Published : 12 Sep 2026, 09:05 PM
একের পর এক সিরিজ, বিভিন্ন সংস্করণে টানা খেলা। সামনের সময়টায় বলা যায়, দম ফেলার ফুরসত থাকবে না ক্রিকেটারদের। নির্বাচক কমিটি, টিম ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্টদের জন্যও সময়টা খুব চ্যালেঞ্জিং হওয়ার কথা। তবে এই চ্যালেঞ্জ সামলানোর প্রস্তুতিও আছে বিসিবির। বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইন-চার্জ শাহরিয়ার নাফীস জানালেন, এই সময়টার জন্য অনেক আগে থেকেই আগেই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন তারা।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমস দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ দলের তুমুল ব্যস্ত সময়। এই আসরের পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হবে একটি টেস্ট এই ম্যাচ শেষে সেখানেই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। ওই সিরিজ চলাকালে বাংলাদেশে চলে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্ট খেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়াল দেবে দল। সেখানে পূর্ণাঙ্গ সফরে দুই টেস্টের পাশাপাশি আছে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি। আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই ব্যস্ততা।
এই সময়টায় ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি, বিভিন্ন সংস্করণের দল বাছাই করা, ওয়ার্কলোড সামলানো, সবকিছুর সমন্বয়ের কাজটি সহজ নয়। বিশেষ করে, বাংলাদেশের মতো দলে, যেখানে এত বেশি ব্যস্ততা সাধারণত থাকে না। সংশ্লিষ্ট সবার জন্যই তাই এই সময়টা কঠিন এক পরীক্ষা।
মিরপুরে শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শাহরিয়ার বললেন, এই পরীক্ষায় উতরানোর জন্য তারা ‘হোমওয়ার্ক’ সেরে রেখেছেন দীর্ঘ সময় ধরেই।
“পরিকল্পনার দিক থেকে আমরা সঠিক পথেই আছি। সবকিছু নির্দিষ্ট করা আছে। এমন কী, প্রস্তুতির পরিকল্পনা কিন্তু… ২০২৬ সালের অনুশীলনের পরিকল্পনা ২০২৫ সালেই করা হয়েছে। আমরা মোটামুটি জানি কখন কী খেলা হবে। আবার, ২০২৭ সালের পরিকল্পনা ২০২৬ সালে করা হয়ে যাবে। আমাদের প্রজেকশন আগে থেকেই থাকে, তারপর সমন্বয় করা হয়।”
আপাতত সামনের দুই সফরের প্রস্তুতি পরিকল্পনার কিছুটা ছবি মেলে ধরলেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ইন-চার্জ।
“সব সংস্করণে ওভাবেই অনুশীলন সেশনগুলো পরিকল্পনা করব। যেখানে যে সিরিজের জন্য, যে সংস্করণের জন্য যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেই অনুশীলন আমরা ওভাবেই করব। বাংলাদেশের যে দল এশিয়ান গেমসে যাবে, আগামীকাল (রোববার) থেকে তাদের স্কিল অনুশীলন শুরু হবে। আজ (শনিবার) সকাল থেকে আফগানিস্তান সিরিজের বাকি ক্রিকেটাররা…আফগানিস্তানে (সংযুক্ত আরব আমিরাতে) টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলব, আমাদের যে ক্রিকেটাররা এশিয়ান গেমসে নেই, তাদের নিয়ে একটা কন্ডিশনিং ক্যাম্প ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ক্যাম্প আরব আমিরাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চলতে থাকবে।
যখন আমাদের দুই দল দুই জায়গায় চলে যাবে, বাকি খেলোয়াড়রা কিন্তু এনসিএলে (জাতীয় লিগ) চলে যাবে। এর মধ্যে আবার যখন সংস্করণ অনুযায়ী পরিবর্তন হবে, তখন সেই প্রস্তুতির জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেটা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
টানা খেলা থাকায় ক্রিকেটারদের চোট সমস্যা অন্যতম দুশ্চিন্তা হয়ে উঠতে পারে। জুলাই-অগাস্টে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া এইচপি ও ইমার্জিং দলের ব্যস্ততার সময় এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিলেন নির্বাচকরা।
জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বললেন, চোট সমস্যার পাশাপাশি ওয়ার্কলোডের বিষয়টি মাথায় রেখে দল সাজাবেন নির্বাচকরা।
“চার-পাঁচ বছর আগের চিন্তা করেন, অনেক সিরিজ কিন্তু আমাদের সেরা ক্রিকেটারদের দিয়ে খেলিয়েছি। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা গত দুই-তিন বছর যেভাবে পারফরম্যান্স করে আসছে… এখন আমাদের পুল অফ প্লেয়ার্স বেড়েছে। আমরা চিন্তা করতে পারছি কাকে বিশ্রাম দেব, কাকে বিশ্রাম দেব না, রোটেশন হবে নাকি হবে না। এটা টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের ওপর বর্তায় এবং তারাই এই ব্যাপারে সঠিক উত্তর দিতে পারবেন।
আমি এতটুকু বলতে পারি খেলোয়াড়দের ওয়ার্কলোড, কাকে কোথায় খেলাতে হবে, কোথায় খেলাতে হবে না, এই ব্যাপারটায় আমরা খুব সচেতন। আমরা এই ব্যাপারটাকে খুব ইতিবাচকভাবে এখন থেকে ম্যানেজ করছি। হয়তো তিন-চার বছর আগে আমরা এই অবস্থানটায় ছিলাম না।”
জাতীয় দলের খেলার বাইরে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বেড়েছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির টুর্নামেন্ট কাউন্টি খেলছেন দুই বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ ও খালেদ আহমেদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
জাতীয় দলের বাইরে খেললেও তাদের ওয়ার্কলোড ঠিকভাবে দেখভাল করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাহরিয়ার নাফিস।
“আমাদের ক্রিকেটাররা, সে বাসায় থাকুক, কাউন্টিতে থাকুক বা সিপিএলে থাকুক, আমাদের মেডিকেল টিম, আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট সার্বক্ষণিকভাবে তাদের উন্নতি এবং শারীরিক পরিস্থিতি দেখভাল করে। যখন একটা ক্রিকেটার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে যায়, তখন আমাদের মেডিকেল টিমের সঙ্গে তাদের একটা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকে। ওই ওয়ার্কলোডটা আমরা ওভাবেই ম্যানেজ করে থাকি।”