১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

কিং ও দুই জোসেফের লড়াইয়ের পর ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার গ্রেনাডা টেস্টে দারুণ জমে উঠেছে লড়াই।

কিং ও দুই জোসেফের লড়াইয়ের পর ব্যর্থ অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার
৭৫ রানের ইনিংস খেলেন ব্র্যান্ডন কিং। ছবি: উইন্ডিজ ক্রিকেট ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2025, 10:33 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:19 PM

ব্র্যান্ডন কিং এতদিন পরিচিত ছিলেন সীমিত ওভারের বিশেষজ্ঞ হিসেবে। তবে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই তিনি দেখালেন, বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে ভালো করার রসদও তার আছে। তার পরও অবশ্য বিপদে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে আলজারি জোসেফ ও শামার জোসেফের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোরের কাছাকাছিই পৌঁছে গেল ক্যারিবিয়ানরা। ছোট লিডের পর ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়া আবারও দ্রুত হারাল দুই ওপেনারকে।

গ্রেনাডা টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে জমে উঠেছে লড়াই। দুই ইনিংস মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে ৪৫ রানে। উইকেট বাকি ৮টি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৫৩ রানে। ব্র্যান্ডন কিং উপহার দেন ৭৫ রানের ইনিংস। তবে অষ্টম উইকেটে দুই জোসেফের ৫১ রানের জুটি ছিল মহামূল্য।

৩৩ রানের লিড নিয়ে অস্ট্রেলিয়া আবার ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষ করে ২ উইকেটে ১২ রান নিয়ে।

আগের দিন আলোকস্বল্পতার কারণে ব্যাটিং করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার ব্যাটিংয়ে নেমে তারা ধাক্কা খায় দ্রুতই। 

শততম টেস্ট খেলতে নেমে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট শূন্য রানেই সহজ ফিরতি ক্যাচ দেন জশ হেইজেলউডকে। তিনে নামা কেসি কার্টির (৬) পরিণতিও ছিল একই। তাকে দুর্দান্ত এক ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ফেরান প্যাট কামিন্স। কার্টির ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে লেগে বল ওপরে উঠে গিয়েছিল। বল করে ফলো থ্রুতে নিজেকে সামলে চোখের পলকে ছুটে গিয়ে ব্যাটসম্যানের অনেকটা কাছে গিয়ে ফুল লেংথ ডাইভ দিয়ে এক হাতে ক্যাচ নেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। 

টেস্ট ইতিহাসে মাত্র অষ্টমবার, প্রথম দুই উইকেটের পতন হলো বোলারের হাতে ধরা পড়ে।

ওপেনার জন ক্যাম্পবেল অবশ্য শুরু থেকেই শট খেলে চেষ্টা করছিলেন চাপ ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ রান করে তিনি বাউ ওয়েবস্টারকে উইকেট উপহার দেন বাজে শটে।

৩ উইকেটে ৬৪ রান থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লাঞ্চ পর্যন্ত টেনে নেন কিং ও অধিনায়ক রোস্টন চেইস। তবে লাঞ্চের পর প্রথম ওভারেই বিদায় নেন চেইস (১৬)।

এরপরই ক্যারিবিয়ানরা পায় প্রথম অর্ধশত রানের জুটি। কিংকে সঙ্গ দেন শেই হোপ। অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের দারুণভাবে সামলে স্পিনার ন্যাথান লায়নের ওপর চড়াও হন কিং। প্রথম টেস্ট ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি ৭ চার ও ১ ছক্কায়।

ন্যাথান লায়নের শিকার তিন উইকেট, প্যাট কামিন্সের দুটি। ছবি: অস্ট্রেলিয়া মেন'স ক্রিকেট টিম ফেইসবুক।

ন্যাথান লায়নের শিকার তিন উইকেট, প্যাট কামিন্সের দুটি

এই জুটি থামে ৫৮ রানে। অনেকটা ভেতরে ঢোকা দুর্দান্ত ডেলিভারিতে হোপকে (২১) বোল্ড করেন কামিন্স। পরের ওভারেই লায়নের শিকার হন কিং। ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ১০৮ বলে ৭৫ করেন তিনি।

একটু পর যখন জাস্টিন গ্রেভসকেও বিদায় করেন লায়ন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ৭ উইকেটে ১৭৪। অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু দুই জোসেফের ব্যাটে ব্যবধান কমায় ক্যারিবিয়ানরা। দুই পেসারের ব্যাট থেকেই আসে দুটি করে ছক্কা। জুটির ফিফটি হয় ৬৬ বলে।

২৭ রানে আলজারি জোসেফকে ফিরিয়ে এই জুটিও ভাঙেন লায়ন। টানা ১৭ ওভারের স্পেল করেন এই অফ স্পিনার। শামার জোসেফকে ২৯ রানে বোল্ড করেন স্টার্ক।

ছোট লিডের পর ব্যাটিংয়ে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ব্যর্থ আরও একবার। প্রথম ওভারেই জেডেন সিলসের বল স্টাম্পে টেনে আনেন স্যাম কনস্টাস (০)। সিলসের বলেই আরও একবার রাউন্ড দা উইকেটে করা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন উসমান খাওয়াজা (২)।

ক্যামেরন গ্রিন ও নাইটওয়াচম্যান লায়ন পরের সময়টুকু পার করে দেন কোনোরকমে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২৮৬ 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ৭৩.২ ওভারে ২৫৩ (ব্র্যাথওয়েট ০, ক্যাম্পবেল ৪০, কার্টি ৬, কিং ৭৫, চেইস ১৬, হোপ ২১, গ্রেভস ১, আলজারি জোসেফ ২৭, শামার জোসেফ ২৯, ফিলিপ ১০, সিলস ৭*; স্টার্ক ১৩-১-৪৮-১, হেইজেলউড ১৪-৪-৪৩-২, কামিন্স ১৬-২-৪৬-২, ওয়েবস্টার ১০-৪-১৭-১, লায়ন ১৯-২-৭৫-৩, হেড ১.২-০-৩-১)

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৬ ওভারে ১২/২ (কনস্টাস ০, খাওয়াজা ২*, গ্রিন ৬*, লায়ন ২*; সিলস ৩-১-৫-২, শামার ২-০-৪-০, আলজারি ১-০-২-০)।