১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডাফি-রাইয়ের ছোবলে তিন দিনেই শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

চোট-জর্জর বোলিং আক্রমণ নিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Dec 2025, 09:50 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

প্রথম দুই দিনে ম্যাচে লড়াই হয়েছিল জমজমাট। তৃতীয় দিনে লড়াই শুধু একতরফাই হলো না, ম্যাচের ফয়সালাও হয়ে গেল! দুর্দান্ত বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ে দিলেন জেকব ডাফি ও মাইকেল রাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অননুমেয় চরিত্রও বেরিয়ে এলো আরেকবার। আগের টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে প্রায় দুই দিন টানা ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানো দলের ব্যাটিং এবার ভেঙে পড়ল হুড়মুড়িয়ে। একজন বোলার কম নিয়েও দারুণ জয় পেল নিউ জিল্যান্ড। 

ওয়েলিংটন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড।

২ উইকেটে ৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়ে যায় মাত্র ১২৮ রানেই। প্রথম ইনিংসে ৭৩ রানে এগিয়ে থাকা নিউ জিল্যান্ড ৫৬ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কেবল ১০ ওভারেই।

৩৮ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংয়ে ধস নামান জেকব ডাফি। ম্যাচের সেরাও তিনিই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের একশর বেশি ম্যাচ খেলে তিনশর বেশি উইকেট নিয়ে বয়স ৩১ পেরিয়ে তার টেস্ট অভিষেক গত অগাস্টে। অনেক অপেক্ষার পর পাওয়া বলেই যেন তিনি পুষিয়ে দিতে চাইছেন সময়টুকু। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টের পর তৃতীয় টেস্টেও পেলেন ৫ উইকেটের স্বাদ।

৭০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে এই টেস্টে অভিষিক্ত মাইকেল রাই প্রথম টেস্টের তিন উইকেটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে যোগ করেন আরও তিনটি।

ডাফি-রাই খেলার সুযোগ পেয়েছেন মূলত চোটের কারণে নিউ জিল্যান্ডের প্রথম পছন্দের চার পেসার না থাকায়। এমনকি এই টেস্টেও প্রথম ইনিংসে দলের সফলতম বোলার ব্লেয়ার টিকনার দ্বিতীয় ইনিংসে বল করতে পারেননি চোটে পড়ায়। কিউইদের এই জয়ের কৃতিত্ব তাই একটু বেশিই।

আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজ শুরু করেছিলেন সতর্কভাবেই। দলের রান পঞ্চাশে নিয়ে যান দুজন। কিন্তু হঠাৎ ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গল নিতে গিয়ে কিং রান আউট হয়ে যান ২২ রানে। ওই ওভারেই আলগা শটে রাইকে ফিরতি ক্যাচ দেন ক্যারিবিয়ানদের সবচেয়ে বড় ভরসা শেই হোপ।

একটু পর বিদায় নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রস্টন চেইসও। বিপর্যয়ে বারবার হাল ধরার জন্য একসময় তার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘ক্রাইসিস ম্যান।’ অধিনায়ক হওয়ার পর তিনিই এখন বড় ক্রাইসিসে। নেতৃত্বের ১৪ ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ১৫.২৮, ফিফটি নেই একটিও।

তখনও পর্যন্ত এক প্রান্ত আগলে রাখা কাভেম হজ পারেননি ইনিংস লম্বা করতে। ৩৫ রানে তিনি ফেরেন জ্যাকারি ফোকসের বলে বদলি ফিল্ডার উইল ইয়াংয়ের দারুণ ক্যাচে।

আগের টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির নায়ক জাস্টিন গ্রেভস একটু প্রতিরোধের চেষ্টা করেন বটে। তবে সেটিও দীর্ঘ হয়নি খুব একটা। তাকে ২৫ রানে এলবিডব্লিউ করেন ডাফি। ক্যারিবিয়ানদের লেজ গুটিয়ে যায় দ্রুতই।

ছোট্ট রান তাড়ায় কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম বিদায় নিলেও ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন অনায়াসেই জিতিয়ে দেন দলকে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম জয়ের দেখা পেল নিউ জিল্যান্ড। সাত ম্যাচ খেলেও জিততে পারেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, হেরেছে ছয়টিতেই।

সিরিজ নির্ধারণী টেস্ট মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে শুরু আগামী বৃহস্পতিবার। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২০৫ 

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৭৮ 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ১০ ওভারে (আগের দিন ৩২/২) (কিং ২২, হজ ৩৫, হোপ ৫, চেইস ২, গ্রেভস ২৫, ইমলাখ ৫, রোচ ৫*, সিলস ০, শিল্ডস ৯; ডাফি ১৭.২-৪-৩৮-৫, ফোকস ১২-২-৩৯-১, রাই ১২-৩-৪৫-৩, মিচেল ৫-১-৪-০)।

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১০ ওভারে ৫৭/১ (লক্ষ্য ৫৬) (ল্যাথাম ৯, কনওয়ে ২৮*, উইলিয়ামসন ১৬*, রোচ ৩-০-৮-০, সিলস ৩-০-১৪-০, শিল্ডস ২-০-১৮-০, ফিলিপ ২-০-১৭-১)।

ফল: নিউ জিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে নিউ জিল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে।

ম্যান অব দা ম্যাচ:  জেকব ডাফি।