Published : 06 Aug 2026, 03:40 PM
শেষ ব্যাটসম্যান সৈয়দ খালেদ আহমেদ যখন ক্রিজে গেলেন, মেহেদি হাসান মিরাজের রান তখন ৫৬। সেঞ্চুরি তো তখন ভাবনার সীমানাতেও থাকার কথা নয়। কিন্তু শেষ জুটিতে তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন খালেদ। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে মিরাজ উপহার দিলেন অপরাজিত সেঞ্চুরি। দুইশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকা দল পেল মোটামুটি ভদ্রস্থ স্কোর।
ম্যাচের মূল উদ্দেশ্য যেটি, সেই প্রস্তুতি ভালো হলো কেবল মিরাজেরই। অস্ট্রেলিয়া সফরের মাঠের লড়াইয়ের প্রথম দিনটিতে মিরাজ ছাড়া আর কেউ পারেননি ৪০ ছুঁতেও।
ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৬৩ রানে। সাতে নেমে মিরাজ অপরাজিত থাকেন ১১ চার ও ৪ ছক্কায় ১৪১ বলে ১০৯ রানে।
৩৭ রান করা শান্তর বিদায়ের পর মিরাজ যখন ব্যাট হাতে নামেন, বাংলাদেশ তখন ধুঁকছে ৫ উইকেটে ১০৫ রান নিয়ে। একটু পরই পতন হয় আরেকটি উইকেটের। সেখান থেকে লড়াই করে দলকে এগিয়ে নেন মিরাজ। খালেদের সঙ্গে শেষ জুটিতে যোগ করেন ৬৯ রান।
বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলেনন কোরি রকিচ্চলি। শেফিল্ড শিল্ডে গত তিন মৌসুমের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এই অফ স্পিনার ৬ উইকেট নেন ৮৩ রানে।
টেস্ট ম্যাচের সম্ভাব্য একটি ছবিও পাওয়া যেতে পারে ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা এই স্পিনারের পারফরম্যান্স থেকে। ডারউইনের উইকেটে সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার মূল ভেন্যুগুলোর মতো অতটা বাউন্স থাকে না। কিছুটা শুষ্কও থাকে, যেখানে সহায়তা পান স্পিনাররা। টেস্ট ম্যাচ প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হেইজেলউডের আগুন তো সামলাতে হবেই, ন্যাথান লায়নের স্পিনও হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এই ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং ১১ জনের হলেও ১৩ জন করে খেলছে। বাংলাদেশের ১৬ জনের স্কোয়াড থেকে বাইরে আছেন লিটন দাস, জাকের আলি ও মুশফিক হাসান।
মারারা ওভালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা দেন হ্যানো জ্যাকবস। স্টাম্পের বাইরের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ধরা পড়েন তানজিদ হাসান (৮ বলে ০)।
সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দ্বিতীয় উইকেটে কাটিয়ে দেন ঘণ্টাখানেক সময়। সাবধানী শুরুর পর কয়েকটি ভালো শট খেলেন সাদমান। মুমিনুল আঁকড়ে রাখেন উইকেট। কিন্তু দুজনের কেউ পারেননি ইনিংস বড় করতে।
৪৭ বলে ৩১ রান করা সাদমানকে ফিরিয়ে শিকার শুরু করেন রকিচ্চলি। একটু পর তার বলেই স্লিপে ধরা পড়েন মুমিনুল (৫৮ বলে ১৬)।
বাংলাদেশ আরও বড় ধাক্কা খায় রকিচ্চলির পরের ওভারে। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা মুশিফকুর রহিম শূন্য রানেই আউট হন স্লগ সুইপ খেলে।
৬১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর বেশ কিছুটা সময় উইকেটে কাটাতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অমিত হাসান। তবে আগের ব্যাটসম্যানদের মতো তারাও পারেননি ইনিংস বড় করতে।
