Published : 21 Jul 2026, 11:41 PM
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরে তিলাক ভার্মার ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট নিয়ে হয়েছে অনেক সমালোচনা। ভারতের টি-টোয়েন্টি সহ-অধিনায়ক বলছেন, ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে দলের প্রয়োজনই তার ব্যাটিং কৌশল নির্ধারণ করে।
এই দুই সফরে মোট সাতটি টি-টোয়েন্টিতে ১৩১.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১৭৮ রান করার পর সমালোচনার মুখে পড়েন তিলাক। যদিও দুটি ফিফটি করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫৫ রান করতে বল খেলেন তিনি ৪৬টি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য ২৫ বলে ৫৩ রান করেন ২৩ বছর বয়সী ক্রিকেটার। তবে মাঝের ওভারগুলোয় তার ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
গত দেড় বছরে ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তিলাকের স্ট্রাইক রেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮০-এর ঘরে, এখন তা ১৪০-এর ঘরে নেমে এসেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে আর প্রভাব রাখতে পারছেন না তিনি।
যদিও তার ব্যাটিংয়ের পজিশনও এখন বদলে গেছে। আগে যেখানে বেশিরভাগ সময় ব্যাটিং করতেন তিন বা চার নম্বরে, সেখানে এখন করেন পাঁচ কিংবা ছয় নম্বরে।
হারারেতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আগামী বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনার জবাবে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে তিলাক স্পষ্ট করে দিলেন, চাইলে প্রথম বল থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারেন তিনি, কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি ও দলের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করেই বেছে নেন খেলার ধরন।
“এই খেলায় বিভিন্ন জায়গায় ব্যাট করতে হয়, বিশেষ করে এমন কন্ডিশনে কাজটা সহজ নয়। একই সঙ্গে আমি সবসময় বলি যে, দলের জন্য যা প্রয়োজন, আমি তাই করি। যদি দলের জন্য ধীরে খেলতে হয়, তাহলে ধীরে খেলি। যদি আমাকে মারতে হয়, তাহলে মারি।
আমি গিয়ে প্রথম বল থেকেই মারতে পারি। কিন্তু আমি দেশের হয়ে খেলছি, তাই অনেক দায়িত্ব থাকে। যদি আমাকে দলের জন্য শেষ পর্যন্ত খেলতে হয়, তাহলে আমাদের দলীয় পরিকল্পনা বদলাতে থাকে।”
গত মাসে টি-টোয়েন্টির নেতৃত্বে বদল আনে ভারত। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় শ্রেয়াস আইয়ারকে, আর তার ডেপুটি করা হয় তিলাককে। কিন্তু তারপর থেকে এই সংস্করণে এখনও জয়ের দেখা পায়নি টানা দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা।
আয়ারল্যান্ডে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে দুই ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয় তারা। এরপর ইংল্যান্ডে গিয়েও চিত্র বদলায়নি। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৪-০ ব্যবধানে হারে তারা, একটি ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।
তিলাক বললেন, এই দুই সফরে ইনিংসের শুরুর দিকে অনেক বেশি উইকেট হারানোটাও তার ব্যাটিংয়ের ধরনে প্রভাব ফেলেছে।
“যদি গত সিরিজের দিকে তাকান, আয়ারল্যান্ড থেকে ইংল্যান্ড পর্যন্ত, আমরা পাওয়ারপ্লেতে চার-পাঁচটি উইকেট হারিয়েছি। তাই ব্যাটিংয়ে গিয়ে শুধু মারতে থাকার এবং আউট হয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না।”