১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

লেগ স্পিনে স্বাধীনের চার উইকেট, অপরাজিত ৭৪ আজিজুল

আগের ম্যাচে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে হেরে গেলেও এবার ব্যাটে-বলে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সে বড় জয় পেয়েছে অনূর্ধ্ব-২৩ দল।

লেগ স্পিনে স্বাধীনের চার উইকেট, অপরাজিত ৭৪ আজিজুল
চার উইকেট শিকার করেন স্বাধীন ইসলাম। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 07:29 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে ফিটনেস অনুশীলনে মিরপুরে এসেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্ট অধিনায়ক কিছুক্ষণ উপভোগ করলেন খেলা। তার সঙ্গে ছিলেন হাই পারফরম্যান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলের নির্বাচকরা এবং কোচিং স্টাফদের কয়েকজন তো বরাবরের মতোই ছিলেন। তবে দুই দলের লড়াইটা আগের ম্যাচের মতো জমল না। অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে এবার ব্যবধান বুঝিয়ে দিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। 

জিডি (গেম ডেভেলেপমেন্ট) ট্রফিতে এই দুই দলের আগের লড়াইয়ে বড়দের চমকে দিয়েছিল ছোটরা। বড়দের জবাবটা এবার প্রত্যাশিতভাবেই হলো কড়া। ব্যাটে-বলে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে পাত্তা না দিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দল জিতল ৯ উইকেটে। 

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ১৮৯ রানে অলআউট হয় অনুর্ধ্ব-১৯ দল। জবাবে ১১১ বল বাকি রেখে ম্যাচ শেষ করে অনুর্ধ্ব-২৩ দল।

দারুণ বোলিংয়ে ১০ ওভারে ১৯ রানে চার উইকেট নেন অনুর্ধ্ব-২৩ দলের স্বাধীন ইসলাম। এই লেগ স্পিনারের ৪২ বল থেকেই আসেনি কোনো রান। ম্যাচ-সেরা অবশ্য তিনি নন। অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলে সেরা হয়েছেন আজিজুল হাকিম। 

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অনুর্ধ্ব-১৯ দলকে মোটামুটি ভালো শুরু এনে দেন জারিফ সিয়াম ও কাওসার আহমেদ। রানের গতি যদিও খুব ভালো ছিল না। একাদশ ওভারে দল পার হয় পঞ্চাশ। তবে এরপর মন্থর হয়ে পড়ে ইনিংস। পরের ছয় ওভারে রান আসে কেবল ১৪। কাওসারকে (৫২ বলে ২২) এলবিডব্লিউ করে উদ্বোধনী জুটি থামান স্বাধীন। 

দ্বিতীয় উইকেটে জারিফকে সঙ্গে নিয়ে আহসান আল মুমিন যোগ করেন ৩৩ রান। ৫৬ রান করা জারিফকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভাঙেন স্বাধীন। বাঁহাতি ওপেনারের ৭১ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচ চার ও এক ছয়।

দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর স্বাধীন ছোবল দেন মিডল অর্ডারেও। রৱকিবুল হাসান ও ফরিদ হাসান ফয়সালকে দ্রুত ফেরান তিনি। টিকতে পারেননি রাকিব খানও। 

তিনে নেমে বেশ কিছুক্ষণ এক প্রান্ত আগলে রাখা মুমিন আউট হয়ে যান ৩৫ রানে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লড়িয়ে স্কোরের আশা অনেকটাই শেষ হয়ে যায় তাতে। 

তার পরও দলটি দুইশর কাছে যেতে পারে মূলত মেহেরাব হোসেন সিজানের ক্যামিও ইনিংসে। ৯ নম্বরে নেমে দুটি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ রান করেন তিনি ৩৬ বলে। 

কালাম সিদ্দিকি ও আজিজুল হাকিম শেষ করেন ম্যাচ। ছবি: বিসিবি।

কালাম সিদ্দিকি ও আজিজুল হাকিম শেষ করেন ম্যাচ

আগের ম্যাচে ২২৭ রান তাড়ায় খুব কাছে গিয়ে হেরেছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এবার রান তাড়ায় এগিয়ে যায় তারা যেন স্রেফ তুড়ি বাজিয়েই। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলারদের লড়াইয়ের সুযোগই দেননি দুই ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিক ও আজিজুল হাকিম। শুরুর জুটিতেই জয় একরকম নিশ্চিত করে ফেলেন দুজন। 

সাবলীল ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১৩০ রান করে ফেলেন দুজন। ৭৪ বলে ৬৩ রান করা আদিলকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন জারিফ। ব্যস, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একমাত্র সাফল্য সেটিই।

অবিচ্ছিন্ন ৬১ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন আজিজুল ও অধিনায়ক কালাম সিদ্দিকি।  

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক অধিনায়ক আজিজুলের ৭৯ বলের ইনিংসে সাজানো পাঁচটি চারও ও দুই ছয়ে। ৪০ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত কালাম। 

হেরে গেলেও অনূর্ধ্ব-১৯ দল আগেই নিশ্চিত করেছে ফাইনাল। বড় অঘটন না ঘটলে বুধবারের ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দলই। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৯.৫ ওভারে ১৮৯/১০ (জারিফ ৫৬, কাওসার ২২, মুমিন ৩৫, রাকিবুল ২, ফরিদ ৭, রাকিব ৩, শাকিল ১৫, রবিউল ৬, মেহেরাব ৩৩*, রুবায় ০, আল আমিন ৫; তারেক ৯.৫-১-৩৬-২, রিজান ২-০-১৫-০, পারভেজ ১০-০-৩৩-১, আজিজুল ৬-০-২০-০, স্বাধীন ১০-১-১৯-৪, মাহফুজুর ৬-০-৩৭-০, আহরার ৬-০-২৬-১) 

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল: ৩১.৩ ওভারে ১৯১/১ (আদিল ৬৩, আজিজুল ৭৪*, কালাম ৩৯*; রুবায় ৬.৩-০-৩৪-০, আল আমিন ৩-০-১৯-০, রবিউল ৬-০-২৮-০, শাকিল ৩-০-২৫-০, রাকিবুল ৩-০-২২-০, জারিফ ৬-০-৩৩-১, মেহেরাব ৪-০-২৫-০)

ফল: বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল ৯ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: আজিজুল হাকিম।