Published : 09 Sep 2026, 09:33 PM
খেলা শেষ হওয়ার কথা বিকেলের মধ্যে। কিন্তু দুই দফা বৃষ্টি নামায় খেলা গড়াল কৃত্রিম আলোয়। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আরও একবার বেরসিক বৃষ্টি হানা। এবার বন্ধ করেই দেওয়া হলো মিরপুরের ফ্লাডলাইট। তখনও ম্যাচ শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন ম্যাচ অফিসিয়ালসরা। তবে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় খেলা আর শুরু করাই সম্ভব হলো না। ভেস্তে গেল অনুর্ধ্ব-২৩ ও অনুর্ধ্ব-১৯ দলের লড়াই।
ফাইনাল ম্যাচের ফল না হলেও জিডি (গেম ডেভেলপমেন্ট) ট্রফির শিরোপা ভাগ্য ঠিকই নির্ধারিত হলো। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সৌভাগ্যই বলতে হবে। আর মিনিট দশেক খেলা হলেই ফাইনাল হারতে হতো তাদের। কিন্তু ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় চ্যাম্পিয়নই হয়ে গেল তারা।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার ২৪৫ রানে অলআউট হয় অনুর্ধ্ব-২৩ দল। দুই দফা বৃষ্টির পর অনুর্ধ্ব-১৯ দলের সামনে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান। ১৭.২ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৯ রান তুলে থামে অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ইনিংস।
২০ ওভার খেলা হলেই ডিএলএস পদ্ধতিতে জিতে যেত অনূর্ধ্ব-২৩ দল। কিন্তু খেলা না হওয়ায় টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে থাকায় শিরোপা জিতে যায় অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচে তিন জয়ে ছয় পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ছিল তারা। আর দুই জয় ও এক হারে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে ছিল অনুর্ধ্ব-২৩ দল।
গ্রুপ পর্বের দুই দলের লড়াইয়ে একবার করে জিতেছিল অনুর্ধ্ব-১৯ ও অনুর্ধ্ব-২৩ দল।
ফাইনাল বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও চমৎকার বোলিংয়ে নজর কাড়েন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার তাফিউল আলম তামিম। ৮.৪ ওভারে ৩৬ রান খরচায় ছয় উইকেট নেন তিনি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে অনুর্ধ্ব-২৩ দলের শুরুটা ভালো হয়নি। মন্থর গতিতে রান তোলা দলটি চতুর্থ ওভারে ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিককে হারায়। তিনে নামা কালাম সিদ্দিকিকে নিয়ে আরেক ওপেনার আজিজুল হাকিম বাড়াতে পারেননি রানের গতি। দশ ওভারে দলটি তোলে কেবল ২৩ রান।
ধীরে এগোতে থাকা অনুর্ধ্ব-২৩ দল বিপদে পড়ে ত্রয়োদশ ওভারে। তাফিউলের ওভারে তিন বলের মধ্যে ফেরেন আজিজুল (১৫) ও রিজান হোসেন (০)। তখন দলের রান ৩ উইকেটে ৩০।
সেখান থেকে দলকে সামনে টেনে নেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন কালাম ও কিপার-ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। চতুর্থ উইকেটে ৫২ রানের জুটি ভাঙে কালামের বিদায়ে। ৫৪ বলে ২৪ রান আসে তার ব্যাটে। ধারাবাহিক পারফর্ম করা আব্দুল্লাহ ফেরেন ৫৪ বলে ৪৭ করে।
৫ উইকেটে ১০২ রান করা অনুর্ধ্ব-২৩ দলকে দুইশর কাছে নিয়ে যায় ষষ্ঠ উইকেটে আহরার আমিন ও দেবাশিস সরকারের ৮৬ রানের জুটি। তাফিউলের ভেতরে ঢোকা বলে ৪৬ রান করা আহরার বোল্ড হলে এই জুটি ভাঙে। ৪৩ রান করে দেবাশিস ফেরেন তাফিউলের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে।
২০০ রানে ৭ উইকেট হারানো দলকে আড়াইশ ছোঁয়া সংগ্রহের কাছাকাছি নেন আটে নামা মাহফুজুর রহমান। ২৬ বলে দুই ছয়ে ৩১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
অনুর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৪০ রানে তিন উইকেট নেন শেখ আতিকুর রহমান আকাশ।
লক্ষ্য তাড়ায় অনুর্ধ্ব-১৯ দল ব্যাটিংয়ে নামার সময় বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। পরে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৪ ওভারে ২২৩ রান। আব্দুল্লাহ আল মুহির ব্যাটে ভালোই শুরু করেছিল তারা। তবে সেই শুরুটা ধরে রাখতে পারেননি তিনি। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে ফেরেন ২০ রান করা ব্যাটসম্যান। পাঁচ বল হওয়ার পর ফের বৃষ্টি বাধায় বন্ধ হয় খেলা।
লম্বা বিরতির পর নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ১৬১ রান। নতুন লক্ষ্যে ভালো শুরু করতে পারেনি তারা। স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই ফেরেন ৬ রান করা জারিফ সিয়াম।
কাওসার আহমেদ ও আহসান আল মুমিন তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ২৭ রান। মাহফুজুরের বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় কাওসার ১৪ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ফারহান সাদিক। আক্রমনাত্মক ব্যাটিংয়ে ১৫ বলে দুইটি করে চার ও ছয়ে ২৯ রান করেন তিনি। তার বিদায়ের পর ১৮তম ওভারে ফেরেন মুমিন ফেরেন ২৪ রান করে। তার বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বাগড়া দেওয়ায় খেলা আর এগোয়নি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল: ৪৯.২ ওভারে ২৪৫/১০ (আদিল ৬, আজিজুল ১৫, কালাম ২৪, রিজান ০, আব্দুল্লাহ ৪৭, আহরার ৪৬, দেবাশিস ৪৩, মাহফুজুর ৩১, পারভেজ ৫, স্বাধীন ৪, তারেক ৫*; রহিম ১০-০-৪২-০, আকাশ ৯-১-৪০-৩, তাফিউল ৮.৪-০-৩৬-৬, জারিফ ৯-০-৪১-০, রবিউল ৬-০-২৭-০, আল রাফি ৬-০-৪৩-১, ফারহান ১-০-১২-০)
বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ দল: ১৭.২ ওভারে ৯৯/৫ (মুহি ২০, জারিফ ৬, কাওসার ১৪, মুমিন ২৪, ফারহান ২৯, ফয়সাল ৫*, তারেক ৩-০-১৮-১, জীবন ৪-০-১২-১, আজিজুল ৩-০-১৯-০, মাহফুজুর ৪-০-২৮-১, স্বাধীন ২-০-১৮-১, আহরার ১.২-০-৪-১)