১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

জয়সওয়ালের ১৬১ ও কোহলির সেঞ্চুরিতে ভারতের রান পাহাড়ের পর চাপে অস্ট্রেলিয়া

পার্থ টেস্টে ৫৩৪ রানের লক্ষ্যে ১২ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে স্বাগতিকরা।

জয়সওয়ালের ১৬১ ও কোহলির সেঞ্চুরিতে ভারতের রান পাহাড়ের পর চাপে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম টেস্টেই ১৬১ রানের ইনিংস খেললেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2024, 02:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:58 AM

জশ হেইজেলউডের শর্ট বলে র‍্যাম্প শট খেললেন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল। বল পড়ল বাউন্ডারি কুশনে, ছক্কা; আগের দিন জাগানো সেঞ্চুরির সম্ভাবনা পেয়ে গেল পূর্ণতা। সেখানে না থেমে আরও অনেকদূর এগিয়ে গেলেন ভারতীয় ওপেনার। দীর্ঘ দিনের খরা কাটিয়ে বহুকাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন ভিরাট কোহলিও। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল ভারত।

সেই রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় সামান্য কিছু সময় ব্যাটিং করেই হারের ঘোর শঙ্কায় পড়ে গেছে তারা।

জয়সওয়াল ও কোহলির নৈপুণ্যে পার্থে ৬ উইকেটে ৪৮৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করেছে ভারত। প্রথম ইনিংসে ১৫০ রান করেও চমৎকার বোলিংয়ে লিড নেওয়া সফরকারীরা প্রতিপক্ষকে ছুঁড়ে দিয়েছে ৫৩৪ রানের বিশাল লক্ষ্য।

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৫০০ রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪১৮ রানের লক্ষ্যে জয় এখন পর্যন্ত রেকর্ড।

পাহাড় টপকানোর প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যে শুরুটা খুব বাজে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। স্রেফ ১২ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। এখনও পিছিয়ে ৫২২ রানে।

অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে না পারা জয়সয়াওল দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৬১ রান। তার ২৯৭ বল ও ৪৩২ মিনিট স্থায়ী চমৎকার ইনিংসটি গড়া ৩ ছক্কা ও ১৫ চারে।

টেস্টে এটি জয়সয়াওলের চতুর্থ শতক। চারটি সেঞ্চুরিকেই দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসে রূপ দিয়েছেন ২২ বছর বয়সী তরুণ।

টানা ব্যর্থতার ধারায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্টের প্রথম ইনিংসেও ৫ রানে আউট হন কোহলি। ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয়ভাগে তিনি খেললেন ২ ছক্কা ও ৮ চারে ১৪৩ বলে ঠিক ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস। টেস্টে এটি তার ৩০তম সেঞ্চুরি; সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হয়ে গেল ৮১টি। তার সেঞ্চুরির পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় ভারত।

টেস্টে দীর্ঘ ১৬ মাস পর সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন কোহলি। এর আগে ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করণে সবশেষ তিন অঙ্কের দেখা তিনি পেয়েছিলেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, ত্রিনিদাদ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন ১২১ রানের ইনিংস।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণের হিসেবে অপেক্ষাটা আরেকটু কম। গত বছরের নভেম্বরে ওয়াংখেড়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ১১৭ রান করেছিলেন কোহলি।

কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৭২ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে ভারত। দিনের পঞ্চম ওভারে সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ৯০ রান নিয়ে খেলতে নামা জয়সওয়াল, ২০৫ বলে। পরের ওভারের প্রথম বলেই অল্পের জন্য রান আউট হওয়া থেকে বেঁচে যান এই তরুণ ব্যাটসম্যান।

ওই ওভারের শেষ বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন ৬২ রান নিয়ে দিন শুরু করা লোকেশ রাহুল। ৫ চারে ৭৭ রানে থামে তার ১৭৬ বলের ইনিংস। ভাঙে ২০১ রানের উদ্বোধনী জুটি।

এরপর দেবদূত পাডিক্কালকে নিয়ে দলের রান বাড়াতে থাকেন জয়সওয়াল। জমে ওঠে তাদের জুটিও। প্রথম সেশনে এই জুটির প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। লাঞ্চের পর প্রথম বলেই ভাঙে ৭৪ রানের যুগলবন্দি; হেইজেলউডের বলে স্লিপে ধরা পড়েন পাডিক্কাল।

কিছুক্ষণ পর ২৭৫ বলে ১৫০ স্পর্শ করেন জয়সওয়াল। তার চোখধাঁধানো ইনিংসটি থামে মিচেল মার্শের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে। আউট হওয়ার ধরনে হতাশায় কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রাখেন এই বাঁহাতি।

ন্যাথান লায়নের বলে স্টাম্পড হয়ে ১ রানে বিদায় নেন রিশাভ পান্ত। প্যাট কামিন্সের বলে এলবিডব্লিউ হন ধ্রুভ জুরেল। ৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানো দলকে এরপর টানেন কোহলি। শুরুতে সাবধানী ব্যাটিংয়ে এগোন তিনি। রানের খাতা খোলেন দশম বলে। প্রথম বাউন্ডারি পান ২২তম বলে। পরে ছন্দ খুঁজে পান ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেট। ফিফটিতে পা রাখেন ৯৪ বলে।

আরেকপ্রান্তে কোহলিকে দারুণ সঙ্গ দেন ওয়াশিংটন সুন্দার। তাদের জুটিতে আসে ৮৯ রান। ওয়াশিংটনের বিদায়ের পর কোহলির সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটি গড়েন নিতিশ কুমার রেড্ডি।

মার্নাস লাবুশেনকে চার মেরে বহুকাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন কোহলি। এর পরপরই ইনিংস ঘোষণার ডাক দেন ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাসপ্রিত বুমরাহ।

প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া বুমরাহ অস্ট্রেলিয়া আবার ব্যাটিংয়ে নামামাত্রই প্রথম ছোবল দেন; ইনিংসের চতুর্থ বলে এলবিডব্লিউ হন অভিষিক্ত ন্যাথান ম্যাকসুয়েনি। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা প্যাট কামিন্সকে টিকতে দেননি মোহাম্মদ সিরাজ। বুমরাহর বল ছেড়ে দিয়ে মার্নাস লাবুশেন এলবিডব্লিউ হলে শেষ হয় দিনের খেলা। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ব্যাটসম্যান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত ১ম ইনিংস: ১৫০

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১০৪ 

ভারত ২য় ইনিংস: ১৩৪.৩ ওভারে ৪৮৭/৬ ডিক্লে. (আগের দিন ১৭২/০) (জয়সয়াওল ১৬১, রাহুল ৭৭, পাডিক্কাল ২৫, কোহলি ১০০*, পান্ত ১, জুরেল ১, ওয়াশিংটন ২৯, নিতিশ ৩৮*; স্টার্ক ১২-২-৪৩-০, হেইজেলউড ১০-৫-৯-০, কামিন্স ১৩-২-৪৪-০, মার্শ ৬-০-২৭-০, লায়ন ১৩-৩-২৮-০, লাবুশেন ২-০-২-০, হেড ১-০-৮-০)

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৫৩৪) ৪.২ ওভারে ১২/৩ (ম্যাকসুয়েনি ০, উসমান ৩*, কামিন্স ২, লাবুশেন ৩; বুমরাহ ২.২-১-১-২, সিরাজ ২-০-৭-১)

১৬ মাস পর টেস্ট সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়ায় কোহলি