Published : 06 Dec 2025, 08:20 PM
টানা খেলা থাকায় স্কিলের ঘাটতি নিয়ে কাজ করার সময় সুযোগ খুব একটা মেলে না। এবার বিপিএল শুরুর আগে মিলে গেল ছোট্ট একটু অবসর। সেই সময়টায় বসে না থেকে ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন ফিল সিমন্স, সোহাম্মদ সালাউদ্দিনরা।
শনিবার শুরু হওয়া এই ক্যাম্প চলবে আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুপুরে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে ‘গ্রানাইড স্ল্যাব’ বসিয়ে চলেছে ঘন্টা তিনেকের সেশন।
এই ক্যাম্পে ব্যাটসম্যানদের নির্দিষ্ট কিছু ঘাটতি পূরণ করতে চান কোচরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন চাপ মোকাবেলা, গতিময় ডেলিভারি মোকাবেলা, ডট বলের সংখ্যা কমানোর মতো ব্যাপারগুলো নিয়ে চলছে জোরদার অনুশীলন।
তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, সাইফ হাসান ও নুরুল হাসান সোহান আলাদা সেশনে ব্যাট করেছেন। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাউদ্দিন ও ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল দুজনেই পালা করে তাদের প্রতিটি শট, ফুটওয়ার্ক মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। ব্যাটসম্যানদের জন্য বোলিং মেশিনে বলের গতি রাখা হয়েছিল প্রতি ঘণ্টা ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। গতিময় ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যানদের আসল চ্যালেঞ্জ দেখার চেষ্টা করেছেন সিমন্স।
বিশেষ এই ক্যাম্পে তিনটি বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করেছেন কোচরা। তার চান, দ্রুতগতির বল খেলার সময় ব্যাটারদের মাথা ও পায়ের পজিশন যেন পুরোপুরি নিখুঁত থাকে। ব্যাটসম্যানরা টাইমিং করতে পারছেন কিনা, ব্যাটের কোথায় বল লাগছে- এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। লেংথ ডেলিভারি যেন ব্যাটের কানা না নেয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বারবার অনুশীলনে। অনুশীলনের প্রতিটি ডেলিভারির ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। সিমন্স ও সালাউদ্দিন ভিডিও দেখছেন এবং ঘাটতির জায়গাগুলো হাতে কলমে দেখিয়ে দিচ্ছেন।
তানজিদ যখন ব্যাকফুটে গিয়ে পুল বা ফ্লিক করছেন, তখন কোচরা দেখছেন ‘ওয়েট ট্রান্সফার’ ঠিক হচ্ছে কিনা। পারভেজের ড্রাইভের ক্ষেত্রে দেখা হচ্ছে, শট খেলার পর তিনি ভারসাম্য কতটা ধরে রাখতে পারছেন।
প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কোচ সালাউদ্দিন ক্যাম্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
‘আমাদের ব্যাটারদের দক্ষতার ঘাটতি আছে। সে নিয়ে কাজ করার জন্য আমরা তেমন কোনো সময় পাই না। কারণ এত ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি থাকে... তো এরকম একটা যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, খেলোয়াড়রা যেন আরেকটু ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারে...’’
‘‘আমরা ভালো ব্যাটিং করি কিন্তু হয়তো শটগুলো ফিল্ডারের হাতে চলে যায়। তাই কীভাবে ফাঁকা জায়গায় বল পাঠানো যায়, কীভাবে (সঠিক) শট নির্বাচন করতে হয়... শট ফিল্ডারের গা ঘেঁষে না পাঠিয়ে গ্যাপ খুঁজে বের করার কৌশল শেখানো হচ্ছে।’’
ঝুঁকি কমিয়ে কীভাবে নিয়মিত বাউন্ডারি ও সিঙ্গেলস আদায় করা শেখানো যায়, সেদিকেই সালাউদ্দিনদের মূল মনোযোগ। একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের ম্যাচের পরিস্থিতি নিজ থেকে বুঝতে পারার মতো মানসিক দিক নিয়েও কাজ করছেন তার।
‘‘এটা আমরা অনেক আগে থেকেই শুরু করেছি। বিশেষ করে দলীয় আলোচনায় খেলোয়াড়রা যেন একটু কথা বলে, খেলোয়াড়রা যেন দলীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ করে এবং তারাই যেন আলোচনার নেতৃত্ব দেয় ও তারাই যেন সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ দিনশেষে মাঠে তো তারাই খেলবে, আমরা খেলব না।’’
‘‘তারা যেন নিজেরাই নেতা হয়, নিজেরাই যেন দায়িত্বশীল হয় এবং তারা যেন নিজেদের কাজটি নিজেরাই করতে পারে। কারণ (কোনোসময়ই) প্রশিক্ষক খেলে দিতে পারবেন না, আর তারাই যদি নিজেদের সবচেয়ে ভালো প্রশিক্ষক হয়, তখন আমার মনে হয় যে তারা আরও উন্নত মানের ক্রিকেট খেলবে।’’