Published : 23 Apr 2026, 12:40 AM
পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে তখন হ্যাটট্রিকের দুয়ারে বোলার মুহাম্মদ ইসমাইল। অফ স্টাম্পের বাইরে হাফ-ভলি বলটি কাভার ড্রাইভের চেষ্টায় পারলেন না উসমান খান। বল জমা পড়ল কিপারের গ্লাভসে। একটু পর যখন স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় রিপ্লে দেখানো হলো, কিপার জশ ফিলিপ তো হতবাক। অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নারও বিস্মিত। ওই বলটি যে ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগেছিল, কিন্তু তারা কেউ আবেদনই করেননি!
যিনি আউট হতে পারতেন প্রথম বলেই, সেই উসমান ভাগ্যের ছোঁয়ায় বেঁচে গিয়ে উপহার দিলেন বিস্ফোরক সেঞ্চুরি। তার নাম খোদাই হয়ে গেল রেকর্ড বইয়ের পাতায়।
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বুধবার মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে ২১৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৪৪ বলে সেঞ্চুরি করেন উসমান। ১০ ছক্কা ও পাঁচ চারে ৪৭ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান। তার দল হায়দরাবাদ কিংসমেন ৪ উইকেটে জিতে যায় তিন বল বাকি থাকতে।
প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে পাকিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চারটি সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন উসমান। তিনটি করে সেঞ্চুরি আছে কামরান আকমল, রাইলি রুশো, ফাখার জামান ও বাবর আজমের।
উসমানের সেঞ্চুরিতে আড়ালে পড়ে গেছে স্টিভেন স্মিথের শতক। সুলতান্সের হয়ে ১২ চার ও ছয় ছক্কায় ৫০ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা।
করারিতে বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই তরুণ আগ্রাসী ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাতকে হারায় কিংসমেন। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তারা খায় জোড়া ধাক্কা।
ওই ওভারের প্রথম দুই বলে সাইম আইয়ুব ও কুসাল পেরেরাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান ইসমাইল। এরপরই পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন উসমান। ইসমাইলের হ্যাটট্রিকটা হয়েও যেতে পারত, কিন্তু বল যে ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগেছে, ফিল্ডাররা বুঝতেই পারেননি!
পরের দুই বলেও রান পাননি উসমান। ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ডানা মেলেন তিনি। ইসমাইলের পরের ওভারে প্রথম তিন বলে মারেন দুটি ছক্কা ও একটি চার। পরের ওভারে পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মাদ নাওয়াজকে।
স্রেফ ২০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন উসমান। পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর আরেক বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাসের ওভারে মারেন তিনটি ছক্কা।
চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক মার্নাস লাবুশেনের সঙ্গে ৬৪ বলে ১২৩ রানের জুটি গড়েন উসমান। যেখানে তার একার অবদানই ৪০ বলে ৯৩!
অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান লাবুশেন ফেরেন ৯ চারে ৪১ বলে ৬১ রান করে। একটু পরই চার মেরে ৯৯ রানে পৌঁছার পর, এক রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন উসমান।
পরের ওভারে পিটার সিডলের তিন বলের মধ্যে বিদায় নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও উসমান। কিংসমেনের প্রয়োজন তখনও ১৩ বলে ৩২ রান।
হাসান খানের তিন ছক্কা (৬ বলে ২৪*) ও ইরফান খানের এক ছক্কায় (৫ বলে ৮*) তিন বল হাতে রেখে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যায় দলটি।