২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বিস্ফোরক সেঞ্চুরিতে মার্শের ‘প্রথম’, সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার

অধিনায়কের খুনে ইনিংসে নিউ জিল্যান্ডকে তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও হারিয়ে দিয়েছে সফরকারীরা।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Oct 2025, 04:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:24 PM

সিরিজের প্রথম ম্যাচে সম্ভাবনা জাগিয়েও তিন অঙ্ক ছুঁতে না পারার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়া মিচেল মার্শ এবার ভুল করলেন না। খুনে ব্যাটিংয়ে প্রথমবার পেলেন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরির স্বাদ। অধিনায়কের একার লড়াইয়ে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে শনিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার জয় ৩ উইকেটে। মার্শের বিস্ফোরক ইনিংসের সৌজন্যে প্রতিপক্ষের ১৫৬ রান ১২ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।

তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-০তে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ভেসে যায় বৃষ্টিতে।

২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ১৯ টি-টোয়েন্টি খেলে এনিয়ে ১৬ ম্যাচ জিতল অস্ট্রেলিয়া। দুটি হেরেছে তারা, পরিত্যক্ত হয়েছে একটি।

বে ওভালে এদিন রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের দুই-তৃতীয়াংশ রানই করেন মার্শ। ইনিংস শুরু করতে নেমে ৭ ছক্কা ও ৮ চারে ৫২ বলে ১০৩ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন তিনি। প্রথম ম্যাচে রান তাড়ায় চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৮৫ রান করেছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এটি মার্শের তৃতীয় সেঞ্চুরি। আগের দুটি ছিল আইপিএল ও বিগ ব্যাশে। দেশের জার্সিতে তার আগের সেরা ইনিংস ছিল ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৯২। এবার নিজেকে ছাড়িয়ে সেঞ্চুরির অনির্বচনীয় স্বাদ নিলেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন কোনো অস্ট্রেলিয়ান। আর রান তাড়ায় এই সংস্করণে শতক করা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান মার্শ।

অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কদের মধ্যে মার্শের ১০৩ রানের ইনিংসটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৬ সালে শেন ওয়াটসন ভারতের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৪ এবং দুই বছর পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অ্যারন ফিঞ্চ ১৭২ রান করেছিলেন। 

আইসিসির পূর্ণ সদস্য দলগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে লক্ষ্য তাড়ায় সেঞ্চুরি করা দ্বিতীয় অধিনায়ক মার্শ। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বাবর আজম দুইবার রান তাড়ায় পেয়েছিলেন তিন অঙ্কের স্বাদ।  

জবাব দিতে নেমে একপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। দলটির প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের পাঁচজনই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি। তাদের ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি নেই একটিও।

সতীর্থদের ব্যর্থতার দিনে চমৎকার ব্যাটিংয়ে একাই দলের রানের চাকা সচল রাখেন মার্শ। তৃতীয় ওভারে ম্যাট হেনরিকে তিন বলে দুটি চার ও ছক্কা মারেন তিনি। পরের ওভারে ট্রাভিস হেড বিদায় নিলেও দলকে চাপে পড়তে দেননি মার্শ।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বেন সিয়ার্সকে দুটি করে ছক্কা ও চার হাঁকান মার্শ। প্রথম ৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার ৬২ রানের মধ্যে ৪১ রানই তার। 

ম্যাথু শর্টকে ফেরানোর পর নিজের পরের ওভারে টিম ডেভিড ও অ্যালেক্স কেয়ারিকে ড্রেসিং রুমে পাঠান জিমি নিশাম। মাঝের ওভারে ইশ সোধিকে দুটি ছক্কায় ওড়ান মার্শ। দ্বিতীয় ছক্কায় ২১ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি।

মার্কাস স্টয়নিস, মিচেল ওয়েনও টিকতে পারেননি। তবে রানের চাকা থামতে দেননি মার্শ। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি, ৫০ বলে। পঞ্চাশ থেকে শতকে পৌঁছাতে ২৯ বল লাগে তার, এই সময়ে মারেন দুটি ছক্কা ও ৪টি চার।

মার্শের সেঞ্চুরি ছোঁয়া ওভারের শেষ বলে চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন শন অ্যাবট।

ম্যাচের প্রথমভাগে আলো ছড়ান অস্ট্রেলিয়ার বোলাররা। তিন পেসার জশ হেইজেলউড, জাভিয়ের বার্টলেট ও অ্যাবটের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি নিউ জিল্যান্ড।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দলটির শিবিরে ম্যাচের ষষ্ঠ বলেই ছোবল দেন হেইজেলউড, শূন্য রানে ফেরেন ডেভন কনওয়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যে টিম রবিনসন ও মার্ক চ্যাপম্যানকেও হারায় স্বাগতিকরা। দশম ওভারে বিদায় নেন ড্যারিল মিচেল।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একপ্রান্তে ৩ ছক্কা ও ৫টি চারে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন টিম সাইফার্ট। পরে মাইকেল ব্রেসওয়েলের ২৬ ও নিশামের ২৫ রানের সৌজন্যে কোনোমতে দেড়শ পার করে নিউ জিল্যান্ড।

৩ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার অ্যাবট। দুটি করে প্রাপ্তি হেইজেলউড ও বার্টলেটের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৬/৯ (সাইফার্ট ৪৮, কনওয়ে ০, রবিনসন ১৩, চ্যাপম্যান ৪, মিচেল ৯, ব্রেসওয়েল ২৬, নিশাম ২৫, হেনরি ৬, সিয়ার্স ০, সোধি ৯, ডাফি ১; হেইজেলউড ৪-০-২৬-২, বার্টলেট ৪-০-২৫-২, অ্যাবট ৪-০-২৫-৩, জ্যাম্পা ৪-০-৩০-১, স্টয়নিস ৪-১-৪৩-১)

অস্ট্রেলিয়া: ১৮ ওভারে ১৬০/৭ (মার্শ ১০৩, হেড ৮, শর্ট ৭, ডেভিড ৩, কেয়ারি ১, স্টয়নিস ২, ওয়েন ১৪, বার্টলেট ১, অ্যাবট ১৩; হেনরি ৪-০-২৭-০, ডাফি ৪-০-২৯-২, সিয়ার্স ৩-০-৪৫-১, নিশাম ৪-০-২৬-৪, সোধি ২-০-২৪-০, ব্রেসওয়েল ১-০-৭-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মিচেল মার্শ

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ২-০তে জয়ী অস্ট্রেলিয়া

ম্যান অব দা সিরিজ: মিচেল মার্শ