১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুরিয়াভানশির রেকর্ডময় ম্যাচ জিতে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল রাজস্থান

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বিদায় করে আইপিএলে টিকে রইল রাজস্থান রয়্যালস।

সুরিয়াভানশির রেকর্ডময় ম্যাচ জিতে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল রাজস্থান
টর্নেডো ইনিংস খেলে ম্যাচের নায়ক বৈভাব সুরিয়াভানশি। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 May 2026, 12:46 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

নকআউট ম্যাচ, প্রচণ্ড চাপ। তবে বৈভাব সুরিয়াভানশি আবারও দেখালেন, এসব কোনো কিছুই তাকে স্পর্শ করে না, বড় ম্যাচকেও তিনি ভয় পান না। সহজাত বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অসাধারণ এক ইনিংস উপহার দিলেন ভারতের বিস্ময়বালক। সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে অনায়াসে হারিয়ে আইপিএলের ফাইনালে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল রাজস্থান রয়্যালস।

এলিমিনেটর ম্যাচে রিয়ান পারাগের দলের জয় ৪৭ রানে।

নিউ চান্ডিগাড়ে বুধবার ২০ ওভারে রাজস্থান করে ২৪৩ রান। সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত। ১৫ ওভার শেষে তাদের রান ছিল ৩ উইকেটে ২০৭। শেষ পাঁচ ওভারে তারা করতে পারে কেবল ৩৬ রান।

প্রাথমিক পর্বে রাজস্থানের ২২৮ রান টপকে জিতেছিল হায়দরাবাদ। এবার লড়াই জমাতেই পারেনি তারা, চার বল বাকি থাকতে অলআউট হয় ১৯৬ রানে।

রেকর্ডময় ইনিংসে ম্যাচ সেরা ১৫ বছর বয়সী সুরিয়াভানশি। ১২ ছক্কা ও পাঁচ চারে ২৯ বলে ৯৭ রানের ইনিংস খেলে সব আলো কেড়ে নেন বাঁহাতি ওপেনার।    

আইপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কা, প্লে-অফে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক না হওয়া ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক আসরে সর্বোচ্চ রানসহ আরও বেশ কিছু রেকর্ড এ দিন নতুন করে লেখেন তিনি।

২৪২.৮৫ স্ট্রাইক রেটে ১৫ ইনিংসে ৬৮০ রান করে আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের স্বীকৃতি অরেঞ্জ ক্যাপও এখন সুরিয়াভানশির মাথায়।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে সুরিয়াভানশির ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় রাজস্থান। ২০১২ আসরে গেইলের ৫৯ ছক্কার রেকর্ড ভাঙতে এ দিন তার প্রয়োজন ছিল সাতটি। এজন্য বল লাগে তার কেবল ১৫টি।

চার ওভারের মধ্যেই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন তিনি ১৬ বলে, আইপিএলের প্লে-অফে যা যৌথভাবে দ্রুততম।

আইপিএলে গেইলের দ্রুততম ৩০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার হাতছানিও ছিল তার সামনে। কিন্তু টানা পাঁচ বলে দুই চার ও তিন ছক্কায় ২৮ বলে ৯৭ রানে পৌঁছে, পরের বলে আউট হয়ে যান তিনি। 

১২৫ রানের উদ্বোধনী জুটিতে সুরিয়াভানশির একার অবদানই ৯৭। আইপিএলের প্লে-অফে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি এটি। ২০১১ সালের ফাইনালে মুরালি ভিজায় ও মাইক হাসির ১৫৯ রানের জুটি সর্বোচ্চ।

আরেক ওপেনার ইয়াশাসভি জয়সওয়াল ফেরেন ২৯ বলে ২৯ রান করে। তিন নম্বরে ঝড় তোলেন ধ্রুব জুরেল। পাঁচ চার ও তিন ছক্কায় ২১ বলে ৫০ রান করেন তিনি। ১২ বলে ২৬ রান করেন অধিনায়ক পারাগ। ষোড়শ ওভারে তিনি আউট হওয়ার পর শেষ দিকে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি কেউ। 

হায়দরাবাদের হয়ে রান দেওয়ার ফিফটি করেন তিন জন। চার ওভারে ৬৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। 

বড় লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফেরেন আভিশেক শার্মা। ঝড় তোলার ইঙ্গিত দিয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি ইশান কিষান (৮ বলে ১৭) ও ট্রাভিস হেড (১১ বলে ৩৩)। নতুন বলে নিজের প্রথম তিন ওভারে এই তিন জনকে বিদায় করেন জফ্রা আর্চার।

হাইনরিখ ক্লসেনও ভালো করতে পারেননি। নিয়মিত উইকেট হারায় হায়দরাবাদ। সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি তারা কখনোই। ২০ বলে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করতে পারেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। 

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজস্থান রয়্যালস।