১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রথমবার জাতীয় দলে কলম্বাগে, ৩২ মাস পর ওয়ানডেতে শানাকা

ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন সাবেক অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা।

প্রথমবার জাতীয় দলে কলম্বাগে, ৩২ মাস পর ওয়ানডেতে শানাকা
সাচিন্দু কলম্বাগে (বাঁয়ে) ও দাসুন শানাকা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম ও আইসিসি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2026, 06:03 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার পুরস্কার হিসেবে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন সাচিন্দু কলম্বাগে। ইংল্যান্ড সফরের ওয়ানডে সিরিজের দলে এই লেগ স্পিনারকে রেখেছে শ্রীলঙ্কা। আড়াই বছরের বেশি সময় পর ওয়ানডে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেস বোলিং অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা।

ইংল্যান্ডে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে লঙ্কানরা। সিরিজ দুটির জন্য বুধবার আলাদা দুটি দল ঘোষণা করেছে তারা।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৪৪ ম্যাচে ৬৯ উইকেট নিয়েছেন কলম্বাগে। দুইবার পেয়েছেন পাঁচ উইকেটের স্বাদ। আর সবশেষ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগেও (এলপিএল) ভালো করেছেন তিনি। ছয় ইনিংসে ওভারপ্রতি ৭.৯৫ রান করে দিয়ে নিয়েছেন ১০ উইকেট।

২০১৯ সালে পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এখন পর্যন্ত ৪৮ টি-টোয়েন্টি খেলে ধরেছেন ৬৯ শিকার। ইদানিং ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে তাকে।

৩৪ বছর বয়সী শানাকা সবশেষ ওয়ানডে খেলেন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০২৩ সালে এই সংস্করণে বাজে পারফরম্যান্স করায় মূলত বাদ পড়েন তিনি। ওই বছর ১৩ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ৮.৮৩।

তবে টি-টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সাদা বলের ক্রিকেটে তার অবস্থান আবারও শক্ত হয়েছে। চলতি বছর ১৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৭১.১৩ স্ট্রাইক রেটে ৩৩২ রান করেছেন শানাকা। এই সংস্করণের পাশাপাশি ওয়ানডেতেও তাকে ফিরিয়েছে লঙ্কানরা।

সাদা বলের দুই সংস্করণেই শ্রীলঙ্কাকে নেতৃত্ব দেবেন কুসাল মেন্ডিস। তার ডেপুটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চারিথ আসালাঙ্কাকে, যিনি আগে দলটির ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ছিলেন।

গত বছর পাকিস্তান সফরে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা বলে খেলতে অনীহা দেখানোয় টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব হারান আসালাঙ্কা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দল থেকেই বাদ পড়েন তিনি। ওয়ানডে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে থাকলেও, তিন মাস আগে এই সংস্করণের নেতৃত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সবশেষ লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) দারুণ সময় কাটানোর পর শ্রীলঙ্কার টি-টোয়েন্টি দল ও লিডারশিপ গ্রুপে ফিরেছেন আসালাঙ্কা। গল গ্যালান্টসের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আসরে ১১ ইনিংসে ৩৮৫ রান করেন ১৫৩.৩৮ স্ট্রাইক রেট। ফাইনালে ব্যাট হাতে ভালো করতে না পারলেও, বল হাতে আলো ছড়ান। অফ স্পিনে ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

আসালাঙ্কার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন লাহিরু উদারা, জানিথ লিয়ানাগে ও থারিন্দু রাত্নায়েকে। বাদ পড়েছেন পাভান রাত্নায়েকে, লাসিথ ক্রুসপুলে, মিলান রাত্নায়েকে ও দিলশান মাদুশাঙ্কা।

উদারাও টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন গত এলপিএলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে। আসরে নয় ইনিংসে ৪৩৪ রান করে মৌসুমের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১৫৯.৫৫। পাঁচটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলার পাশাপাশি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি বাউন্ডারিও মারেন এই ক্রিকেটার। ২০২৩ সালে দেশের জার্সিতে ক্যারিয়ারের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম‍্যাচটি খেলেন তিনি।

থারিন্দুর দলে অন্তর্ভুক্তি কিছুটা চমক হয়ে এসেছে। এলপিএলে আট ইনিংসে মাত্র সাত উইকেট নিতে পারেন তিনি, ওভারপ্রতি রান দেন ৮.৩৬। তবে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে তার রেকর্ড ভালো। ৭৭ ইনিংসে ওভারপ্রতি সাড়ে ছয় করে রান দিয়ে ধরেছেন ৯২ শিকার। একই সঙ্গে বাঁহাতি ও ডানহাতি- দুই ধরনের স্পিনই সমান নিয়ন্ত্রণে করতে পারেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি দলে চামিকা কারুনারাত্নের জায়গা না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক বলা যায়। গত এলপিএলে ১৫৭.১৪ স্ট্রাইক রেটে ২৫৩ রান করেন তিনি। গল গ্যালান্টসের শিরোপা জয়ের পথে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু মাঠের লড়াই। বাকি দুই ম্যাচে ১৭ ও ১৯ সেপ্টেম্বর। ওয়ানডে তিনটি হবে যথাক্রমে ২২, ২৪ ও ২৭ সেপ্টেম্বর।

শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে দল: পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা, কামিন্দু মেন্ডিস, কুসাল মেন্ডিস (অধিনায়ক), চারিথ আসালাঙ্কা (সহ-অধিনায়ক), জানিথ লিয়ানাগে, পাভান রাত্নায়েকে, দাসুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিথ ওয়েলালাগে, মাহিশ থিকশানা, সাচিন্দু কলম্বাগে, দুশমান্থা চামিরা, ইশান মালিঙ্গা, আসিথা ফার্নান্দো, দিলশান মাদুশাঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি দল: পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা, লাহিরু উদারা, কুসাল মেন্ডিস (অধিনায়ক), চারিথ আসালাঙ্কা (সহ-অধিনায়ক), কামিন্দু মেন্ডিস, জানিথ লিয়ানাগে, দাসুন শানাকা, দুনিথ ওয়েলালাগে, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মাহিশ থিকশানা, থারিন্দু রাত্নায়েকে, দুশমান্থা চামিরা, ইশান মালিঙ্গা, নুয়ান থুশারা, বিনুরা ফার্নান্দো।