১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরাজ-অধ্যায়ের সমাপ্তি, লিটনের কাঁধে ওয়ানডের ভার

সাদা বলের দুই সংস্করণে অধিনায়ক একজনই, মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হলো লিটন কুমার দাসকে।

মিরাজ-অধ্যায়ের সমাপ্তি, লিটনের কাঁধে ওয়ানডের ভার
লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 29 Jul 2026, 10:45 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

ওয়ানডেতে আপাতত বাংলাদেশের কোনো খেলা নেই। তবে এই সংস্করণে বড় একটি পালাবদল হয়ে গেল। নেতৃত্ব হারালেন মেহেদী হাসান মিরাজ, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস পেলেন ওয়ানডে দলেরও দায়িত্ব।

বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, সাদা বলের ক্রিকেটের দুই সংস্করণে এক অধিনায়কের ভাবনা থেকেই এই পরিবর্তন এনেছেন তারা।

পরিবর্তন এসেছে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বেও। মিরাজের ডেপুটি ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার জায়গায় এখন টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি ওয়ানডের সহ-অধিনায়কও তাওহিদ হৃদয়। লাল বলের ক্রিকেটে কোনো পরিবর্তন নেই। সেখানে আগের মতোই অধিনায়ক শান্ত, সহ-অধিনায়ক মিরাজ।

গত বছরের জুনে আচমকাই শান্তকে সরিয়ে মিরাজকে ওয়ানডে অধিনায়ক করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। তখনই এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল অনেক। নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে টেস্ট দলের নেতৃত্বও ছেড়ে দেন শান্ত। পরে আবার তাকে বুঝিয়ে টেস্ট দলের দায়িত্বে ফেরানো হয়। তবে ওয়ানডের নেতৃত্বে মিরাজই রয়ে যান। উল্টো এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার মেয়াদ বাড়ানো হয় আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত। 

সেখানেই অবশেষে পরিবর্তন এলো। লিটনের মেয়াদও আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্তই। নানা সময়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে সাতটি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। 

মিরাজের নেতৃত্বে সম্প্রতি জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছে বাংলাদেশ। এর আগে দেশের মাঠে জিতেছে টানা চারটি সিরিজ। তবে এসব জয়-পরাজয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখেনি বলেই জানালেন তামিম। তিনি ব্যখ্যা করলেন সিদ্ধান্তের পেছনের ভাবনা।

"তিন সংস্করণে আমাদের তিনজন অধিনায়ক। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দুজন অধিনায়ক থাকা উচিত—সাদা বল এবং লাল বলের জন্য। এটা বলা খুবই জরুরি, মিরাজ অত্যন্ত সফল অধিনায়ক ছিল। গত পাঁচ সিরিজের চারটি সে জিতেছে।  ভালো করেছে। তবে আমার বিশ্বাস, পারফরমার মিরাজকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। পারফরমার হিসেবে মিরাজকে আমরা যেভাবে দেখতে অভ্যস্ত, সেভাবে দেখছি না সাম্প্রতিক সময়ে। এমন নয় যে সে পারফর্ম করছে না। কিন্তু যে লেভেলে আমরা দেখতে চাই, তা পারছে না এখন। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। বোলিংয়ে সে ভালোই করছে। সে পুরোনো ছন্দ ফিরে পেলে বাংলাদেশ দলই লাভবান হবে।

মিরাজের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, সে ব্যাপারটি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছে। সে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল, সব হয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলেছি, ব্যাখ্যা করেছি, সেও ব্যাখ্যা করেছে। সবকিছুর শেষে আমরা উভয়েই একটি জায়গায় সম্মত হয়েছি এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে। মিরাজের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান আছে। সামনে কখনও সে আবার নেতৃত্ব পেতে পারে। সীমিত সময়ে যে সার্ভিস অধিনায়ক হিসেবে দিয়েছে সে, আমরা তার প্রশংসা করি। সে তার সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছে। তার প্রতি কেবল আমাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই আছে।"

ভারপ্রাপ্ত ও নিয়মিত দায়িত্ব মিলিয়ে বাংলাদেশকে ২৪ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মিরাজ। সেখানে জয় ১০টি, পরাজয় ১৩টি। সাফল্যের হার ৪৩.৭৫ শতাংশ, অন্তত ১০ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। 

তিন সংস্করণে তিন অধিনায়ক রাখার একটি সঙ্কটের জায়গাও তুলে ধরলেন তামিম।

"তিন সংস্করণে আলাদা অধিনায়ক না রাখার একটি বড় কারণ হলো ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট। সম্প্রতি আমাদের অনেক ফাস্ট বোলার ইনজুরিতে পড়েছে। যখন তিনজন আলাদা অধিনায়ক থাকে, তখন প্রত্যেকেই চায় তার দলে সেরা বোলারটিকে খেলাতে। এতে ক্রিকেটারদের ওপর চাপ বাড়ে। এখন সাদা বল এবং লাল বলের দুই অধিনায়ক মিলে আরও ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে পারবে।"

নতুন অধিনায়ক লিটনকে নিয়ে বড় একটি দুর্ভাবনার জায়গা তার ব্যাটিং ফর্ম। প্রচণ্ড বাজে ফর্মের কারণে গত বছর ওয়ানডে দলে জায়গা হারিয়েছিলেন তিনি। পরে ফিরেছেন গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। ফেরার পর ৯ ইনিংসে দুটি ফিফটি করেছেন তিনি, তিনবার স্পর্শ করেছেন ৪০। তবে এই সংস্করণে কখনোই সেভাবে ধারাবাহিক হতে পারেননি। 

বিসিবি সভাপতি বললেন, মূলত নেতৃত্বগুণের কথা ভেবেই লিটনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

"তার (লিটন) লিডারশিপ কোয়ালিটি নিয়ে আমরা বেশ মুগ্ধ। এটাই মূল ব্যাপার। ক্রিকেটকে সে যেভাবে দেখে, যেভাবে পরিকল্পনা করে (সব প্রশংসনীয়)। সে ওয়ানডে দলে ফিরেছে কিছুদিন আগে, তবে এর মানে এই নয় যে দুই-তিন মাস ধরে ওয়ানডে খেলছে। অনেক বছর ধরেই ওয়ানডে খেলছে। তার নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি দলও ভালো করছে। অনেক কিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

সহ-অধিনায়ক হিসেবে হৃদয়কে বেছে নেওয়ার কারণও জানালেন তামিম।

"হৃদয় তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটার। আমরা চাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি করতে। শান্ত লাল বলের অধিনায়ক হিসেবে ভালো করছে, আর লিটন সাদা বলে অভিজ্ঞ। তাদের সঙ্গে হৃদয়কে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে সে শিখতে পারে। সবার সঙ্গে কথা বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"

সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজটি হলে সেটি দিয়ে শুরু হবে লিটন-হৃদয় জুটির নতুন পথচলা।