Published : 03 Sep 2026, 10:59 PM
ইনিংসের মাঝে পানি পানের বিরতিতে ব্যাটিংয়ে থাকা অনুর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ব্যাটসম্যানকে পরামর্শ দিলেন দলটির প্রধান কোচ হান্নান সরকার ও জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। দুই ইনিংসের মাঝের বিরতিতে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরকেও দেখা গেল।
এসব খণ্ড চিত্র মিরপুর শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুর্ধ্ব-১৭ ও অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ম্যাচের। জাতীয় দলের দুই কোচের সান্নিধ্য পেয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট (জিডি) ট্রফিতে নিজেদের প্রমাণের চেষ্টায় ছিলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা।
একপেশে ম্যাচে ১১৫ রানে জিতেছে অনুর্ধ্ব-১৯ দল। ২৮৭ রানের লক্ষ্য ১৭১ রানে অলআউট হয় অনুর্ধ্ব-১৭ দল।
আগের দুই ম্যাচে তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেনি অনুর্ধ্ব-১৭ দল। এবার দলটির এক ব্যাটসম্যান ছুঁয়েছেন পঞ্চাশ। আর বড় জয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ দলের তিন ব্যাটসম্যান খেলেছেন পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস।
৬৫ রানের চমৎকার ইনিংস খেলার পাশাপাশি বোলিংয়ে ৩৫ রান খরচায় তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রাকিবুল হাসান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অনুর্ধ্ব-১৯ দলের দুই ওপেনার আব্দুল্লাহ আল মুহি ও কাওসার আহমেদ দারুণ শুরু এনে দেন। চতুর্দশ ওভারে তিন অঙ্ক ছোঁয়া দলটি প্রথম উইকেট হারায় ১৮তম ওভারে, ১১৮ রানে। অফ স্পিনার আজহা বিন মুহিব জগিরদারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুহি (৫৯)। তার ৫২ বলের ইনিংসে ছিল সাত চার।
তার বিদায়ের পর আট ওভারের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারায় অনুর্ধ্ব-১৯ দল। অদ্রিত ঘোষ (৪) দ্রুত ফেরার পর বিদায় নেন আরেক ওপেনার কাওসার (৬৬)।
১৪০ রানে তিন উইকেট হারানো দলকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন রাকিবুল। চতুর্থ উইকেটে রাকিব খানের সঙ্গে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। এতে প্রায় তিনশ ছোঁয়া ইনিংস গড়ার পথে এগিয়ে যায় দলটি। এই জুটি ভাঙে ৪১ বলে ৩৭ রান করা রাকিব আউট হলে। পরে রাকিবুল থামেন ৬৫ রানে।
৪৬তম ওভারের প্রথম বলে ২৫১ রানে পাঁচ উইকেট হারানো দলটিকে টানতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। তাতে অনুর্ধ্ব-১৯ দলের আর তিনশ ছোঁয়া হয়নি।
অনুর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে ৬৭ রানে তিন উইকেট নেন মোহাম্মদ মাজেদুল।
রান তাড়ায় ভালো শুরু পায়নি অনুর্ধ্ব-১৭ দল। দুই ওপেনার নূর এ আল ইসলাম জাভি ও আসাদুল্লাহ আল গালিব উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। একাদশ ওভারে জাভির (১৩) বিদায়ে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তখন দলটির ছিল ৪৪ রান।
তিনে নেমে দুই অঙ্ক ছুঁয়েই ফেরেন হাসান (১০)। ৩০ রান করেন থামেন গালিব। চারে নেমে ব্যর্থ ইমরান ভূঁইয়া।
৬৭ রানে চার উইকেট হারানো দলকে কিছুটা টানেন লওরেন্স রায় ও সুজন। পঞ্চম উইকেটে তারা দুজনে যোগ করেন ৮৩ রান। ৮৪ বলে চার চার ও এক ছয়ে ৫০ রান করা লওরেন্স ফিরলে ভাঙে জুটি। ১৮ রানের মধ্যে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় দলটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অনুর্ধ্ব-১৭ দল: ৫০ ওভারে ২৮৬/৭ (মুহি ৫৯, কাওসার ৬৬, অদ্রিত ৪, রাকিবুল ৬৫, রাকিব ৩৭, ফারহান ১৩, শাকিল ৪, রবিউল ১১*, মেহেরাব ১৫*; মাজেদুল ১০-০-৬৭-৩, সিফাত ৬-০-৪৮-০, লিখন ১০-০-৪৫-১, আজহা ১০-০-৫৪-১, ইফতেখার ৮-০-৩৫-১, ইমরান ৬-০-৩৪-১)
অনুর্ধ্ব- ১৯ দল: ৫০ ওভারে ১৭১ (জাভি ১৩, গালিব ৩০, হাসান ১০, লওরেন্স ৫০, ইমরান ১, সুজন ৪৪, সৌরভ ০, আজহা ৯, মাজেদুল ৯, লিখন ০*, সিফাত ০; রুবায় ৬-১-১৯-১, আল আমিন ৫-০-৩৮-০, মেহেরাব ৫.১-০-২২-১, শাকিল ৭-১-১৮-২, রবিউল ৫.৫-১-৮-২, রাকিবুল ১০-০-৩৫-৩, ফারহান ৬-০-১৬-০, রাকিব ৫-১-১৪-০)
ফল: অনুর্ধ্ব-১৯ দল ১১৫ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: রাকিবুল হাসান।