২ ম্যাচে ৯৯ রান দেওয়া ভুবনেশ্বরকে ‘প্রত্যাশার চাপ দূরে রাখার’ পরামর্শ মর্কেলের
ভারতীয় পেসারকে নিজের সামর্থ্যে আস্থা রাখতে বলেছেন দলটির বোলিং কোচ মর্নে মর্কেল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি ভুবনেশ্বর কুমারের। ভারতের জার্সিতে ফেরার পর দুই ম্যাচ খেলে দেদারে রান বিলিয়েছেন তিনি। কঠিন সময়ে অভিজ্ঞ পেসারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মর্নে মর্কেল। প্রত্যাশার চাপকে দূরে রেখে ভুবনেশ্বরকে নিজের সামর্থ্যে আস্থা রাখতে বলেছেন ভারতের বোলিং কোচ।
আইপিএলের গত দুই মৌসুমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ভুবনেশ্বর। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে, তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়ে চার বছর পর ভারত দলে ডাক পান তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ফেরার ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যায়।
নিউ জিল্যান্ড সফরের প্রথম দুই ম্যাচের একাদশেও ভুবনেশ্বরকে রাখে ভারত। প্রথম ম্যাচে ৪৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। পরের ম্যাচে একটি উইকেট নিলেও, খরচ করেন ৫০ রান।
কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ভুবনেশ্বরকে নিজের শক্তির জায়গায় মনোযোগ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মর্কেল। লম্বা সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই বোলারকে ছন্দ খুঁজে পেতে সময় দেওয়ার পক্ষে তিনি।
সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে মঙ্গলবার কিউইদের মুখোমুখি হবে ভারত। আগের দিন সংবাদমাধ্যমে ভুবনেশ্বরকে নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন মর্কেল।
“তার (ভুবনেশ্বর) এই প্রত্যাবর্তনের চ্যালেঞ্জের প্রতি আমার পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। চার বছর পর দলে ফিরলে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে সে আইপিএলে অসাধারণ পারফর্ম করেছে এবং খুব ভালো বোলিং করেছে।”
দলে নির্বাচিত হওয়ার আগে এক মাস অনুশীলন করলেও, সূচির কারণে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার মতো সময় ভুবনেশ্বর পাননি বলে মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মর্কেল।
“প্রত্যাশার চাপটা দূরে সরিয়ে রাখাই একটি চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয়ত, দলে নির্বাচিত হওয়ার আগে সে এক মাস অনুশীলন করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জ, যেখানে ভুলের সুযোগ খুবই সামান্য। সূচির কারণে নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য সীমিত অনুশীলন নিয়েই তাকে ফিরতে হয়েছে।”
খরুচে বোলিংয়ের পরও ৩৬ বছর বয়সি ভুবনেশ্বরের সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা রাখছেন মর্কেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাহিদার সঙ্গে আবার মানিয়ে নিতে এই পেসারকে কিছু ম্যাচ সময় দেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
“তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা- সবই আছে। তবে দিন শেষে ক্রিকেটের প্রতি আমাদের সম্মান দেখাতে হবে। কয়েকটি ম্যাচে তাকে পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার সুযোগ দিতে হবে।
“দলে যোগ দেওয়ার পর শুরু থেকেই তাকে আমার বার্তা এটাই ছিল- কোনো কিছুর পেছনে ছুটবে না। নিজের মতো থাকো। হ্যাঁ, প্রত্যাশা থাকবে। তবে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে তুমি আরও ভালো করবে, নিজের ছন্দও খুঁজে পাবে। তাই বাইরের কথাবার্তা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। নিজের মতো থাকো, নিজের শক্তির জায়গার আস্থা রাখো।”
