লিয়ানাগের আক্ষেপের দিনে লঙ্কানদের জয়

আশা জাগিয়েও কম রানের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পারল না জিম্বাবুয়ে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Jan 2024, 07:03 PM
Updated : 8 Jan 2024, 07:03 PM

একরাশ আক্ষেপ নিয়ে ফিরছিলেন জানিথ লিয়ানাগে। এক দিকে স্রেফ ৫ রানের জন্য পাননি সেঞ্চুরি, আরেক দিকে জয় তখনও দূরের পথ। এই অলরাউন্ডারকে ফিরিয়ে কম রানের রোমাঞ্চকর ম্যাচে উল্টো জয়ের ছবি আঁকছিল জিম্বাবুয়ে। শেষের নাটকীয়তার অবশ্য পারেনি দলটি। নবম উইকেট জুটির দৃঢ়তায় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে শ্রীলঙ্কা।  

কলম্বোতে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ২ উইকেটে জিতেছে কুসাল মেন্ডিসের দল। ২০৯ রানের লক্ষ্য তারা ছুঁয়েছে ৬ বল বাকি থাকতে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ম্যাচ ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। 

ক্রেইগ আরভিনের ১ ছক্কা ও ৯ চারে সাজানো ৮২ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোমতে ২০৮ রান করে জিম্বাবুয়ে। স্পিনারদের জন্য সহায়ক পিচে তাদেরকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার কাজটি করেন মাহিশ থিকশানা। ৩১ রানে ৪ উইকেট নেন এই রহস্য স্পিনার।

জবাবে একশর আগে ৫ উইকেট হারিয়ে শঙ্কায় পড়া শ্রীলঙ্কাকে অনেকটা সময় একাই টানেন লিয়ানাগে। কিন্তু অল্পের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। ২ ছক্কা ও ৫ চারে গড়া ৯৫ রানের ইনিংস তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। 

কম রান নিয়েও দারুণ চেষ্টা করেছিলেন রিচার্ড এনগারাভা। ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে জাগিয়েছিলেন জয়ের আশা। লিয়াগানের দারুণ ইনিংসের পর লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় কঠিন চ্যালেঞ্জ উতরে গেল শ্রীলঙ্কা।  

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ে ম্যাচের তৃতীয় বলেই হারায় টিনাশে কামুনহুকামউইকে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ‘গোল্ডেন ডাক’ এর তেতো স্বাদ পেলেন এই ওপেনার। দুবারই বোলার দিলশান মাদুশানকা। 

ওপেনার জয়লর্ড গাম্বির পর চারে নামা মিল্টন শুম্বার সঙ্গে পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন আরভিন। গাম্বির সঙ্গে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কের জুটি ৬৮ বলে ৬০ রানের, শুম্বার সঙ্গে ৭৬ বলে ৫৩। 

জমে যাওয়া দুটি জুটিই ভাঙেন থিকশানা। গাম্বিকে (৩৭ বলে ৩০) বোল্ড করেন তিনি। পরে তার শিকার শুম্বা (৪৫ বলে ২৬)। সিকান্দার রাজাকে টিকতে দেননি লেগ স্পিনার জেফ্রি ভ্যান্ডারসাই।

১১৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ইনিংসের সেরা জুটিটা পায় জিম্বাবুয়ে। আরভিন ও রায়ান বার্লের ৭০ বল স্থায়ী ৬৭ রানের জুটি ভাঙার পরই ধস নামে সফরকারীদের ইনিংসে। যার শুরু ৬৫ বলে ফিফটি করা আরভিনকে দিয়ে। এক ওভার পর বিদায় নেন ৩১ রান করা বার্লও। দুই থিতু ব্যাটসম্যানই দুশমান্থ চামিরার শিকার। 

এরপর জিম্বাবুয়ের বাকিরা বিদায় নেন দ্রুতই। ২৬ রানে তারা হারায় শেষ ৬ উইকেট। 

রান তাড়ায় এনগারাভার ছোবলে শুরুটাও ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। ৫৩ রানে ৪ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। চারটি উইকেটই নেন এনগারাভা। 

তার করা প্রথম ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন আভিশকা ফার্নান্দো। পরের ওভারে বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেন সাদিরা সামারাউইক্রামা। 

১৩ ওভার শেষের পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে ঘণ্টা খানেক, এতে অবশ্য ওভার কমেনি। এর আগে-পরে দুইবার বেঁচে যাওয়া মেন্ডিস বড় করতে পারেননি ইনিংস। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান চারিথ আসালাঙ্কাকে শূন্য রানে ফেরান এনগারাভা। 

থিতু হয়ে যাওয়া সেহান আরাচিগে বিদায় করার পর দাসুন শানাকাকে দ্রুত ফেরান সিকান্দার রাজা। এক প্রান্ত আগলে রাখা লিয়ানাগেকে সঙ্গ দেন থিকশানা। বাড়তে থাকে রান।

৮৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন লিয়ানাগে। জমে যাওয়া ৫৬ রানের এই জুটি ভাঙেন এনগারাভা। থিকশানাকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ওয়ানডেতে প্রথম পাঁচ উইকেট। 

দারুণ খেলতে থাকা লিয়ানাগের সেঞ্চুরি তখন মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। সেই সময়ই যেন মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ব্লেসিং মুজারাবানির বলে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন মিড-অফে। তখনও জয়ের বন্দর অনেক দূরে ছিল শ্রীলঙ্কার। 

৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন চামিরা ও ভ্যান্ডারসাই। অভিষেকের সাড়ে আট বছর পর স্রেফ নিজের পঞ্চাশতম ওয়ানডে খেলতে নামা চামিরা চার মেরে শেষ করেন ম্যাচ। ২৫ বলে তিনি ২ চারে করেন ১৮ রান। ১৮ বলে দুই চারে ১৯ রান করেন ভ্যান্ডারসাই। 

আগামী বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

জিম্বাবুয়ে: ৪৪.৪ ওভারে ২০৮ (গাম্বি ২০, কামুনহুকামউই ০, আরভিন ৮২, শুম্বা ২৬, রাজা ১, বার্ল ৩১, মাডান্ডে ১৪, ফারাজ ১, এনগারাভা ৫*, মুজারাবানি ০, মুফুদজা ১; মাদুশানকা ৭-১-২৪-১, চামিরা ৮-০-৪৪-২, থিকশানা ৯.৪-১-৩১-৪, লিয়ানাগে ২-০-১১-০, শানাকা ৪-০-১৪-০, আরাচিগে ২-০-১০-০, ভ্যান্ডারসাই ১০-১-৪৭-২, আসালাঙ্কা ২-০-১৮-০) 

শ্রীলঙ্কা: ৪৯ ওভারে ২১১/৮ (আভিশকা ৪, মেন্ডিস ১৭, সামারাউইক্রামা ৪, লিয়ানাগে ৯৫, আসালাঙ্কা ০, আরাচিগে ২১, শানাকা ৭, থিকশানা ১৮, চামিরা ১৮*, ভ্যান্ডারসাই ১৯*; এনগারাভা ১০-৩-৩২-৫, মুজারাবানি ১০-০-৪১-১, ফারাজ ১০-০-৪৩-০, রাজা ১০-১-৩২-২, মুফুদজা ৭-০-৩৮-০, বার্ল ২-০-২৩-০) 

ফল: শ্রীলঙ্কা ২ উইকেটে জয়ী 

ম্যান অব দা ম্যাচ: জানিথ লিয়ানাগে

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা