Published : 06 Nov 2025, 11:32 PM
আগের ম্যাচ যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন কুইন্টন ডি কক। দুই বছর পর ওয়ানডেতে ফিরে প্রথম ম্যাচে ফিফটির পর এবার রান তাড়ায় করলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। বিশাল জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের জয় ৮ উইকেটে। ফয়সালাবাদে বৃহস্পতিবার ২৭০ রানের লক্ষ্য ৫৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
এই সংস্করণে পাকিস্তানের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় জয় এটি। ২০২৩ বিশ্বকাপে চেন্নাইয়ে ২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় জয় আছে ওপরে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই জয়ের নায়ক ৩২ বছর বয়সী ডি কক। ২২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ৭ ছক্কা ও ৮ চারে ১১৯ বলে অপরাজিত ১২৩ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান এই কিপার-ব্যাটসম্যান।
ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন টনি ডি জর্জিও। ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৩ বলে ৭৬ রান করেন ২৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
দ্বিতীয় উইকেটে ডি কক ও ডি জর্জি মিলে গড়েন ১৫৩ রানের জুটি। পাকিস্তানের মাটিতে দলটির বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। ২০০৭ সালে মুলতানে গ্রায়েম স্মিথ ও শন পোলকের ১৫৯ রানের জুটি এখানে সর্বোচ্চ।
ভাগ্যের ছোঁয়াও পান অবশ্য দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১৫ রানে জীবন পান ডি কক, ৫৪ রানে ডি জর্জি।
পাকিস্তানের শুরুটা ছিল নড়বড়ে। প্রথম পাঁচ ওভারের মধ্যে তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো দলটি আড়াইশ ছাড়াতে পারে তিন ফিফটিতে।
১০৬ বলে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন সালমান আলি আগা। ওপেনার সাইম আইয়ুব করেন ৬৬ বলে ৫৩। সাত নম্বরে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৫৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ নাওয়াজ। তার নৈপুণ্যেই মূলত শেষ ১০ ওভারে ৯০ রান তুলতে পারে স্বাগতিকরা।
সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার দুই বোলার বাঁহাতি পেসার নান্দ্রে বার্গার ৪৬ রানে ৪টি ও লেগ স্পিনার নাকাবা পিটার ৫৫ রানে নেন ৩টি উইকেট।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই ফাখার জামানকে হারায় পাকিস্তান। পরের ওভারে বাবর আজমকে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার, রিভিউ নিয়ে বাঁচেন ব্যাটসম্যান।
তবে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। একই ওভারে বিদায় নেন সাবেক দুই অধিনায়ক বাবর ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
বাবর টানা তিন ওয়ানডে ইনিংসে দুই অঙ্ক ছুঁতে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার করলেন ১১। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি-খরা পৌঁছে গেল টানা ৮১ ইনিংসে, সবশেষ সেঞ্চুরিটি ২০২৩ এশিয়া কাপে নেপালের বিপক্ষে।
রিজওয়ান দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা চার ওয়ানডে ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর এবার ফিরলেন ৪ রানে।
প্রথম তিন উইকেটই নেন বার্গার। পঞ্চম ওভারে পাকিস্তানের স্কোর তখন ৩ উইকেটে ২২।
শুরুর ধাক্কা সামলে চতুর্থ উইকেটে ৯২ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাইম ও সালমান। ৬১ বলে ফিফটির পর আর বেশিক্ষণ টেকেননি সাইম। ভালো করতে পারেননি হুসাইন তালাত।
৮২ বলে ফিফটি করে এগিয়ে যান সালমান। ৪১তম ওভারে তাকে থামান কর্বিন বশ। ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৮ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ফাহিম আশরাফ।
শেষ ওভারে পিটারকে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে পঞ্চম বলে থামেন নাওয়াজ। শেষ বল ছক্কায় ওড়ান নাসিম শাহ।
প্রথম ম্যাচে ওয়ানডে অভিষেকে ৬০ বলে ৫৭ রান করা লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস রান তাড়ায় এদিনও শুরুটা করেন দারুণ। তরুণ ওপেনার দ্বিতীয় ওভারে তিনটি চার মারেন নাসিমকে। ১৮ রানে তার ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি নাসিম। জীবন পেয়ে, পরের ওভারে তিনি চার ও ছক্কা মারেন শাহিন শাহ আফ্রিদিকে।
পাওয়ার প্লেতে দক্ষিণ আফ্রিকা করে বিনা উইকেটে ৬৮ রান, যেখানে প্রিটোরিয়াসের অবদান ৩৬ বলে ৪৫। তাকে (৪০ বলে ৪৬) ফিরিয়ে ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
ফাহিমকে ছক্কায় উড়িয়ে ডি কক ফিফটি করেন ৪৮ বলে। ডি জর্জি শুরুটা করেন ধীরলয়ে। একপর্যায়ে তার রান ছিল ২৮ বলে ২২। মোহাম্মদ নাওয়াজের এক ওভারে দুই ছক্কা ও এক চারে স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে নেন তিনি, ফিফটি করেন ৪০ বলে।
৯৮ থেকে দুই রান নিয়ে ডি কক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৬ বলে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির সংখ্যায় তার (২২) ওপরে আছেন কেবল এবি ডি ভিলিয়ার্স (২৫) ও হাশিম আমলা (২৭)।
জয় থেকে ৩৬ রান দূরে থাকতে ডি জর্জির বিদায়ের পর, ম্যাথু ব্রিটস্কিকে নিয়ে বাকিটা সারেন ডি কক।
একই মাঠে সিরিজের ফয়সালা হবে আগামী শনিবার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৬৯/৯ (ফাখার ০, সাইম ৫৩, বাবর ১১, রিজওয়ান ৪, সালমান ৬৯, তালাত ১০, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৫৯, ফাহিম ২৮, আফ্রিদি ১, ওয়াসিম ১২*, নাসিম ৬*; বার্গার ১০-০-৪৬-৪, বশ ১০-১-৫৮-২, ফোরটান ১০-০-৪৬-০, ফেরেইরা ১০-০-৪১-০, লিন্ডা ২-০-১৯-০, পিটার ৮-০-৫৫-৩)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৪০.১ ওভারে ২৭০/২ (প্রিটোরিয়াস ৪৬, ডি কক ১২৩*, ডি জর্জি ৭৬, ব্রিটস্কি ১৭*; আফ্রিদি ৭-০-৪১-০, নাসিম ৬-১-৩৪-০, সাইম ৩.১-০-২২-০, ওয়াসিম ৮-০-৪৮-১, সালমান ৩-০-২৪-০, ফাহিম ৬-০-৪০-১, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৪-০-৩৭-০, তালাত ৩-০-২১-০)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৮ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে প্রথম দুটির পর ১-১ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক