Published : 11 Sep 2026, 06:27 PM
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে দল থেকে বাদ পড়ে দেশে ফিরতে না ফিরতেই ঝামেলায় পড়েছেন মোহাম্মাদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হাক। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এই দুই ক্রিকেটারকে লাহোরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
লর্ডস টেস্টে হারের পর টেস্ট দলের সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তান। তাদের মধ্যে আছেন রিজওয়ান ও ইমাম। পাকিস্তানে ফেরার পরপরই এই দুইজনকে ডেকে পাঠায় এনসিসিআই। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির সামনে হাজির হন তারা।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর খবর, অন্তত একজন ক্রিকেটার এনসিসিআই-তে কয়েক ঘণ্টা ছিলেন। শুধু তাই নয়, অন্তত একজনকে একটি প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। সেটির উত্তর দিয়ে আগামী সপ্তাহে এনসিসিআইএর কাছে জমা দিতে হবে তাকে।
তবে ঠিক কী বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এটা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নিজস্ব তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিজেদের তদন্তের কথা জানিয়েছিল পিসিবি। তখন কোনো ক্রিকেটারের নাম উল্লেখ করেনি বোর্ড। তবে তারা জানিয়েছিল, ‘শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন’ পর্যালোচনার পর অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত শুরু করেছে। পিসিবি বলেছিল, এই প্রক্রিয়া ‘পিসিবির বিধিমালা অনুযায়ী’ পরিচালিত হচ্ছে।
লিডসে প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে পাকিস্তান। পরে লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর দলের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টেও বড় পরিবর্তন আনে তারা। প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়।
ইংল্যান্ড সফরে ভালো করতে পারেননি রিজওয়ান। চার ইনিংসে করেন ১২, ৪১, ৭ ও ১ রান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। তবে দুই সফরেই উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগ পর্যন্ত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করা ব্যাটসম্যানও ছিলেন তিনি। তবে লর্ডসে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১ রানে আউট হওয়ার সময় তার খেলা শট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে ইমামের বাঁ পায়ের পেশিতে গ্রেড-১ চোট ধরা পড়ে। পাকিস্তানের দুই ইনিংসেই ব্যাটিং করতে নামেননি তিনি। শেষ দিনের সকালে ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্ম-আপে হালকা নকডাউন অনুশীলনের জন্য মাঠে এসেছিলেন ইমাম। তবে তার এই চোটকে অনেকে ‘অভিনয়’ বলেছেন। পিসিবির প্রধান নির্বাচক ও হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ প্রকাশ্যেই তুলেছেন প্রশ্ন। এমনকি এ নিয়ে তদন্তেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
দলে ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এর পেছনে আরও কিছু বিষয় কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি, যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।