Published : 02 Sep 2025, 11:40 AM
জুলাই-অগাস্টে ইংল্যান্ডে সাবেক ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে খেলেছেন আসিফ আলি। অনেকেই তখন ধন্দে পড়ে গিয়েছিলেন, তিনি কি আদৌ অবসর নিয়েছেন! সেই সংশয়ের অবসান হলো টুর্নামেন্টটি শেষ হওয়ার এক মাস পর। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যান।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টুকটাক কিছু ক্যামিও ইনিংস ছাড়া খুব স্মরণীয় কিছু তিনি করেননি। বলা যায়, ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সাড়া জাগিয়েছিলেন তিনি একটি মন্তব্য করে। ২০২২ এশিয়া কাপের আগে বলেছিলেন, “অনুশীলনে আমি সাধারণত প্রতিদিন ১০০-১৫০ ছক্কা মারি, যাতে ম্যাচে ৪-৫টি ছক্কা মারতে পারি।” তার সেই দাবি পরে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছিল অনেক।
এখন বয়স তার মোটে ৩৩। ব্যাটসম্যানদের জন্য যেটি ফর্মের চূড়ায় থাকার সময়। তবে আসিফের ব্যাটে সুদিনের দেখা নেই অনেক দিন ধরেই। পাকিস্তানের হয়ে ওয়ানডেতে তাকে সবশেষ দেখা গেছে ২০২২ সালের এপ্রিলে, টি-টোয়েন্টিতে ২০২৩ এশিয়ান গেমসে।
সবশেষ পাকিস্তান সুপার লিগে ৭ ইনিংসে করতে পেরেছিলেন স্রেফ ৪১ রান। আগের পিএসএলে করেছিলেন ৬ ইনিংসে ৭২ রান। পাকিস্তান দলে ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই দেখেই হয়তো সাবেকদের ক্রিকেট আসরে খেলেছেন সম্প্রতি। খুব ভালো করতে পারেননি সেখানেও।
সব মিলিয়ে স্রেফ ২১ ওয়ানডে ও ৫৮ টি-টোয়েন্টিতেই শেষ হলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
২০১৮ পিএসএলের ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে টানা তিনটি ছক্কা মেরে ইসালামাবাদ ইউনাইটেডের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন আসিফ। পাকিস্তানের ক্রিকেটে তখন পাওয়ার হিটিং নিয়ে চলছে সঙ্কট। ঘরোয়া ক্রিকেটে খুব ধারাবাহিক না হলেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ভাবনায় ও মূলত ফিনিশার হিসেবে দ্রুতই তাকে জাতীয় দলে আনা হয়। ওই বছরই টেস্ট ও ওয়ানডেতে অভিষেক হয়ে যায় তার।
সেই প্রত্যাশা তিনি পাকিস্তানের জার্সিতে পূরণ করতে পেরেছেন কম সময়ই। তার ব্যাটিং পজিশন নিয়েও পাকিস্তানের নির্বাচকরা ও টিম ম্যানেজমেন্ট দ্বিধায় পড়েছে বারবার। তার ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মানানসই উপযুক্ত জায়গা তারা অনেক সময়ই বের করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে তার ক্যারিয়ারের ছবিটা খুব উজ্জ্বল নয়। ২১ ওয়ানডেতে ফিফটি করেছেন তিনটি, ২৫.৪৬ গড়ে রান ৩৮২। স্ট্রাইক রেট ঠিকই ছিল ১২১.৬৫। ৫৮ টি-টোয়েন্টিতে কোনো ফিফটি করতে পারেননি, সর্বোচ্চ ইনিংস ৪১ রানের। ১৫.১৮ গড়ে রান করেছেন ৫৭৭। স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৮৭।
দিনে ১০০-১৫০ ছক্কার অনুশীলন করে ছক্কার ঝড়ও খুব বেশি তুলতে পারেননি তিনি ম্যাচে। ওয়ানডেতে ১৬ ইনিংসে তার ছয় ২১টি, টি-টোয়েন্টিতে ৫১ ইনিংসে ৩৭টি।
তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ইনিংস বলা যায় ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। আফগানিস্তানের সঙ্গে যখন দুই ওভারে ২৪ রান প্রয়োজন পাকিস্তানের, এক ওভারেই চারটি ছক্কা মেরে দিয়েছিলেন তিনি। ৭ বলে ২৫ রান করে হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা।
পরের বছরর এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে যখন দরকার দুই ওভারে ২৬ রান, ভুবনেশ্বর কুমারের ওভারে এক ছক্কা ও দুই চার মেরে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় খেলে যাবেন তিনি।
“পাকিস্তানের জার্সি গায়ে দেওয়া ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সেরা সম্মান ও ক্রিকেট মাঠে দেশকে সেবার করতে পারা ছিল আমার সবচেয়ে গর্বের অধ্যায়।”
“কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়ে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি আমি। খেলাটির জন্য আমার আবেগ ও তাড়না মেলে ধরব আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে ও বিশ্বজুড়ে লিগগুলোয় খেলে।”