এমন কিছু আগে দেখেননি মুমিনুল
মুশফিকের শততম টেস্টের আয়োজন দেখে বিস্মিত ও মুগ্ধ মুমিনুল বললেন, এমন সংস্কৃতিই দেখতে চান তারা।
মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্টের আয়োজন দেখে একটু চমকেই গিয়েছিলেন মুমিনুল হক। তার মনে উঁকি দিচ্ছিল প্রশ্ন, এটা কি অবসরের আয়োজন? কারও শততম টেস্ট ঘিরে এমন আয়োজন থাকতে পারে, ভাবতে পারেননি তিনি। ক্রিকেটারদের এভাবে সম্মান জানানোর সংস্কৃতিই এদেশের ক্রিকেটে দেখতে চান অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান, যাতে অনুপ্রাণিত হতে পারে তরুণ প্রজন্ম।
মুশফিকের শততম টেস্ট ঘিরে কদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে ছিল উৎসবের আবহ। তার মাইলফলককে দেশের ক্রিকেটের একটি অর্জন ধরে নিয়ে টেস্ট শুরুর আগে ছিল নানা আয়োজন। সেখানে তার হাতে বিভিন্ন স্মারক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে সম্মান জানানো হয় তাকে ও তার পরিবারকে।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে মুমিনুল বললেন, দেশের ক্রিকেটে এমন সংস্কৃতিই তিনি দেখতে চান।
“এই পরিবেশ তো আগে কোনো সময় দেখিনি, সত্যি কথা। এমনকি কারও অবসরের সময়ও দেখিনি। একটা সময় মনে হচ্ছিল যে, অবসরের দিকে যাচ্ছে! পরে দেখলাম যে, নাহ, ১০০ টেস্টের মতো হচ্ছে। মানে মনে হচ্ছিল যে, কেউ যখন অবসর নেয়, তখন অন্যান্য দেশে এভাবেই… আমাদের দেশে নয়, অন্যান্য দেশে এরকম দেখি আর কী।”
“এবার আমার নিজের দেশে দেখে অনেক ভালো লাগল। আমার কাছে মনে হয়, এই জিনিসটা এই সংস্কৃতি যদি সবসময় থাকে বাংলাদেশে, তো তরুণ প্রজন্ম যারা আছে, তারাও টেস্ট খেলার জন্য বা ১০০ টেস্ট খেলার জন্য অনুপ্রাণিত হবে।”
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলকের জন্য মুশফিককেই উপযুক্ত মনে করেন মুমিনুল। ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা ব্যাটসম্যানের ব্যাটে দ্বিতীয় দিনে ডাবল সেঞ্চুরি দেখতে চান তিনি।
“আমার কাছে মনে হয়, এরকম একটা মানুষ বাংলাদেশে আমি জানি না দ্বিতীয়বার তৈরি হবে কী হবে না, অথবা জন্মাবে কি না। তিনি রান করুক না করুক, তার জিম, রানিং, খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে সব একইভাবে চলতে থাকে। অনেকের মধ্যেই থাকে যে একটু হতাশা আসে নানা সময়, উনার মধ্যে কোন হতাশা নাই। ভালো খেলুক বা না খেলুক, উনি সব মেইনটেইন করে চলতে থাকেন। আমার কাছে মনে হয়, এটার ফল পাচ্ছেন। ১০০ টেস্ট, ১০০ রান উনার প্রাপ্য। কালকে তো যদি ২০০ করেন, সেটাও উনার প্রাপ্য।”
মুশফিকের পর ১০০ টেস্ট খেলার সম্ভাবনায় আপাতত সবচেয়ে এগিয়ে মুমিনুলই। এটি তার ৭৫তম টেস্ট। তবে তিনি ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি নিয়ে খুব ভাবিত নন। বরং দলে শুধু অবদান রেখে যেতে চান।
“যদি আমার ক্ষেত্রে বলেন, ভাই আমি কালকে বাঁচব কী বাঁচব না, জানি না। পরেরটা পরে দেখা যাবে, আমি আজকেরটা আজকে, এর পরেরটা পরে দেখি।”
“আমার স্বপ্ন হলো যতদিন খেলব, বাংলাদেশে ক্রিকেটকে, টেস্ট ক্রিকেটকে যত ওপরে নিয়ে যাওয়া, ওপরে যাওয়ার জন্য যত অবদান রাখা, তা যেন করতে পারি। সেটা ৮০ টেস্টে হতে পারে, অথবা ১২০টাও হতে পারে। আমি জানি না কতদিন খেলব, এটা আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না। আমি চেষ্টা করব যতদিন খেলব, ততদিন যেন দলে ভূমিকা রাখতে পারি। এছাড়া আর কিছু নেই।”
