টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
Published : 02 Jan 2026, 08:36 PM
চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে পেশাদার ক্রিকেটে ফেরার একদিন পরই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন কাগিসো রাবাদা। অভিজ্ঞ এই পেসারকে নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল সাজিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বৈশ্বিক আসরের ফাইনাল খেলা দল থেকে আসছে আসরে সাতজনকে পাচ্ছে প্রোটিয়ারা।
আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের জন্য শুক্রবার ১৫ জনের দল দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো কারণ দেখানো ছাড়াই দলে পরিবর্তন আনা যাবে।
পাঁজরের চোটে প্রায় ১০ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন রাবাদা। অক্টোবরের পর গত বুধবার প্রথম কোনো ম্যাচ খেলতে নামেন তিনি। ফেরার ম্যাচে এসএটোয়েন্টিতে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৪৮ রান খরচায় ২ উইকেট নেন এমআই কেপ টাউনের এই বোলার।
বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেবেন রাবাদাই। দলে তার সঙ্গে আছেন আরও পাঁচ পেসার- আনরিখ নরকিয়া, মার্কো ইয়ানসেন, কর্বিন বশ, লুঙ্গি এনগিডি ও কিউনা মাফাকা। এদের মধ্যে ইয়ানসেন ও বশ ব্যাট হাতেও কার্যকর।
দলে দুই বাঁহাতি স্পিনার অভিজ্ঞ কেশাভ মহারাজ ও জর্জ লিন্ডাকে রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লিন্ডার ব্যাটের হাতও বেশ ভালো। তাদের সঙ্গে অফ স্পিনে ভূমিকা রাখার সামর্থ্য আছে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম ও ডনোভান ফেরেইরার।
দুই পেসার মাফাকা ও বশসহ মোট সাতজন এই প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেলেন। অন্যরা হলেন ব্যাটসম্যান-ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, টনি ডি জর্জি, জেসন স্মিথ, লিন্ডা ও ফেরেইরা।
দলে কিছুটা চমক বলা যায় ডি জর্জি ও স্মিথের ডাক পাওয়া। এক মাস ধরে কোনো ধরনের ক্রিকেট খেলেননি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ডি জর্জি। দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতেও কেবল দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। চলমান এসএটোয়েন্টিতে ডারবান’স সুপার জায়ান্টস দলের সদস্য এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
আরেক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান স্মিথ তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই খেলেছেন পাঁচ ম্যাচ, যার মধ্যে টি-টোয়েন্টি দুটি। সম্প্রতি ফিনিশার হিসেবে অবশ্য ভালো করছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সিএসএটি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জে ডলফিন্সের হয়ে খেলেন ১৯ বলে ৬৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। আর এসএটোয়েন্টির উদ্বোধনী ম্যাচে এমআই কেপ টাউনের হয়ে ১৪ বলে ৪১ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
গত অক্টোবরে অবসর ভেঙে ফেরা অভিজ্ঞ কিপার-ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কককেও রেখেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এছাড়া আছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলার। ভারতের বিপক্ষে ২০২৪ আসরের ফাইনালে হেরে যাওয়া একাদশ থেকে আরও আছেন মার্করাম, ইয়ানসেন, মহারাজ, রাবাদা ও নরকিয়া।
ওই বিশ্বকাপের দল থেকে নেই হাইনরিখ ক্লসেন, যিনি গত জুনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। এছাড়া রিজা হেনড্রিকস, রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্টাবস, ওটনিল বার্টম্যান জেরল্ড কুটসিয়া, বিয়ন ফোরটান ও তাব্রেইজ শামসি নেই এবারের দলে।
বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার শামসির অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ধরেই নেওয়া যায়। বিদেশি লিগ খেলার অনাপত্তিপত্র নিয়ে সম্প্রতি বোর্ডের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে জেতেন তিনি। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও নেই এই ক্রিকেটার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে কানাডা, আফগানিস্তান, নিউ জিল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে।
আহমেদাবাদে ৯ ফেব্রুয়ারি কানাডার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে প্রোটিয়ারা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দক্ষিণ আফ্রিকা দল: এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), কর্বিন বশ, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, কুইন্টন ডি কক (উইকেটরক্ষক), টনি ডি জর্জি, ডনোভান ফেরেইরা, মার্কো ইয়ানসেন, জর্জ লিন্ডা, কেশাভ মহারাজ, কিউনা মাফাকা, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিডি, আনরিখ নরকিয়া, কাগিসো রাবাদা, জেসন স্মিথ।