Published : 15 Sep 2026, 10:58 PM
ব্যর্থতার বলয় ভেঙে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি উপহার দিলেন ম্যাট রেনশ। সঙ্গে বাকিদের অবদানে প্রায় তিনশ রানের সংগ্রহ গড়ল অস্ট্রেলিয়া। পরে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আলো ছড়ালেন ন্যাথান এলিস। জিম্বাবুয়েকে অনায়াসে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
হারারেতে মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ৫৯ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ২৯৪ রানের পুঁজি গড়ে জিম্বাবুয়েকে ২৩৫ রানে গুটিয়ে দিয়েছে তারা।
এক যুগ পর জিম্বাবুয়ের মাটিতে ওয়ানডে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়ার দারুণ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন রেনশ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিতে ১০৯ রান করেন তিনি। তার ৯৪ বলের ইনিংসটি সাজানো তিনটি ছক্কা ও সাতটি চারে।
গত বছর ওয়ানডে অভিষেকের পর, দশম ম্যাচে এসে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন ৩০ বছর বয়সী রেনশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২২ বছর পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করলেন অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যান। ২০০৪ সালে হারারেতেই রান তাড়ায় ১০৫ রান করে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন মাইকেল ক্লার্ক।
তিনে নেমে তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৫১ রান করেন কুপার কনোলি। আর কেউ ৪০ রানও করতে পারেননি।
পরে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩১ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন এলিস। ২৩তম ওয়ানডে খেলতে নেমে এই কীর্তি গড়লেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার। এদিন পাঁচ উইকেট নেন জিম্বাবুয়ের পেসার নিউম্যান ন্যায়ামুরিও।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারে ব্র্যাড ইভান্সের বল স্টাম্পে টেনে আনেন ট্রাভিস হেড। সেই ধাক্কা সামাল দেয় তারা মিচেল মার্শ ও কনোলির ৫০ রানের জুটিতে।
ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি মার্শ। একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৩৬ রান করে ফেরেন ন্যায়ামুরির বলে। তিন ওভার পর জশ ইংলিসকে কট বিহাইন্ড করেন ন্যায়ামুরি। ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন কিপার ব্রেন্ডান টেইলর।
১৮তম ওভারের প্রথম বলে কট বিহাইন্ড হন কনোলি। কিন্তু রাজা ‘ফ্রন্ট ফুট নো বল’ করায় বেঁচে যান তিনি। পরের বলে ছক্কা মেরে ৪৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান। দুই বল পর তার স্টাম্প ভেঙে দেন রাজা।
কনোলির বিদায়ের পর ক্রিজে যান রেনশ। শুরুতে কিছুটা ধীর লয়ে এগোন তিনি। পরে টানা দুই ওভারে ব্রায়ান বেনেট ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে একটি করে ছক্কা মারেন। তাকে দারুণ সঙ্গ দেওয়া অ্যালেক্স কেয়ারিকে বিদায় করেন ইভান্স, ভাঙে ৭২ রানের জুটি।
কয়েক ওভার পর মাসাকাদজাকে ছক্কায় উড়িয়ে ৫৫ বলে ফিফটিতে পা রাখেন রেনশ। অলিভার পিককে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়েন তিনি। তাদের ৭৫ রানের বন্ধন ভাঙে পিক দুর্ভাগ্যজনকভাবে আউট হলে। ন্যায়ামুরির শর্ট অব লেংথ বল ক্রিজের গভীরে গিয়ে খেলার সময় তার পেছনের পা লেগে ভেঙে যায় স্টাম্প। ১৯৮৭ সালের পর ওয়ানডেতে এই প্রথম ‘হিট উইকেট’ হলেন অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্রিকেটার।
রানের গতি কিছুটা বাড়িয়ে ৮৬ বলে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখেন রেনশ। পঞ্চাশ থেকে শতক ছুঁতে তার লাগে ৩১ বল।
ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ছক্কার চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন রেনশ। তাকে ফিরিয়ে প্রথমবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পান সপ্তম ওয়ানডে খেলতে নামা ন্যায়ামুরি।
রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি জিম্বাবুয়ের। ৪৬ রানে টপ অর্ডারের তিনজনকে হারায় তারা। দ্বিতীয় ওভারে বেন কারানকে ফেরান জাভিয়ার বার্টলেট। নবম ওভারে জোড়া শিকার ধরেন এলিস। দ্বিতীয় বলে মিডউইকেটে ক্যাচ দেন ইনোসেন্ট কাইয়া, ওভারের শেষ বলে কট বিহাইন্ড হন ব্রায়ান বেনেট।
অভিজ্ঞ টেইলরকে টিকতে দেননি রেনশ। ৬২ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন রাজা ও ক্রেইগ আরভাইন। দুইজনই করেন ফিফটি। তাদের ব্যাটে দেড়শ ছাড়িয়ে যায় জিম্বাবুয়ের রান।
৫১ বলে ফিফটি করা আরভাইনকে বোল্ড করে ৯৮ রানের জুটি ভাঙেন এলিস। একটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ৫৯ রান করেন আরভাইন। রাজার স্টাম্প ভেঙে দেন ১৮ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নামা স্পেন্সার জনসন। পাঁচটি চারে ৫৭ রান করেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ৪৬ তম ওভারে ন্যায়ামুরিকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এলিস।
একই মাঠে দুই দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে আগামী শুক্রবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৯৪/৮ (মার্শ ৩৬, হেড ৪, কনোলি ৫১, ইংলিস ৪, কেয়ারি ২৭, রেনশ ১০৯, পিক ৩০, বার্টলেট ৫, এলিস ৯*, জ্যাম্পা ৩*; মুজারাবানি ১০-০-৪৬-০, ইভান্স ৯-০-৫১-২, ন্যায়ামুরির ৯-০-৬২-৫, রাজা ১০-০-৬২-১, মাধেভেরে ৩-০-১৮-০, বেনেট ৩-০-১৯-০, মাসাকাদজা ৬-০-৩৬-০)
জিম্বাবুয়ে: ৪৫.১ ওভারে ২৩৫ (বেনেট ২৫, কারান ০, কাইয়া ১৮, টেইলর ৪, আরভাইন ৫৯, রাজা ৫৭, মাধেভেরে ২২, ইভান্স ১৮, মাসাকাদজা ১৪, ন্যায়ামুরির ১, মুজারাবানি ০*; জনসন ৯-০-৪৪-১, বার্টলেট ৮¬¬¬-০-৪১-১, এলিস ৯.১-০-৩১-৫, রেনশ ৪-০-৩২-১, জ্যাম্পা ১০-০-৫৫-১, কনোলি ৪-০-২৩-১, পিক ১-০-৪-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ম্যাট রেনশ
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া