৯০ বলে প্রথম বাউন্ডারি, ব্যাটিং ব্যর্থতায় বড় হার বাংলাদেশের
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে লক্ষ্য তাড়ায় ৩৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ।
প্রথম ১২ ওভারে ৩০ রান, এর মধ্যে ১৬ রানই অতিরিক্ত থেকে! ব্যাটে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পেতে লেগে গেল ৯০ বল। রান পঞ্চাশ না হতেই আউট ছয় ব্যাটার। এসবই তুলে ধরছে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্র। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায় নিউ জিল্যান্ডের সামনে পাত্তাই পেল না নিগার সুলতানার দল।
জয় দিয়ে উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরুর পর টানা দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। তাদের হার এবার ১০০ রানে।
গুয়াহাটিতে শুক্রবার স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডকে ২২৭ রানে আটকে রাখে বাংলাদেশ। কিন্তু রান তাড়ায় দাঁড়াতেই পারেনি তারা। একপর্যায়ে ৩৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছিল। ফাহিমা খাতুনের ৮০ বলে ৩৪ রানের ইনিংসে কোনোমতে ১২৭ পর্যন্ত যেতে পারে বাংলাদেশ।
প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে ফাহিমা ছাড়া দুই অঙ্কে যেতে পারেননি আর কেউ।
টানা দুই হারে আসর শুরুর পর নিউ জিল্যান্ডের প্রথম জয় এটি। যেখানে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন অধিনায়ক সোফি ডিভাইন ও ব্রুক হ্যালিডে। দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে ১১২ রানের জুটি গড়েন দুজন, এতে যদিও বল খেলেন তারা ১৬৬টি।
২টি করে চার ও ছক্কায় ৮৫ বলে ৬৩ রান করেন ডিভাইন। ৫ চার ও এক ছক্কায় ১০৪ বলে ৬৯ রান করে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান হ্যালিডে।
প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ বোলিং করা মারুফা আক্তার এদিন ভালো করতে পারেননি। সাত ওভারে ৫৮ রান দিয়ে একটি উইকেট পান তিনি। ১০ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার রাবেয়া খান। বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার ৩০ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
কিছুটা মন্থর উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ওভারে মারুফার ইন-সুইঙ্গারে সুজি বেটসকে এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন ব্যাটার।
নবম ওভারে বোলিংয়ে এসে দ্বিতীয় বলেই জর্জিয়া প্লিমারকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে শুরুর জুটি ভাঙেন রাবেয়া। এক বল পর নিউ জিল্যান্ড উইকেট হারায় আরেকটি, ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়েন বেটস।
রাবেয়া নিজের পরের ওভারে বোল্ড করে দেন অ্যামেলিয়া কারকে। বিনা উইকেটে ৩৫ থেকে দ্রুতই নিউ জিল্যান্ডের স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৩৮, ১১ ওভারে।
নিউ জিল্যান্ডের ওপর সেই চাপ ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। প্রতিরোধ গড়েন ডিভাইন ও ব্রুক হ্যালিডে। রান তোলার গতি মন্থর হলেও উইকেট পড়তে দেননি তারা।
নিউ জিল্যান্ডের স্কোর শতরান স্পর্শ করে ৩০তম ওভারে। ফিফটি পূর্ণ করতে হ্যালিডের লাগে ৮০ বল। তাকে ফিরিয়েই মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন ফাহিমা।
ডিভাইন এগিয়ে যান আরও। নিশিতা আক্তারকে পরপর দুই ছক্কার পথে ফিফটি করেন তিনি ৮২ বলে। ওই ওভারেই তাকে বোল্ড করে ফেরান অফ স্পিনার নিশিতা।
দলের স্কোর দুইশ পার করেন ম্যাডি গ্রিন (২৮ বলে ২৫)। শেষ তিন ওভারে চার উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড। শেষ ওভারে মারুফা তার একমাত্র উইকেটটি পেলেও রান দেন ১৬।
রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারে রোজমেরি মেয়ারের দারুণ ইনসুইঙ্গারে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে বোল্ড হন শারমিন আক্তার। জেস কারের বলে মিড-অফে ক্যাচ দেন রুবাইয়া হায়দার।
আগের ম্যাচে ফিফটি করা সোবহানা মোস্তারি লেগ সাইডে খেলার চেষ্টায় ক্যাচ দেন শর্ট থার্ডে। অ্যামেলিয়া কারকে বেরিয়ে এসে খেলে মেয়ারের চমৎকার ক্যাচে শেষ হয় নিগারের ২৮ বলে ৪ রানের ইনিংস ।
বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন সুমাইয়া আক্তার। একই ওভারে এলবিডব্লিউ হন স্বর্ণা আক্তার।
১৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৬ উইকেটে ৩৩! ব্যাটে প্রথম বাউন্ডারি আসে পরের ওভারের শেষ বলে।
নাহিদা ৩২ বলে ১৭ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৬৬। সেখান থেকে অষ্টম উইকেটে ফাহিমা ও রাবেয়ার ইনিংস সেরা ৪৪ রানের জুটিতে একশ পার করতে পারে বাংলাদেশ। ৩৯ বলে ২৫ রান করেন রাবেয়া।
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন জেস কার ও লি তাহুহু। অ্যামেলিয়া কার ১০ ওভারে স্রেফ ২৩ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
পরের ম্যাচে আগামী সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২২৭/৯ (বেটস ২৯, প্লিমার ৪, অ্যামেলিয়া কার ১, ডিভাইন ৬৩, হ্যালিডে ৬৯, গ্রিন ২৫, গেজ ১২, জেস কার ০, মেয়ার ২, তাহুহু ১২*, কার্সন ৪*; মারুফা ৭-০-৫৮-১, নাহিদা ১০-১৩৬-১, রাবেয়া ১০-১-৩০-৩, নিশিতা ১০-০-৪৭-১, ফাহিমা ৯-০-৩৭-১, স্বর্ণা ৪-০-১৮-০)
বাংলাদেশ: ৩৯.৫ ওভারে ১২৭ (রুবাইয়া ৪, শারমিন ৩, নিগার ৪, সোবহানা ২, সুমাইয়া ১, ফাহিমা ৩৪, স্বর্ণা ১, নাহিদা ১৭, রাবেয়া ২৫, নিশিতা ৫, মারুফা ১*; মেয়ার ৬-০-২০-২, জেস কার ৮-১-২১-৩, ডিভাইন ১-০-৩-০, অ্যামেলিয়া কার ১০-১-২৩-১, তাহুহু ৬-০-২২-৩, কার্সন ৩.৫-০-১৩-১, গ্রিন ৩-০-৯-০, হ্যালিডে ২-০-৮-০)
ফল: নিউ জিল্যান্ড ১০০ রানে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: ব্রুক হ্যালিডে
