সৌম্যর জায়গা না হলেও যে কারণে ফিরলেন শান্ত

নিউ জিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে শান্ত বেশি প্রভাব রাখতে পারবেন বলে ধারণা বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরামের।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 01:41 PM
Updated : 14 Sept 2022, 01:41 PM

বাংলাদেশের ক্রিকেটে কিছু কিছু শব্দ কিংবা ‘টার্ম’ বেশ চালু হয়ে যায়। নানা আলোচনা কিংবা পরিকল্পনায় প্রবল জোর পায়। সবশেষ এশিয়া কাপের আগে যেমন ‘ইন্টেন্ট’ নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা। সেটির পালা আপাতত শেষ। এবার বিশ্বকাপ দল বাছাইয়ে গুরুত্ব পেয়েছে ‘ইম্প্যাক্ট।’ নাজমুল হাসান শান্ত নাকি সৌম্য সরকার, এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ফয়সালা হয়েছে ‘ইম্প্যাক্ট’ ভেবেই। 

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন টি-টোয়েন্টি দলের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম। তার কথায় বারবার উঠে আসছিল ‘ইম্প্যাক্ট’ নামক ব্যাপারটি। পারফরম্যান্সের চেয়ে প্রভাব রাখায় তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দল বাছাইয়ে এটিকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

প্রশ্নটি উঠে যায় সেখানেই, তাহলে সৌম্য সরকার কেন দলে নেই, কেন আছেন শান্ত? বাংলাদেশের ক্রিকেটে এত বছর ধরে সৌম্যকে প্রভাববিস্তারী ব্যাটসম্যান বলেই মনে করা হয়েছে। তার সবচেয়ে বড় সমস্যা শট নির্বাচন ও ধারাবাহিকতায়। কিন্তু তিনি যেদিন ভালো খেলবেন, দলের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। তিনি উইকেটে থাকলে দ্রুত রান হবে। এই ‘ইম্প্যাক্ট’ বিবেচনায় নিয়েই তাকে অনেক সময় খেলানো হয়েছে বা দিনের পর দিন দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

শান্তর ব্যাটিং আবার উল্টো ঘরানার। শুরু থেকেই ঝড় তোলা বা দ্রুত রান তোলার জন্য খুব পরিচিত নন তিনি। বরং একটু সময় নিয়ে থিতু হন এবং ইনিংস গড়েন। ‘ইম্প্যাক্ট’ বিবেচনায় নিলে তাই সৌম্যরই এগিয়ে থাকার কথা। 

তবে কন্ডিশন বিবেচনায় নিয়ে ‘ইম্যাক্ট’-এর উল্টো ছবি দেখালেন শ্রীরাম। সেই আঁকিবুকিতে তিনি মানানসই মনে করছেন শান্তকে।

“কখনও কখনও, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের মতো জায়গায় প্রথম দুই ওভার নিরাপদে কাটিয়ে দেওয়াও এক ধরনের ‘ইম্প্যাক্ট।’ এমন নয় যে, ২ ওভারে ২০ রান তোলা মানেই প্রভাব রাখা। বিনা উইকেটে ১৫ রান রাখতে পারলেও পাওয়ার প্লে ভালোভাবে কাটানোর ভিত গড়ে ওঠে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে, গ্রীষ্মের শুরুতে নতুন বল সামলানো হবে খুব চ্যালেঞ্জিং।” 

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজের উদাহরণ তুলে ধরলেন শ্রীরাম, যেখানে নতুন বলে দাপট দেখান দুই দলের পেসাররাই। বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কনসালটেন্টের মতে, কন্ডিশনের দাবি মেটানোর সব উপকরণ ঘোষিত স্কোয়াডে আছে। 

“কদিন আগেই অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ড মুখোমুখি হলো, বোল্ট অসাধারণ বোলিং করেছেন, দুই দলই ৪০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায়। শুরুর দিকে তাই কন্ডিশন চ্যালেঞ্জিং হবে। কাজেই, ইম্প্যাক্ট-এর কথা যখন বলছি, স্রেফ স্কোরবোর্ড ভাবলেই চলবে না, ব্যাপারটি হলো কন্ডিশন কতটা পড়তে পারছি এবং কতটা মানিয়ে নিতে পারছি।”

“আমার মনে হয়, আমরা যে স্কোয়াড বেছে নিয়েছি, সবকিছুর চাহিদা আমরা মেটাতে পারি। কন্ডিশন যে ধরনের দাবি করবে, আমরা প্রয়োজনীয় প্রভাব রাখতে পারব।” 

বাংলাদেশের হয়ে এখনও পর্যন্ত ৯টি টি-টোয়েন্টি খেলে শান্তর রান ১৮.৫০ গড়ে ১৪৮। ফিফটি নেই একটিও, স্ট্রাইক রেট স্রেফ ১০৪.২২। 

অস্ট্রেলিয়ায় এখনও পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলা হয়নি তার। নিউ জিল্যান্ডে একটি টি-টোয়েন্টি খেলে রান করেছেন ৮, তিনটি টেস্ট খেলে ১ ফিফটিতে রান ২৪ গড়ে ১৪৪। 

তবে পারফরম্যান্স এখনও পর্যন্ত যেমনই হোক, শ্রীরামের মতে, ওই কন্ডিশনে সফল হওয়ার সামর্থ্য শান্তর আছে। 

“আমার মনে হয়, শান্ত খুব ভালো ক্রিকেটার। খুব বেশি তাকে দেখিনি, সামান্য যা একটু দেখেছি অনুশীলনে, আমার মনে হয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের টেম্পারমেন্ট তার আছে। বাড়তি বাউন্স করা উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য তার আছে, আড়াআড়ি শট খেলতে পারে। আমরা যে ধরনের ইম্প্যাক্ট খুঁজছি, তার মধ্যে সেই রসদ আছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক