Published : 25 May 2026, 10:57 AM
টুর্নামেন্টজুড়েই প্রশ্নটি উঠেছে টুকটাক। আসর শেষে সেই প্রশ্ন আরও উচ্চকিত। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হিসেবে আসলেই কতটা উপযুক্ত হার্দিক পান্ডিয়া? শুধু বাইরে থেকেই নয়, মুম্বাই দলের ভেতরও পর্যালোচনা শুরু হয়ে গেছে। বিপর্যয়কর মৌসুম শেষে দলের ব্যাটিং কোচ কাইরন পোলার্ডের মন্তব্যে পরিষ্কার ইঙ্গিত, অধিনায়ক হিসেবে আরও একটি হতাশাজনক মৌসুম কাটানোর পর কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে পান্ডিয়ার নেতৃত্ব।
আইপিএলের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা প্লেঅফের লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছে বেশ আগেই। নিজেদের শেষ ম্যাচে রোববার তারা ঘরের মাঠে হেরে যায় রাজস্থান রয়্যালসের কাছে। চলতি মৌসুমে ১৪ ম্যাচে তাদের দশম হার এটি।
পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থাকা লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের সমান পয়েন্টই মুম্বাইয়ের। স্রেফ রান রেটে একটু এগিয়ে তলানি থেকে দুইয়ে তারা।
গত মৌসুমে বাজে শুরুর পরও অবশ্য প্লেঅফে জায়গা করে নিতে পেরেছিল মুম্বাই। কিন্তু আগের মৌসুমেই তারা ছিল ১০ দলের মধ্যে সবচেয়ে তলানিতে। হার্দিকের নেতৃত্বে তিন মৌসুমের দুটিতেই মহাবিপর্যয়ের পর তার নেতৃত্ব এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
যদিও গুজরাট টাইটান্সের নেতৃত্বে দারুণ সফল ছিলেন পান্ডিয়া। তার নেতৃত্বে ২০২২ আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় গুজরাট, পরের আসরে হয় রানার্স আপ। সেটি দেখেই তুমুল নাটকীয় দলবদলের মাধ্যমে পান্ডিয়াকে নিয়ে এসে অধিনায়ক করে মুম্বাই। কিন্তু এখানে মুখ থুবড়ে পড়ে তাদের পরিকল্পনা।
এবারের মৌসুম শেষে মুম্বাইয়ের কিংবদন্তি ও এখনকার ব্যাটিং কোচ পোলার্ড পরিষ্কার করেই জানালেন, তারা সবরকম সহায়তাই করেছেন পান্ডিয়াকে।
“নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে হার্দিকের ক্ষেত্রে… হ্যাঁ, ব্যক্তিগতভাবে সে যেমনটা চেয়েছিল তেমনটা হয়নি। ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ হিসেবে আমরাও হয়তো সেভাবে চাইনি। কিন্তু একটা কথা আপনাদের জানা উচিত যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং সফল হওয়ার জন্য তাকে সেরা সুযোগ করে দিতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই চেষ্টা করেছি।”
দলের ব্যর্থতার জ্য পোলার্ড অবশ্য শুধু পান্ডিয়ার নেতৃত্বকেই দায় দিচ্ছেন না।
“এখানে কেউ কারও দিকে আঙুল তুলবে না বা দোষ চাপাবে না। বিশেষ করে যখন দল যখন হেরে যায়, তখন বিষয়টাকে সম্মিলিতভাবে দেখতে হবে। কখনও জয় আসবে, কখনও পরাজয়। কিন্তু দিনের শেষে, কারও প্রচেষ্টা নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলব না”।
“সে (পান্ডিয়া) চেষ্টা করছিল, আমরা সবাই চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমরা একসঙ্গে বসে কথা বলি এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায়টা খুঁজে বের করি। কখন কী ঘটবে, কেউ বলতে পারে না। এই মুহূর্তে আমাদের শুধু নিজেদের ক্ষত সারিয়ে তোলার জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন এবং আশা করি, আগামী ১২ মাসের মধ্যে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।”
নেতৃত্ব বা বড় কোনো পরিবর্তন নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে রাখলেন পোলার্ড।
“এসব নিয়ে কথা বলার উপযুক্ত সময় এখন নয়। এসব সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নিলে তা আবেগপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। প্রত্যেকেরই বসে ভালোভাবে চিন্তা করার এবং আমাদের আসলে কোথায় ভুল হয়েছে, তা ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন করার জন্য সময় ও স্থানের প্রয়োজন। সেখান থেকেই উন্নততর সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়। আপনি যদি এখনই এখানে বসে বলেন যে আপনাকে এটা বা ওটা করতে হবে, তবে ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে তা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ হবে”।