১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ বলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হেরে রোহিত-সুরিয়াকুমারদের বিদায়

পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে গেল লখনৌ সুপার জায়ান্টসও।

শেষ বলের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে হেরে রোহিত-সুরিয়াকুমারদের বিদায়
এবারের আইপিএলে ১১ ম্যাচে অষ্টম হারের স্বাদ পেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ছবি: আইপিএল

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 May 2026, 01:13 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

ম্যাচের রঙ বদলাল বারবার। শেষের আগের ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের আশা জিইয়ে রাখলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। কিন্তু শেষ ওভারে রাজ বাওয়ার এলোমেলো বোলিংয়ে হেরে গেল তারা। একই সঙ্গে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল প্রথম পর্ব থেকে।

রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২ উইকেটে জিতেছে শিরোপাধারী রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। রায়পুরে রোববার ১৬৭ রানের লক্ষ্য শেষ বলে ছুঁয়ে ফেলেছে তারা।

বেঙ্গালুরুর জয়ে মুম্বাইয়ের সঙ্গে প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে লখনৌ সুপার জায়ান্টসও, যারা দিনের প্রথম ম্যাচে হেরেছে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে। 

রান তাড়ায় ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বেঙ্গালুরু। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে বিদায় নেন ভিরাট কোহলি। দেবদূত পাডিক্কাল, রাজাত পাতিদার, জ্যাকব বেথেলও ভালো করতে পারেননি।

টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে দলকে প্রায় একাই টানেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। ক্রাম্প নিয়েও ব্যাটিং চালিয়ে যান তিনি। ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৪৬ বলে ৭৩ রান করে ১৮তম ওভারের শেষ বলে যখন বিদায় নেন তিনি, বেঙ্গালুরুর দরকার তখন ১২ বলে ১৮ রান, হাতে উইকেট ৩টি। 

১৯তম ওভারে চমৎকার বোলিংয়ে স্রেফ ৩ রান দেন বুমরাহ। কোনো উইকেট না পেলেও চার ওভারে কেবল ২০ রান দিয়ে বোলিং শেষ করেন এই তারকা পেসার। 

শেষ ওভারে বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। নিজের প্রথম দুই ওভারে ২৪ রান দেওয়া মিডিয়াম পেসার রাজ বাওয়ার হাতে বল তুলে দেন মুম্বাইয়ের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ।

আসরে এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবার বোলিংয়ের সুযোগ পাওয়া বাওয়া শুরুতেই দেন একটি ওয়াইড। পরের ডেলিভারিতে ব্যাটসম্যান রান নিতে না পারলেও, ওভারস্টেপ করে ফেলেন বোলার, নো বল!

ফ্রি হিটে এক রানের বেশি নিতে পারেননি রোমারিও শেফার্ড। পরের ডেলিভারি আবার ওয়াইড, সঙ্গে বাই থেকে আসে আরও এক রান। বৈধ দ্বিতীয় বলে রান নিতে পারেননি শেফার্ড। পরের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। 

এরপর আবার ওয়াইড দেন ২৩ বছর বয়সী বাওয়া। চতুর্থ বল দারুণ শটে ডিপ কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে দেন পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। পঞ্চম বলে তিনি নেন এক রান।

শেষ বলে বেঙ্গালুরুর দরকার ছিল ২ রান, ১ রান হলে ম্যাচ গড়াতো সুপার ওভারে। ফুল লেংথ ডেলিভারি বোলার সোজা খেলেন রাকিশ সালাম। বাওয়া বল ঠেকালেও ধরে রাখতে পারেননি। এক রান পূর্ণ করে দ্বিতীয় রানের জন্য ছোটেন ব্যাটসম্যানরা। লং-অফ থেকে দৌড়ে গিয়ে বল ধরে ফিল্ডার থ্রো করেন কিপারকে। কিপার রায়ান রিকেলটন বল ধরে স্টাম্প ভাঙার আগেই ডাইভ দিয়ে ক্রিজে পৌঁছে যান রাকিশ। উল্লাসে মেতে ওঠে বেঙ্গালুরু শিবির।

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে এর আগে নামান ধির (৩২ বলে ৪৭) ও তিলাক ভার্মার (৪২ বলে ৫৭) ব্যাটে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি পায় মুম্বাই। ১০ বলে ২২ রান করেন রোহিত শার্মা। 

দারুণ বোলিংয়ে ২৩ রানে ৪ উইকেট নেন ভুবনেশ্বর। পরে ব্যাট হাতে শেষ ওভারে ওই মহামূল্যবান ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই। 

আসরে প্রথম ১১ ম্যাচের ৮টিই হারল মুম্বাই। সমান ম্যাচে সপ্তম জয়ে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে গেল বেঙ্গালুরু।

টানা দুই ম্যাচে শূন্য কোহলি