসে রাঙালেন কেন উইলিয়ামসন। তার রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরিতে বড় লিড পেল নিউ জিল্যান্ড। দিনের শেষ দিকে পাকিস্তানের দুই উইকেট নিয়ে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করল তারা। শেষ দিনে পাকিস্তানের সামনে এখন করাচি টেস্ট বাঁচানোর লড়াই।
উইলিয়ামসনের দ্বিশতক ও ইশ সোধির ফিফটির সুবাদে ৯ উইকেটে ৬১২ রানে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে নিউ জিল্যান্ড। ১৭৪ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করে ২ উইকেট হারিয়ে ৭৭ রানে।
নিউ জিল্যান্ডকে আবার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে স্বাগতিকদের এখনও প্রয়োজন ৯৭ রান। ৮ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দিনের চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে হবে তাদের। আর কিউইরা চাইবে প্রতিপক্ষকে যত দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে ম্যাচের ফল বের করতে।
নিউ জিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেওয়ার নায়ক উইলিয়ামসন। ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরিতে তিনি খেলেন ঠিক ২০০ রানের অপরাজিত ইনিংস। তার ৩৯৫ বল ও ৫৯৩ মিনিট স্থায়ী ইনিংসে ১ ছক্কার সঙ্গে চার ২১টি।
কিউইদের হয়ে সবচেয়ে বেশি দ্বিশতক এখন উইলিয়ামসনের। ছাড়িয়ে গেছেন তিনি চারটি ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে।
উইলিয়ামসনের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৫৪ রানের জুটিতে সোধি খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ৬৫ রানের ইনিংস। তার আগের সেরা ছিল ৬৩।
৬ উইকেটে ৪৪১ রান নিয়ে বৃহস্পতিবার খেলতে নেমে সাবধানী শুরু করেন উইলিয়ামসন ও সোধি। দিনের ১৮তম বলে প্রথম রানের দেখা পায় নিউ জিল্যান্ড।
১০৫ রান নিয়ে খেলতে নামা উইলিয়ামসন ১১৬ রানে বাঁচেন রিভিউ নিয়ে। এরপর সোধির সঙ্গে জমে ওঠে তার জুটি। তৃতীয় নতুন বল নিয়েও তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে পারছিল না পাকিস্তান। দুইজনে কাটিয়ে দেন প্রথম সেশন। তখন নিউ জিল্যান্ডের রান ৬ উইকেটে ৫১৯।
লাঞ্চ বিরতির পর পঞ্চম ওভারে আবরার আহমেদকে চার মেরে ১৩৭ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন সোধি। চার বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট ফিফটি পেলেন তিনি। পরের ওভারে মির হামজাকে চার মেরে দেড়শতে পা রাখেন উইলিয়ামসন।
লিড বাড়াতে থাকা এই জুটি শেষ পর্যন্ত ভাঙে আবরারের বলে। মিড-অফে বাবরকে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় সোধির ১১ চারের ইনিংস। পরের দুই ওভারে আরও দুই উইকেট হারায় কিউইরা।
নুমানের বলে ছক্কার চেষ্টায় ক্যাচ তুলে দেন টিম সাউদি। নিল ওয়্যাগনারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন আবরার। তিন টেস্টের ক্যারিয়ারে এই লেগ স্পিনারের এটি দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট।
এগারো নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে এজাজ প্যাটেল ক্রিজে আসার সময় ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে উইলিয়ামসনের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। তবে হিসেবী ঝুঁকি নিয়ে ঠিকই কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পা রাখেন তিনি।
উইলিয়ামসন ডাবল সেঞ্চুরি ছুঁতেই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় নিউ জিল্যান্ড। দর্শক, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, সতীর্থদের অভিবাদন নিতে নিতে মাঠ ছাড়েন তিনি।
তৃতীয় সেশনে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল পাকিস্তানের। দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৯ ওভার কাটিয়ে দেন আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক। জমে যাওয়া ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মাইকেল ব্রেসওয়েল।
উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে মিড-অনে ধরা পড়েন ২ চারে ১৭ রান করা শফিক। দিনের শেষ দিকে বিদায় নেন শান মাসুদও। সোধির লেগ স্পিনে হন এলবিডব্লিউ। বাঁচতে পারেননি রিভিউ নিয়েও।
নাইটওয়াচম্যান নুমান আলিকে নিয়ে বাকিটা কোনোমতে কাটিয়ে দেন ইমাম। ৫ চারে ৪৫ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। নুমান খেলছেন ৪ রান নিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৩৮
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৯৪.৫ ওভারে ৬১২/৯ ডিক্লে. (আগের দিন ৪৪০/৬) (উইলিয়ামসন ২০০*, সোধি ৬৫, সাউদি ০, ওয়্যাগনার ০, এজাজ ০*; হামজা ২৬-৩-৮৩-০, ওয়াসিম ৩৪-৬-১০৫-১, আবরার ৬৭.৫-৮-২০৫-৫, নুমান ৬৩-৫-১৮৫-৩, বাবর ৪-১-১১-০)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩১ ওভারে ৭৭/২ (শফিক ১৭, ইমাম ৪৫*, মাসুদ ১০, নুমান ৪*; সাউদি ৬-৩-৮-০, এজাজ ৯-১-২৯-০, ব্রেসওয়েল ৯-১-২৩-০, সোধি ৭-১-১৭-১)
