১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুরিয়াভানশির ৯৬ ছাপিয়ে গিলের ১০৪, ফাইনালে গুজরাট

বড় জয়ে পাঁচ মৌসুমের মধ্যে তিনবার আইপিএলের ফাইনালে উঠল গুজরাট টাইটান্স।

সুরিয়াভানশির ৯৬ ছাপিয়ে গিলের ১০৪, ফাইনালে গুজরাট
প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলের প্লে-অফে দুটি সেঞ্চুরি করলেন শুবমান গিল। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 May 2026, 12:42 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

ব্যাট হাতে আবারও জ্বলে উঠলেন বৈভাব সুরিয়াভানশি। যদিও ফের অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না তিনি। দুইশ ছাড়ানো সংগ্রহ নিয়ে পাত্তা পেল না তার দল রাজস্থান রয়্যালস। অধিনায়ক শুবমান গিলের অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে আইপিএলের ফাইনালে উঠল গুজরাট টাইটান্স।

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাটের জয় ৭ উইকেটে।

নিউ চান্ডিগাড়ে শুক্রবার ২০ ওভারে রাজস্থান করে ৬ উইকেটে ২১৪ রান। গুজরাট লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে আট বল হাতে রেখে।

পাঁচ মৌসুমের মধ্যে তিনবার ফাইনালে পা রাখল ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন গুজরাট। আগামী রোববার শিরোপা লড়াইয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখোমুখি হবে গিলের দল।  

সুরিয়াভানশি ছাড়া রাজস্থানের আর কেউ এ দিন পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি। আগের ম্যাচে এলিমিনেটরে ২৯ বলে ৯৭ রান করা বাঁহাতি ওপেনার এবার করেন ৪৭ বলে ৯৬। আট চার ও সাত ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি।

রেকর্ডের বন্যা বইয়ে নিজের দ্বিতীয় আইপিএল অভিযান শেষ করলেন তিনি ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে আসরের সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান করে। আইপিএলের এক আসরে আগের সর্বোচ্চ ক্রিস গেইলের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড ভেঙে তা ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে গেলেন ১৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান (৭২টি)।      

ম্যাচের দ্বিতীয়ভাগে সব আলো কেড়ে নেন গিল। ১৫ চার ও তিন ছক্কায় ৫৩ বলে ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ তিনিই।

প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলের প্লে-অফে দুটি সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ২০২৩ সালে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেই মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ৬০ বলে ১২৯ রান করেছিলেন তিনি একই দলের হয়ে। 

রান তাড়ায় গিল ও সাই সুদার্শানের দারুণ ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু পায় গুজরাট। পাওয়ার প্লেতে তারা তোলে বিনা উইকেটে ৬৯ রান।

৩০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন গিল। ফিফটি ছুঁতে সুদার্শানের লাগে ২৬ বল।

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সুদার্শান (৩২ বলে ৫৮) হিট উইকেট হয়ে বিদায় নিলে ভাঙে ১৬৭ রানের উদ্বোধনী জুটি।

আইপিএলে মোট তিনবার এভাবে আউট হলেন তিনি, একবারের বেশি হননি আর কেউ। ছেলেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার চেয়ে বেশিবার এমন অভিজ্ঞতাও হয়নি কারো। তিনবার করে আছে আন্দ্রে রাসেল ও শোয়েব মালিকেরও।

আইপিএলের প্লে-অফে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি এই ১৬৭। ২০১১ সালের ফাইনালে মাইক হাসি ও মুরালি ভিজায়ের ১৫৯ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনো উইকেটে গিল ও সুদার্শানের শতরানের জুটি হলো ১১টি, যা বিশ্ব রেকর্ড।

সুদার্শানের বিদায়ের পরের ওভারেই রাভিন্দ্রা জাদেজাকে চার মেরে গিল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৭ বলে।

আইপিএলে তার পঞ্চম সেঞ্চুরি এটি, অধিনায়ক হিসেবে দ্বিতীয়। অধিনায়ক হিসেবে একাধিক সেঞ্চুরি আছে আর কেবল দুজনের- লোকেশ রাহুল (২টি), ভিরাট কোহলি (৫টি)।

সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর বেশিক্ষণ টেকেননি গিল। তবে গুজরাটের জয় নিয়ে ভাবতে হয়নি। 

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দুই ওভারে ইয়াশাসভি জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেলকে হারায় রাজস্থান। 

সবসময় শুরু থেকে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চড়াও হলেও, এ দিন একটু ভিন্ন চেহারায় দেখা যায় সুরিয়াভানশিকে। ফিফটি করেন তিনি ৩১ বলে। আইপিএলে তার মন্থরতম ফিফটি এটি।

এরপর ঝড় তোলেন তিনি। ফিফটি পর্যন্ত কেবল দুটি ছক্কা মারলেও, পরের চার ওভারে ছক্কা হাঁকান পাঁচটি। আরেকটি ছক্কার চেষ্টাতেই আগের ম্যাচের মতো শর্ট বলে থার্ডম্যানে ধরা পড়েন তিনি সেঞ্চুরির দুয়ারে গিয়ে।

জাদেজা (৩৫ বলে ৪৫*) ও ডনোভান ফেরেইরার (১১ বলে ৩৮*) ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংসে দুইশ ছাড়াতে পারে রাজস্থান। কিন্তু বোলিংয়ে লড়াই জমাতেই পারল না তারা।