সাদা বলের সুইংয়ে বিস্মিত ভুবনেশ্বর
বরাবরই সুইং বোলিংয়ের সুনিপুণ শিল্পী ভুবনেশ্বর কুমার। শুধু সু্ইংয়ের কথা বললে, বিশ্ব ক্রিকেটে তার জুড়ি মেলা ভার। সেই তিনিও এবার বিস্মিত সাদা কুকাবুরার সুইং দেখে। ইংল্যান্ড-ভারতের চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাদা বল এত লম্বা সময় ধরে সুইং করবে, ভারতীয় এই পেসার তা ভাবতেও পারেননি।
ইংল্যান্ডে টেস্ট ম্যাচ হয় ডিউক বলে। খাড়া সিমের এই বল সাধারণত সুইং করে বেশি এবং অনেক বেশি সময় ধরে। বল নরম হয় না সহজে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গোটা বিশ্বেই খেলা হয় কুকাবুরা দিয়ে। এই বলে সুইং এমনিতে একটু কম হয় এবং বল একটু পুরোনো হলেই সুইং হারিয়ে যেতে থাকে।
তবে এবারের ইংলিশ গ্রীষ্মে দেখা যাচ্ছে উল্টো। ডিউক বল কম সুইং করেছে এবার, নরমও হয়ে গেছে দ্রুত। সাদা কুকাবুরা সুইং করছে তো করছেই!
সেটির সুফল ভুবনেশ্বর কুমার পাচ্ছেন পুরোপুরি। এমনিতেই তিনি সুইং করাতে দারুণ দক্ষ। এবার বল এতটা সুইং করছে যে তিনি নিজেও চমকে গেছে।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ভারতের টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলায় বড় অবদান অভিজ্ঞ এই পেসারের। প্রথম ম্যাচে প্রথম ওভারেই অসাধারণ এক সুইঙ্গিং ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করেন ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলারকে। সেদিন ৩ ওভারে মাত্র ১০ রান দেন তিনি।
দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার আবার তার সুইংয়ে খাবি খায় ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। এবার ইনিংসের প্রথম বলেই তিনি ফেরান বিপজ্জনক জেসন রয়কে। ৩ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচে সেরা হন ৩২ বছর বয়সী পেসার।
পরে ভুবনেশ্বরের সরল স্বীকারোক্তি, তার নিজের দক্ষতার পাশাপাশি পারিপার্শ্বিকতার অবদান আছে এমন বোলিংয়ে।
“সত্যি বলতে, আমি জানি না (বল কেন এত সুইং করছে)। এখানে (ইংল্যান্ডে) আমি বেশ কবারই এসেছি, আগের কয়েক সিরিজে এরকম সুইং করেনি বল।”
“সাদা বল এত সুইং করছে এবং এতক্ষণ ধরে সুইং করছে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে, এতে আমি নিজেও অবাক। উইকেটে আগের চেয়ে বাউন্সও বেশি দেখতে পাচ্ছি। বল বেশি সুইং করলে অবশ্যই বোলিং করে মজাও বেশি। তবে সত্যি বলতে, জানি না আমি নিজেই এত সুইং করাচ্ছি, নাকি কন্ডিশনের কারণে নাকি বলের কারণে। যেটাই হোক, সুইং করছে, এতেই আমি খুশি।”
তবে বল সুইং করছে বলেই যে প্রতি বলে জাদুকরি কিছু্র চেষ্টা করতে হবে, তা নয়। অভিজ্ঞতা থেকেই ভুবনেশ্বর জানেন, প্রক্রিয়া ঠিক রেখে ব্যাটসম্যানকে ফাঁদে ফেলাটা গুরুত্বপূর্ণ।
“বল সুইং করলে, সেটি নিঃসন্দেহে আমার শক্তির জায়গা। আমি তখন আক্রমণ করতে পারি। ব্যাটসম্যানরা যেমন নিষ্প্রাণ উইকেটে আগ্রাসী হয়ে ওঠে, শট খেলে অনেক, এই দুই ম্যাচে তেমনি বল সুইং করেছে এবং আমি আক্রমণ করেছি।”
“অতি উত্তেজিত হয়ে না পড়াটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মনে হয় যে একটির পর একটি ইনসুইঙ্গার করতেই থাকি। তবে সেই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ব্যাটসম্যানকে সেট-আপ করতে হবে।”
টি-টোয়েন্টি সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে রোববারই মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ভারত।