বেশ-স্পিন দুটিতেই বেশ সাবলিল ছিলেন শান্ত। চমৎকার কয়েকটি বাউন্ডারি আসে তার ব্যাট থেকে। রকিচ্চলির বলে টানা তিনটি চারও মারেন। সম্ভাবনাময় ইনিংসটি থামে ৭ চারে ৩৭ করে। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা ক্যাম্পবেল থমসনের বলে ড্রাইভের চেষ্টায় বাংলাদেশ অধিনায়ক ধরা পড়েন প্রথম স্লিপে।
জুটি থামে ৪৫ রানে। পরের ওভারে শেষ হয় অমিতের ৬১ বলের লড়াই (১৫ রান)।
১১০ রানে ৬ উইকেট হারানোর দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন মিরাজ। আটে নেমে তাকে কিছুটা সময় তাকে সঙ্গ দেন সৌম্য সরকার।
মিরাজ শুরু থেকেই ছিলেন বেশ ইতিবাচক। শট নির্বাচন ছিল ভালো। সৌম্য চেষ্টা করেন উইকেটে থাকতে। তবে রকিচ্চলির বলেই আলগা ড্রাইভে তার ইনিংস শেষ হয় ১৬ রানে। জুটি ভাঙে ৪৮ রানে।
এরপর তাইজুল ইসলামকে (১০) নিয়ে কিছুটা লড়াই করেন মিরাজ। চার বিরতির আগের ওভারে জ্যাকবসকে চার মেরে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৭৩ বলে।
তাইজুলের বিদায়ের পর হাসান মাহমুদ আউট হন একটি বাউন্ডারি মেরেই। বাংলাদেশের তখন ২০০ ছোঁয়া নিয়েই শঙ্কা। কিন্তু মিরাজ ও খালেদ মিলিয়ে দলকে ২৬০ পার করান।
খালেদ ক্রিজে যাওয়ার পরপরই ছক্কা মারেন জার্সিস ওয়াদিয়াকে। জেভিয়ার ক্রোনকে টানা দুই বলে স্লগ করে ও পয়েন্টর ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন মিরাজ, পুল করে ছক্কায় ওড়ান টম মেনজিসকে। ওয়াদিয়ার বলে বাউন্ডারিতে তার শতরান আসে ১২৮ বলে।
ওয়াদিয়ার বলেই খালেদের বিদায়ে শেষ হয় ইনিংস। ৬৯ রানের জুটিতে তার অবদান ১৫।
ব্যাটিংয়ের শেষটা ভালো করার পর বোলিংয়ের শুরুটা দুর্দান্ত করে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই হাসান মাহমুদ ফেরান অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনাময় তরুণ ব্যাটসম্যান স্যাম কনস্টাসকে। ৫ টেস্ট খেলা ব্যাটসম্যান রান করেন ১। টেস্ট দলে ডাক প্রত্যাশী ক্যাম্পবেল কেলাওয়েকে শূন্য রানেই বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ।
জোড়া ধাক্কা সামলে অবশ্য পাল্টা জবাব দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। হাসান দারুণ বোলিং করলেও তাসকিন খুব গোছানো বল করতে পারেনি। পরে দুই ওভার করে বোলিংয়ে প্রভাব রাখতে পারেননি ইবাদত হোসেন ও খালেদও।
৫০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন অধিনায়ক কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৫.৫ ওভারে ২৬৩ (সাদমান ৩১, তানজিদ ০, মুমিনুল ১৬, শান্ত ৩৭, মুশফিক ০, অমিত ১৫, মিরাজ ১০৯*, সৌম্য ১৬, তাইজুল ১০, হাসান ৪, খালেদ ১৫; জ্যাকবস ১২-৪-২৮-১, থমসন ১০-০-২৬-১, ক্রোন ১১-৩-৪৮-১, রকিচ্চলি ২৪-৫-৮৩-৬, মেনজিস ১০-১-৪৫-০, ওয়াদিয়া ৮.৫-২-২৬-১)।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ১ম ইনিংস: ১২ ওভারে ৫১/২ (কনস্টাস ১, কেলাওয়ে ০, প্যাটারসন ২৬*, ফিলিপি ২২*; তাসকিন ৪-০-২৪-১, হাসান ৪-২-৪-১, খালেদ ২-০-১১-০, ইবাদত ২-০-১১-০,)।