১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের বিপক্ষে টেস্টে বিশ্রামে রাশিদ খান

৬ টেস্টে ৪৫ উইকেট নিলেও রাশিদ খানের টেস্ট ক্যারিয়ার এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 May 2026, 09:24 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:42 PM

টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন ভাবনার কথা মাস দেড়েক আগে বলেছিলেন রাশিদ খান। সেটির প্রতিফলনই পড়ল ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের টেস্ট স্কোয়াডে। আফগান বোলিং আক্রমণের মূল অস্ত্র থাকছেন না এই টেস্টে। এক টেস্ট ম্যাচের এই স্কোয়াডে নেই আফগান ব্যাটিংয়ের বড় ভরসা ইব্রাহিম জাদরানও।

পায়ের চোট থেকে সেরে ওঠার পথে থাকায় এই স্কোয়াডে নেই জাদরান। তবে রাশিদের না থাকা পুরোপুরিই তার টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন ভাবনার ফসল। সীমিত ওভারের মতো টেস্ট ক্রিকেটেও এখনও পর্যন্ত দারুণ সফল তিনি। মাত্র ৬ টেস্ট খেলেই উইকেট নিয়েছেন ৪৫টি। ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন ৫বার, ম্যাচে ১০ উইকেট ৩ বার। তবে পিঠের বড় চোটের পর লাল বলের ক্রিকেট নিয়ে তাকে সতর্ক করে দিয়েছেন চিকিৎসক।

গত মাসে তিনি সেটি তুলে ধরেছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করে টেস্ট খেলে বকুনি শোনার কথাও বলেছিলেন তিনি। 

“সবশেষ টেস্টে টেস্টে আমি ৬৭ ওভার (আসলে ৫৫) বল করেছিলাম, যা ছিল অবিশ্বাস্য। ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, ‘যদি তুমি আর ক্রিকেট খেলতে না চাও, তাহলে লাল বলের ক্রিকেটই খেলতে থাকো। কারণ এটা তোমাকে সাহায্য করবে না। আফগানিস্তানের হয়ে খেলার জন্য তুমি বেশিদিন থাকবে না।’ কিন্তু আমি তবুও গিয়েছিলাম এবং খেলেছিলাম।” 

“যখন তিনি জানতে পারলেন যে আমি দুই ইনিংসে ৬৭ ওভার (৫৫) বল করেছি, তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘না, তুমি নিজের সাথে এমনটা করতে পারো না'। তখন আমি বলেছিলাম যে, এটা নিয়ে ভাবব।”

সবশেষ টেস্ট ম্যাচটি রাশিদ খেলেন গত বছরের জানুয়ারি। ওই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫৫ ওভার বোলিং করলেও আগের টেস্টে বোলিং করেছিলেন প্রায় ১০০ ওভার। এর মধ্যে এক ইনিংসেই করেছিলেন ৬২.৫ ওভার!

চিকিৎসকের ওই পরামর্শের কথা বলার সময় রাশিদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বছরে একটি করে টেস্ট খেলতে পারেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি হবে লম্বা আইপিএল মৌসুম শেষেই। রাশিদের বিশ্রামের কারণও তাই অনুমিতই।

টেস্ট ম্যাচ শেষে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দলে অবশ্য আছেন রাশিদ ও জাদরান দুজনই।

প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে জায়গা পেয়েছেন রাহমানউল্লাহ জাদরান, নাঙ্গেয়ালিয়া খারোটে এবং বিলাল সামি। বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার খারোটে দেশের হয়ে ১০ ওয়ানডে ও ৭ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন, পেসার সামি খেলেছেন ২ ওয়ানডে ও ১ টি-টোয়েন্টি। 

টেস্ট-ওয়ানডে, দুই দলকে নেতৃত্ব দেবেন যথারীতি হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। 

টেস্ট ম্যাচটি হবে নিউ চান্ডিগাড়ে, যেটি শুরু ৬ জুন। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচ ১৩, ১৭ ও ২০ জুন ধারামসালা, লাক্ষ্নৌ ও চেন্নাইয়ে। 

আফগানিস্তান টেস্ট স্কোয়াড: হাশমাতউল্লাহ শাহিদি (অধিনায়ক), আব্দুল মালিক, সেদিকউল্লাহ আটাল, রেহমাত শাহ, রাহমানউল্লাহ গুরবাজ, রাহমানউল্লাহ জাদরান, আফসার জাজাই (উইকেটকিপার), ইকরাম আলিখিল (উইকেটকিপার), আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, শারাফুদিন আশরাফ, নাঙ্গেয়ালিয়া খারোটে, কাইস আহমাদ, বিলাল সামি, জিয়া শারিফি, সালিম শাফি।

আফগানিস্তানের ওয়ানডে স্কোয়াড: হাশমতুল্লাহ শাহিদি (অধিনায়ক), রাহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), ইব্রাহিম জাদরান, সেদিকউল্লাহ আটাল, দারবিশ রাসুলি, রেহমাত শাহ, ইকরাম আলিখিল (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মাদ নাবি, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, রশিদ খান, নাঙ্গেয়ালিয়া খারোটে, এএম গাজানফার, জিয়া উর রহামান শারিফি, ফারিদ মালিক, বিলাল সামি।