১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ক্যারিয়ারের সমবয়সী’ সুরিয়াভানশির সঙ্গে খেলা উপভোগ করেছেন শামি

ভারতের তরুণ সেনসেশন বৈভাব সুরিয়াভানশির প্রশংসা করেছেন অভিজ্ঞ পেসার।

‘ক্যারিয়ারের সমবয়সী’ সুরিয়াভানশির সঙ্গে খেলা উপভোগ করেছেন শামি
দুলিপ ট্রফির শিরোপা হাতে মোহাম্মদ শামি (মাঝে), সেলফি তুলছেন সুরিয়াভানশি। ছবি: শামির ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 09:19 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

দুজনের বয়সের পার্থক্য ২০ বছরের বেশি। মোহাম্মদ শামি যখন পেশাদার ক্রিকেট পথচলা শুরু করেন, তখন জন্মই হয়নি বৈভাব সুরিয়াভানশির। ক্রিকেট আঙিনায় আলোড়ন ফেলে দেওয়া সেই কিশোরের সঙ্গে এবার খেললেন শামি। একসঙ্গে জিতলেন শিরোপাও। দারুণ সুখকর এই মুহূর্তে তরুণ সতীর্থকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ পেসার।

চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার দুলিপ ট্রফির শিরোপা জেতা ইস্ট জোনের হয়ে খেলেন শামি ও সুরিয়াভানশি। দলটির সহ-অধিনায়ক ছিলেন ১৫ বছর বয়সী সুরিয়াভানশি। আর শামি ছিলেন দলের  সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের একজন।

ফাইনালে প্রথম ইনিংসে ৭০৮ রান করে ইস্ট জোন। পরে সাউথ জোনকে ৩৩৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামে তারা। পঞ্চম দিন ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান করে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ইশান কিষানের নেতৃত্বাধীন দল। ম্যাচ ড্র হলেও, প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট জোন।

১৩ বছর পর দুলিপ ট্রফি জয়ের স্বাদ পেল ইস্ট জোন। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে সবশেষ ভারতের এই প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি। 

দলের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শামি। ৩৬ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ পেসার এবারের আসরে তিন ম্যাচে ২৬.৫৭ গড়ে সাত উইকেট নেন। ফাইনালে ধরেন দুই শিকার।

এটা ছিল শামির ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। ২০১০ সালের ১৭ নভেম্বর রাঞ্জি ট্রফিতে আসামের বিপক্ষে বেঙ্গলের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এর চার মাস পর, ২০১১ সালের ২৭ মার্চ জন্ম বৈভাব সুরিয়াভানশির।

দুলিপ ট্রফির ফাইনালটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সুরিয়াভানশির একাদশ ম্যাচ। ফাইনালে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৪৪ ও ৮ রান করেন তিনি। সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে ৯২ ও ৪০ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

ফাইনাল শেষে পিটিআইকে শামি বলেন, সুরিয়াভানশির সঙ্গে খেলা এবং তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি উপভোগ করেছেন তিনি। 

“আমি পুরো বিষয়টাই উপভোগ করেছি। আমাদের দলের ছোট ছেলেটি (সুরিয়াভানশি) আক্ষরিক অর্থেই আমার ক্যারিয়ারের সমবয়সী। তার মধ্যে তারুণ্যের সরলতা আছে, মজা করতে ভালোবাসে এবং খুব দ্রুত বিষয়গুলো ধারণ করতে পারে।

“তরুণদের বেশিরভাগই এখন যথেষ্ট পরিণত। এখন তারা যে পর্যায়ের ক্রিকেট খেলে, আইপিএল ও অন্যান্য উচ্চ-চাপের টুর্নামেন্টে খেলার কারণে খুব অল্প বয়সেই ওদের পরিপক্কতা চলে আসে। তাই তাদের বেশি কিছু শেখানোর প্রয়োজন হয় না। তবে হ্যাঁ, ম্যাচ যখন কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে, তখনই কৌশলগত কিছু পরামর্শ দিতে এগিয়ে আসতে হয় এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাড়না দিতে হয়।”

দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে আছেন শামি। ভারত দলে ফেরার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সেই পথ যেন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। কঠিন সময়ের মধ্যে দুলিপ ট্রফি জিতে খুব ভালো লাগছে তার।

“সন্তুষ্টির কথা যদি বলেন, ১০০তম ম্যাচে এমন অর্জন, তাও আবার দুলিপ ট্রফির ফাইনালে জিতে- এটা বিশেষ কিছু। অনেক দীর্ঘ সময় পর ইস্ট জোন এই শিরোপা জিতেছে। আপনারা দেখেছেন, আমরা কেমন খেলেছি।

“আমাদেরকে অভিযানের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে দলের প্রত্যেকেই নিজের সর্বস্ব দিয়েছে। এমন কন্ডিশনে, এমন গরমের মধ্যে এই অর্জন অসাধারণ। আর আমার ক্ষেত্রে প্রথম ম্যাচ হোক বা ১০০তম- তাতে কিছু যায় আসে না। প্রচেষ্টা ও মানসিকতা সবসময় একই থাকে।”