Published : 10 Aug 2026, 07:31 PM
জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তানজিদ হাসানের সামনে দারুণ এক স্বীকৃতির হাতছানি। ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ’ এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার। জুলাই মাসের সেরার লড়াইয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জাস্টিন গ্রেভস।
গত মাসের সেরার লড়াইয়ে জায়গা পাওয়া পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের নাম সোমবার প্রকাশ করেছে আইসিসি। মেয়েদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের ন্যাট সিভার-ব্রান্ট, শ্রীলঙ্কার হার্শিথা সামারাউইক্রামা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস।
তানজিদ হাসান (বাংলাদেশ)
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজেই সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান ছিলেন তানজিদ। দুই সংস্করণেই সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচে ৫৩.০০ গড় ও ৮৯.৮৩ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১৫৯ রান। এর মধ্যে শেষ দুই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৭ ও ৯৪ রানের ইনিংস।
সেই ফর্ম তিনি ধরে রাখেন টি-টোয়েন্টি সিরিজেও, তিন ম্যাচে ৭০.০০ গড় ও ১২৭.২৭ স্ট্রাইক রেটে করেন ১৪০ রান। বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে জেতা সিরিজে শেষ দুই ম্যাচে খেলেন ৫৮ ও অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস। জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার।
হ্যারি ব্রুক (ইংল্যান্ড)
ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে (৩ ম্যাচে ৩১ রান) ভালো করতে না পারলেও, টি-টোয়েন্টি সিরিজে উজ্জ্বল ছিলেব ব্রুক। ইংল্যান্ড অধিনায়ক চার ইনিংসে ১১৪.৫০ গড় ও ২১৪.০১ স্ট্রাইক রেটে করেন সিরিজের সর্বোচ্চ ২২৯ রান। জেতেন সিরিজসেরার পুরস্কার।
চতুর্থ ম্যাচে রান তাড়ায় ৩৫ বলে অপরাজিত ৭৯ ও শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে ৪৫ বলে অপরাজিত ৯৫ রানের দুটি ইনিংস খেলেন ব্রুক। ইংল্যান্ড সিরিজে জিতে নেয় ৪-০ ব্যবধানে।
জাস্টিন গ্রেভস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
গত মাসে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাট ও বল হাতে ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছেন গ্রেভস। অ্যান্টিগায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ড্র হওয়া দ্বিতীয় টেস্টে ৩২৫ বলে ১৮০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। সঙ্গে বল হাতে একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কারও জেতেন ৩২ বছর বয়সী পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ১-০তে সিরিজ জেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পরে ত্রিনিদাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আবারও জ্বলে ওঠেন গ্রেভস। প্রথম ইনিংসে তিনি ২৭ রানে নেন ৫ উইকেট। অবিশ্বাস্য এক স্পেলে টানা ৫ ওভারে কোনো রান না দিয়েই নেন ৫ উইকেট। দলের বড় জয়ের ওই ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২ রানে ২ উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ হন’ তিনি।
জুলাই মাসে দুই টেস্ট খেলে ৭১.৬৬ গড়ে ২১৫ রান করার পাশাপাশি ১০.২৫ গড়ে ৮টি উইকেট নেন গ্রেভস।
ন্যাট সিভার-ব্রান্ট (ইংল্যান্ড)
গত মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ম্যাচ খেলেন সিভার-ব্রান্ট। দেশের মাঠে উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোট কাটিয়ে ফিরে সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দলের বিপর্যয়ের মুখে ৪৭ বলে ৭৫ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন তিনি। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেন ৫৩ বলে অপরাজিত ৫৮। যদিও শিরোপা জিততে পারেনি তার দল। পরে লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তার ব্যাট থেকে আসে ৫৫ রান।
হার্শিথা সামারাউইক্রামা (শ্রীলঙ্কা)
ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সামারাউইক্রামা। প্রথম ম্যাচে দ্রুত আউট হয়ে গেলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে ১১৯ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন তিনি।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচেও রান তাড়ায় জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। এবার ৯২ বলে খেলেন অপরাজিত ৭১ রানের ইনিংস। তিন ম্যাচে ১৭৩.০০ গড় ও ৭৭.২৩ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৭৩ রান করে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
হেইলি ম্যাথিউস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জেতা ওয়ানডে সিরিজে ব্যাটে-বলে দাপট দেখান ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। প্রথম ম্যাচে ৫২ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর, ১২৩ বলে অপরাজিত ১৫৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৪ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর, ৯৪ বলে করেন ১০০ রান। দুই ম্যাচেই হন ‘প্লেয়ার অব দা ম্যাচ।’
তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে অল্পে আউট হলেও, ৩৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন ম্যাথিউস। তিন ম্যাচে ১৩২.৫০ গড়ে সিরিজের সর্বোচ্চ ২৬৫ রান করার পাশাপাশি বল হাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ উইকেট নেন তিনি। ২৮ বছর বয়সী অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার অনুমিতভাবেই জেতেন সিরিজসেরার পুরস্কার।