Published : 21 May 2025, 07:45 PM
সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে পরাজয়কে বিব্রতকর মনে করেন না বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদিন। আমিরাতকে খুব দুর্বল দল বলেও মনে করেন না তিনি। বিসিবির এই পরিচালকের মতে, এই পরাজয় বাংলাদেশ দলকে জাগিয়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে তা দলের জন্য ভালো হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার ২০৫ রান তুলেও হেরে যায় লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্তরা। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের ১৫ নম্বরে থাকা আমিরাতের কাছে এই প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ।
শারজাহতে দলের সেই পরাজয় মাঠে বসেই দেখেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ও ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল। দেশে ফিরে বুধবার বিসিবিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাজমুল বলেন, এই পরাজয় বিব্রতকর নয় তার কাছে
“আমি বিব্রত নই… সত্যি বলতে বিব্রত নই। সংযুক্ত আরব আমিরাত যে খুব দুর্বল দল, তা নয় কিছু। আমাদের জেতা উচিত ছিল, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা একটা প্রক্রিয়া। অনেক সময় দুই পা সামনে এগোনোর জন্য এক পা পেছাতে হয়। আমার মনে হয় এটা সেটাই।”
“এটা আমাদেরকে কিছুটা হলেও জাগিয়ে তুলবে। আমাদের মনোযোগকে ঠিক জায়গায় নিয়ে আসবে। আমরা কিছু কিছু ভুল করেছি এই জায়গায়। নইলে এই ম্যাচ আমরা জিততে পারতাম। ইতিবাচক কিছু ছিল আমাদের এই ম্যাচে। আমার মনে হয়, সামনে ক্রমে ভালো করব আমরা।”
সিরিজের প্রথম ম্যাচে পারভেজ হোসেন ইমনের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জিতেছিল ২৭ রানে। তবে সেই ম্যাচে কুঁচকিতে টান লাগায় সতর্কতা হিসেবে দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে খেলানো হয়নি। এটিকে তিনি দারুণ ইতিবাচক কিছুই মনে করেন।
“এই সিরিজে একটা বড় জিনিস আমরা, সেটা হলো, আমাদের যে ছেলেটা প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করল, সেই খেলোয়াড়কে বসিয়ে আরেকজনকে সুযোগ দেওয়ার সাহস দেখাতে পেরেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এটাকে আমি খুব বড় করে দেখতে চাই।”
“অনেকে মনে করতে পারেন, সেঞ্চুরি যে করল, তাকে কেন আমরা বসিয়ে রাখলাম? তাকে খেলালেই তো জিতে যেতে পারতাম! কিন্তু আমার মনে হয়, একটা বড় দল গঠন করতে গেলে, একটা ভালো রিজার্ভ যদি আমরা তৈরি করতে চাই এবং ভবিষ্যতের কথা যদি চিন্তা করি, ৬ মাস, ৯ মাস পর কী অবস্থা দাঁড়াবে, তাহলে এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত।”
আর মাত্র ৯ মাস পরই ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে বসবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। নাজমুলের বিশ্বাস, বিশ্ব আসরে দল আলো ছড়াবে।
“এই সিরিজে ১১ জনের জায়গায় ১৪ জন হয়তো খেলে ফেলেছে এর মধ্যেই। এগুলো ভালো লক্ষণ। এতে যেটা হবে যে, মাঝেমাঝে হয়তো ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হবে, যেগুলো না হলেই ভালো। তবে আশা করি, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দল আরও সাহসী হবে, আরও ভালো করবে, খেলাটা বুঝতে পারবে এবং আমাদের যে লক্ষ্য, আগামী বিশ্বকাপে ভালো করা, সেটা হয়তো আমরা করতে পারব, ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি।”
বিসিবির এই পরিচালকে বিশ্বাসের মূল ভিত্তি দলের কোচিং স্টাফের প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম।
“সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দলের কাছে যখন একটি দল হারে, তখন দলকে নিয়ে সবাই শঙ্কিত হবে, কিছুটা অস্বস্তিতে ভুগবে, এটা অন্যায্য নয়। কেউ যদি এটা মনে করে যে, দল ভালো খেলছে না এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত যদি হয়, তাহলে অমূলক বলব না। তবে আমি বিশ্বাস করি, এটা একটা প্রক্রিয়া।”
“টিম ম্যানেজমেন্টের আমি দেখেছি, কোচিং স্টাফের মধ্যে যে সততা দেখেছি, যে উদ্যম দেখেছি, উদ্যোগ দেখেছি, আমি বিশ্বাস করি, ওটা আস্তে আস্তে খেলোয়াড়দের মধ্যে সংক্রমিত হবে এবং সেটা আমাদের দলকে আরও শক্তিশালী করবে ও আমরা ভালো করব।”
সিরিজের শেষ ম্যাচে বুধবার রাতেই আরব আমিরাতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।